মঙ্গলবার , ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী
দর্পন ডেস্ক : উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী   মহাশ্বেতা দেবী আর নেই। ৯০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট এ লেখিকা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময়... চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী

দর্পন ডেস্ক : উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী   মহাশ্বেতা দেবী আর নেই। ৯০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট এ লেখিকা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে ৪টায় জীবনাবসান হলো তার।  দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন শক্তিমান এ লেখিকা। তিনি ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে  কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।  বিশিষ্ট এই লেখিকার মৃত্যুতে টুইটারে শোকজ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। টুইটারে মমতা বলেন, মহাশ্বেতা দেবীর মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এক মহান সাহিত্যিককে হারাল দেশ। বাংলা হারাল মাকে। আমি আমার অভিভাবককে হারালাম। তার আত্মার শান্তি কামনা করি'। প্রথম জীবনে সাংবাদিকতার পাশাপাশি তৎকালীন সময়ে রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির সমালোচনা করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখনী ধরেছিলেন তিনি। তার লেখা 'হাজার চুরাশির মা', 'তিতুমীর', 'অরণ্যের অধিকার' অবিস্মরণীয় রচনা। মহাশ্বেতা দেবীর লেখা উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে 'রুদালি'-র মত কালজয়ী সিনেমা।  রাজ্য-রাজনীতিতে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তাকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় দেখা যায়। মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাঁওতালসহ বিভিন্ন উপজাতিদের ওপর কাজ করে বিখ্যাত হয়েছেন। তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন । তার বাবা মণীশ ঘটক ছিলেন প্রখ্যাত কবি এবং লেখক। কল্লোল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মা ধরিত্রী দেবী একাধারে লেখিকা এবং সমাজসেবী ছিলেন। বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ভাতিজি মহাশ্বেতা দেবীর স্কুল জীবন শুরু হয় ঢাকায়। দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে যান পশ্চিমবঙ্গে। শান্তিনিকেতন থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্স করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন । বিখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৪৮ সালে জন্ম হয় একমাত্র সন্তান নবারুণ ভট্টাচার্যের।  ১৯৭৯ সালে তাকে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দেয়া হয়। ১৯৮৬ সালে তাকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে তাকে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। এরপর একে একে তিনি পেয়েছেন বহু স্বীকৃতি, পুরস্কার। তার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৯৬), ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৯৭), বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার (২০১১)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে ২০০৭ খ্রীষ্টাব্দে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।

Comments

comments

NEWSPOST24

No comments so far.

Be first to leave comment below.

Your email address will not be published. Required fields are marked *