শনিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

জামাতার বিরুদ্ধে মামলা এমপি আউয়ালের

জামাতার বিরুদ্ধে মামলা এমপি আউয়ালের জামাতার বিরুদ্ধে মামলা এমপি আউয়ালের
দৈনিক  যুগান্তর থেকে : আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ;  প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০ একমাত্র মেয়েকে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে মেয়ের... জামাতার বিরুদ্ধে মামলা এমপি আউয়ালের

দৈনিক  যুগান্তর থেকে :

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ;  প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০

একমাত্র মেয়েকে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে মেয়ের স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পিরোজপুর সদর আসনের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা একেএমএ আউয়াল। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন এমপি আউয়ালের মেয়ে বুশরা জাহান অন্তরা। তার মা লায়লা ইরাদ এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বুশরার স্বামী শেখ মো. গালিফ ফারুক এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আইনি লড়াই চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ ৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন এমপি আউয়াল।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ৮ জুলাই মেয়ে বুশরার সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার ওপর নানাভাবে চাপ দিতে থাকে শেখ গালিফ ও তার পরিবার। চাপের মুখে ও মেয়ের সুখের কথা ভেবে ২০১৩ সালে জামাইকে ১০ লাখ টাকা দেন তিনি। এরপর গালিফ ঢাকায় আলাদা বাসা নিলে সেই বাসার আসবাবপত্রও কিনে দেন তিনি।

এরপরও নানাভাবে যৌতুকের দাবি জানাতে থাকে ছেলের পরিবার। একপর্যায়ে ২৮ আগস্ট গাড়ি কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে ৩০ লাখ টাকা এনে দিতে বুশরার ওপর চাপ দেয় গালিফ। অস্বীকৃতি জানালে বুশরাকে মারধর করে আমার বাসায় পাঠিয়ে দেয় ছেলে ও তার মা। এদিকে মেয়েকে ন্যাম ফ্ল্যাটে রেখে স্ত্রীসহ আমি হজে যাই। পরে বুশরা তার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামানের ধানমণ্ডির বাসায় ওঠে।

১০ সেপ্টেম্বর সেখানে গিয়ে আবারও বুশরাকে চাপ দেয় ৩০ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য। একপর্যায়ে মারধর করা হলে বুশরা গুরুতর আহত হয় এবং তাকে ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখে অস্ত্রোপচার করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বুশরা। হজ শেষে দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ৬ অক্টোবর মেয়ের জামাই ও তার মায়ের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন আউয়াল।

মামলায় বুশরাকে করা হয়েছে ২নং সাক্ষী। ওই দিনই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে এমপি আউয়ালের মেয়ে বুশরা জাহান অন্তরা যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। তাছাড়া আমি দেশের বাইরে মালয়েশিয়ায় ছিলাম। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা না বলে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব না। এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা ইরাদ এ প্রতিবেদককে ফোন করে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনিও বলেন, মামলার বিষয়ে কিছুই জানে না বুশরা।

এছাড়া রাজধানীর ধানমণ্ডির সেই বাসার মালিক বুশরার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বাসায় এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি আমাকে যে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে তাও জানি না আমি।

মামলার আসামি বুশরার স্বামী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার শেখ মো. গালিফ ফারুক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার সবই মিথ্যা। বিয়ের পর থেকেই এমপি আউয়াল চাইতেন আমি যেন ঘরজামাই থাকি। মূলত এ নিয়েই দুই পরিবারের বিরোধ। আমি যখন আলাদা বাসা নেই তখনও তিনি নানাভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।আমি পারিবারিকভাবে বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা করলে তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এক্ষেত্রে নিজের সংসদ সদস্য পদের অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন তিনি। আমিও বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালাব।

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend