শনিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
মানবতাবিরোধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতা নেই – শ.ম  রেজাউল করিম মানবতাবিরোধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতা নেই – শ.ম  রেজাউল করিম
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে  সিনিয়র আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিমের বিশেষ সাক্ষাৎকার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম,... মানবতাবিরোধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতা নেই – শ.ম  রেজাউল করিম

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে  সিনিয়র আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিমের বিশেষ সাক্ষাৎকার

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম, বিচারের রায় ও রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে থাকা ভয়াবহ কলঙ্ক মোচনের মাধ্যমে বিশ্বে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই বিচারকার্য সম্পাদনে দেশি-বিদেশি বিরোধিতা, ষড়যন্ত্র এবং বিদেশে লবিস্ট নিয়োগসহ বড় বড় রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা, হরতাল, অবরোধ, নাশকতা, বিচারক ও বিচার সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা, হত্যার চেষ্টা, হুমকি ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ উপেক্ষা করে বর্তমান সরকারের দুঃসাহসিকতার মধ্যদিয়ে বিচার সম্পন্ন করায় বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হস্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এই বিচারের রায় এবং কার্যকর নিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে পুরো জাতি। মানবতাবিরোধী বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ থেকে শুরু করে বিচার কাজ সম্পাদন পর্যন্ত সবটুকুই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরল নেতৃত্বের সফলতা। সব কাজের ক্ষেত্রেই সফলতা-ব্যর্থতা থাকে। কিন্তু মানবতাবিরোধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতা নেই। এখানে ব্যর্থতার প্রসঙ্গ আসার কোনো অবকাশও নেই। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক , বাংলাদেশ বার কাউন্সীল এর ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম মানবতাবিরোধের বিচার প্রসঙ্গে দৈনিক আজকের দর্পন এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. আয়াতুল্লাহ আকতার এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া তিনি ১৯৫ জন পাকিস্তানি শীর্ষ মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রক্রিয়া এবং ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের আগাম মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন দৈনিক আজকের দর্পন এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. আয়াতুল্লাহ আকতার।

 
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু এবং সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন আপনি কিভাবে দেখছেন?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ একটি নতুন ধারণা এবং অধ্যায়। রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। আদালত স্থাপন, কার্যবিধি প্রণয়ন, প্রসিকিউশন টিম গঠন, বিচারক নিয়োগ, তদন্ত টিম তৈরি, আইনজীবী নিয়োগ- ইত্যাদি জাতীয় বিষয়গুলো বাইরের কোনো দেশের সাহায্য ছাড়াই করতে হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের বড় বড় রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা, হরতাল, অবরোধ, নাশকতা, বিচারক ও বিচার সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা, হত্যার চেষ্টা, হুমকি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে নানা রকম বাধা ও চাপ সৃষ্টি অতিক্রম করে দুঃসাহসিকতার মধ্যদিয়ে বিচার সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পৃথিবীতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা, জাতীয় জীবনে থাকা ভয়াবহ কলঙ্ক মোচনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে বাংলাদেশ। ব্যর্থতার প্রসঙ্গ আসার অবকাশ নেই।
প্রশ্ন : গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার আগে রাজনৈতিক নেতাদের আগাম মন্তব্যে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো প্রভাব বিস্তার করে কিনা?
উত্তর : গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে রাজনৈতিক নেতাদের আগাম মন্তব্য কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত নয়। তাদের মন্তব্য বিচার কর্মকাে  প্রভাব বিস্তার না করলেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার্থে রাজনীতিকদের দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণ প্রত্যাশিত।
প্রশ্ন : বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃঢ় আস্থা স্থাপনে আপনার পরামর্শ কী? উত্তর : আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। এই নীতিমালার আলোকে আইনের কঠোর প্রয়োগে বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। রাষ্ট্রকেও এগিয়ে আসতে হবে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে।
প্রশ্ন : বিভিন্ন দে  দি ত শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামিদের প্রতি জনগণের প্রচ  ক্ষোভ ও ঘৃণার অন্যতম কারণ কী কী? উত্তর : অপরাধীদের সংখ্যা যাই হোক না কেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ধরন এবং বর্বরতা, নৃশংসতা এত ভয়াবহ ছিল যে কোনো সভ্য মানুষ তা কল্পনাও করতে পারে না। বাঙালি হয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জঘন্যতম অপরাধ সংঘটনকারীদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের তীব্র ঘৃণা থাকা স্বাভাবিক। অধিকন্তু তারা কখনই অনুতপ্ত হয়নি বরং একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবদমিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষের ঘৃণা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে।
প্রশ্ন : বর্তমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন-১৯৭৩ বলবৎ রয়েছে। তারপরও ১৯৫ জন শীর্ষ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের কোনো আইনগত পদক্ষেপ আছে কি? এ ব্যপারে আপনার বিশ্লেষন কি? উত্তর : বিদ্যমান আইনে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে কোনো বাধা নেই। কূটনৈতিক পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান প্রতিপালন করেনি। তাদেরই অঙ্গীকার ছিল- নিজ দেশে ওই অপরাধীদের বিচার করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে নতুন জন্ম নেয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি, চাপের মুখোমুখি হওয়া, দেশ পুনর্গঠন ছাড়াও পাকিস্তানে আটক প্রায় আড়াই লাখ বাঙালিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা জাতীয় ‘বিনিময়’-এর বিষয়টি তখন রাষ্ট্রকেই ভাবতে হয়েছে। বিষয়টি ছিল দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং সময়োপযোগী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend