শুক্রবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
দশ টাকা কেজি চালের স্বপ্ন ও আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দশ টাকা কেজি চালের স্বপ্ন ও আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা
সুমন দেবনাথ : আসলেই আমরা ইতিহাসে পড়তে পড়তে বাস্তব ভুলে যাই! মনে আছে কোন খাঁ এর আমলে ক'টাকায় ক'মণ ঘি পাওয়া যেতো? হ্যাঁ, জানি... দশ টাকা কেজি চালের স্বপ্ন ও আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা

সুমন দেবনাথ :

আসলেই আমরা ইতিহাসে পড়তে পড়তে বাস্তব ভুলে যাই! মনে আছে কোন খাঁ এর আমলে ক'টাকায় ক'মণ ঘি পাওয়া যেতো? হ্যাঁ, জানি উত্তরটা সবারই মুখস্ত আছে তাই এই ঐতিহাসিক নামটা আর মনে করিয়ে দিচ্ছি না!

তবে হ্যাঁ এই ঐতিহাসিক নামটির সাথে আরেকটি নাম লিখে রাখুন সেটা হলো শেখের বেটি হাসিনা, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যার কারনে সেই "১০ টাকা কেজি চাল" আজ আর স্বপ্ন নয় বাস্তব! মনে পরে সেই নির্বাচনী ইশতেহার যেখানে ছিলো দারিদ্রতা দূরীকরণ ও ৭১ এর রাজাকারদের বিচার সহ আরো অনেক প্রগতিশীল উন্নায়নমুলক প্রকল্প যার বাস্তবায়ন আমরা একে একে চোখের সামনেই দেখছি। আসলেই আমরা প্রচন্ড রখমের আত্মবিশ্বাসী এক জাতি যার প্রমান এবং স্বাক্ষর আমরা সেই ৭১ থেকেই রেখে আসছি।

মনে পড়ে? শেখ হাসিনার সেই বক্তব্যের কথা  ''নৌকা মার্কায় ভোট দেব, ১০ টাকায় চাল খাবো"

image2সেই বক্তব্যটি নিয়ে বিরোধী দলের কর্তাব্যাক্তিরা যে কি পরিমানের কুৎসিত ঠাট্টা, তামাশা ও মসকারা করতো তা ভদ্রসমাজে বলার বাহিরে। শুধুমাত্র আমরাই জানতাম শেখ হাসিনা যা বলে তাই করে তাই গভীর আস্থা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম আজকের এই দিনটির জন্য সকল সমালোচকদের মুখে চুনকালি দিয়ে আমাদের নেত্রী আজ বাস্তবেই ৫০ লক্ষ মানুষকে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন যা অভুতপূর্ব। আবারও মনে করিয়ে দেই ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই বাংলাদেশ আওয়মীলীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যার বাস্তবায়নেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিটি ইউনিট সারা বাংলাদেশে একযোগে কাজ করছে।

আজকের এই খুশির দিনে সকল সমালোচক সহ সাবেক বিরোধীদলকে তাদের মতো কুৎসিত ভাষায় জবাব দেওয়ার কোন ইচ্ছা নাই শুধু তাদেরকে বলবো, দেখেন আপনারা এই ২০১৬ সালে এসেও শেখ হাসিনা দশ টাকায় চাল খাওয়াচ্ছেন, এটা কারো পক্ষে সম্ভব না, একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। সুতরাং তা থেকে আবারো প্রমানিত হয় আমাদের নেত্রী যা বলেন তাই করে দেখানোর সক্ষমতা আছে। আপনাদের মতো করে দুইটা পদ্মাসেতুর ভুয়া স্বপ্ন দেখান না!

মাননীয় সাবেক বিরোধীদলের নেত্রী আপনাকেই বলছি মনে পরে আপনি যখন ইতিহাসে শেষবারের মতো আপোষহীন রানী ছিলেন তখন কিন্তু চালের দাম ছিলো ৪৫ টাকা কেজি। জনগনকে সেই ৪৫ টাকা কেজি দরেই চাল খাইয়েছেন! কেন জানেন? কারন আপনাদের ছত্র-ছায়াই গড়ে উঠেছিলো "হাওয়া ভবন" নামক এক আশ্চর্য ভবনের যেখান থেকে সিন্ডিকেট করে সব জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো কয়েক গুন কারন তখন ব্যাবসায়িরা দেশের যে প্রান্তেই ব্যাবসা করুক না কেন এই হাওয়া ভবনে দেওয়া লাগতো বিভিন্ন রেটে নাজরানা যার শুরু ছিলো ১০% থেকে! এখনো সেই ১০% শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই রাজনৈতিক কু-পুত্রের যারা বাবা এই বিএনপি নামক রাজনৈতিক ব্যাবসা প্রতিষ্টান খুলেছিলেন সামান্য একটা ভাঙ্গা সুটকেস থেকে এই কাহিনী আমাদের কারো অজানা নয়!

আজকের এই ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়া নিয়ে কিছু কথা: ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের হতদরিদ্র ৫০ লাখ জনগোষ্ঠীকে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ কর্মসুচি শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১০ টাকা দরে চাল পেয়ে উচ্ছসিত প্রান্তিক পর্যায়ের হতদরিদ্র একজন  খুশি হয়ে করা মন্তব্যটি দেখুন ‘বেটি হামার ক্ষিধার জ্বালা বুইজবার পাইছে’, ফির নৌকাত ভোট দিমো'। আরেকজনেরটা দেখুন, সুবিধাভোগী হালিমা বেগম বলেছেন - ‘বেটি (শেখ হাসিনা) হামার খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। তাই আগত নৌকাত ভোট দিছি, ফির দিমো। বেটি হামারগুলার (আমাদের) ক্ষিধার জ্বালা বুইজবার পাইছে।’

বলেন দেখি এমন ভালোবাসার বহি:প্রকাশ শেখ হাসিনা ছাড়া আর কে পেতে পারেন? এর ধারে কাছে আছে কেউ?

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ আর এ লক্ষ্যেই চালু হলো - হতদরিদ্রদের জন্য ‘খাদ্যবান্ধব’ কর্মসূচী। পল্লী রেশনিং কার্ডধারীদের বছরে ৫ মাস দেওয়া হবে এ খাদ্য সহায়তা।

image1সোর্স: ফেইসবুক। এই সরকার খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্নতা অর্জনের লক্ষেই কাজ করছে যার সুফল আমরা সবাই ভোগ করছি। একটু মনে করিয়ে দেই চট্টগ্রাম বন্দরে কিন্তু আগের মতো চালের জাহাজ ভিড়ে না! আমরা এখন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চাল রপ্তানি করি যা থেকে আমরা বিপুল পরিমানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও করছি। আসুন এবার একটু সারা বিশ্বের চাল উৎপাদনের শীর্ষ দশটি দেশের বর্তমান চিত্র দেখে নেই। চাল উৎপাদনে প্রথমেই আছে চীন যারা প্রতি বছর উৎপাদন করছে প্রায় ১৪৪,৫৬০ মিলিয়ন মেট্রিক টন! এতো বিপুল পরিমানে উৎপাদনের একটাই কারন তাদের আছে বিপুল পরিমানের চাষ যোগ্য জমি ও কৃষিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি। সেখানে ১০৪,৮০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইন্ডিয়া! তাদের এই বিপুল উৎপাদনের চীনের মতো এই একই!  যে  দেশে  ১৯৭৪ সালের  দুভিক্ষে  মারা গিয়ে ছিলো লাখ লাখ মানুষ! ঠিক ৪১ বছর পরে আমরা হয়েছি সারা বিশ্বে চাল উৎপাদনে চতুর্থ এবং আমাদের বাৎসরিক উৎপাদনের ৩৪,৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন যা ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে মাত্র ১৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কম। (পাশের টেবিল দেখুন)

টেবিল সোর্স: http://www.mapsofworld.com/world-top-ten/rice-producing-countries.html

কিছু ভাবতে পারেন যে উপরের তালিকার ১০টি দেশ থেকেই চাল আমদানী করতো আর এখন মোটামুটি এই আটটি দেশেই চাল রপ্তানি করে? এখন আপনারা একটা লিষ্ট করুন তো বিশ্বের কোন কোন দেশে আরো ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়া যায়?

আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই সরকারের আধুনিক কৃষি বান্ধব পরিকল্পনা ও ব্যাবস্থাপনায় আমাদের সীমিত চাষযোগ্য জমিতে যুগোপযোগী কৃষি প্রযুক্তির সুষ্ট ব্যাবহার করে অচিরেই ইন্দোনেশিয়াকে পিছনে ফেলে তৃতীয় হওয়া সম্ভব। যা হবে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে পরা এক দেশের জন্য এক অভুতপূর্ব সাফল্য ও সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের জন্য হবে এক রোল মডেল। সারা বিশ্বেক আমরা দেখিয়ে দিবো যে কিভাবে সীমিত সম্পদের সুষ্ট ব্যবহার করে চাল উৎপাদনে তৃতীয় হয়েছি!

লেখক : সুমন দেবনাথ, লন্ডন

Comments

comments

Send this to a friend