শনিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা

প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা
সুমন দেবনাথ: মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,  অন্য কিছু নয় আজ প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক'টা কথা বলবো। চারিদিকে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে এতো হট্টগোল, এর থেকে কি আমাদের কোন... প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা
সুমন দেবনাথ:
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,  অন্য কিছু নয় আজ প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক'টা কথা বলবো। চারিদিকে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে এতো হট্টগোল, এর থেকে কি আমাদের কোন মুক্তি নাই? দেশে পাবলিক পরীক্ষা বলেন আর চাকরির পরীক্ষা বলেন এহেন কোন পরীক্ষা নাই যার প্রশ্নফাঁস হয়না। এভাবে এই অপকর্মের মাধ্যমে আমরা জাতিকে ঠেলে দিচ্ছি কালের এক অতল গহ্বরে। প্রকৃত মেধাবীদের জীবন করে তুলছি দুর্বিষহ। সেখান থেকে আমাদের আসলেই কি কোন মুক্তি নাই? দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে, শুধু দেশেই নয় বিদেশেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ নিন্দিত। যার প্রমান সারাবিশ্বের নামীদামী সব বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও নাম গন্ধ নেই, যদিও সেখান থেকে প্রচুর মেধাবীরা বের হচ্ছেন। দেশ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে আসলেও তাদের কষ্টার্জিত সার্টিফিকেটের অবমূল্যায়ন করা হয়! এ তো গেলো ভুমিকার কথা, এবার মূল আলোচনায় আসি। কিভাবে আমরা এই প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারি। মুখে মুখে আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা বলে ফেনা তুলি কিন্ত এই ডিজিটালাইজেশনকে একটু সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই এই প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পারি। ভাবছেন কিভাবে? নিচের ধাপগুলো অনুসরন করলেই হবে। ১) বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য একটা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অধিনে শক্তিশালী 'পরীক্ষা কন্ট্রোল কমিটি' থাকবে সৎ শিক্ষাবিধদের নিয়ে যাদের কাজ হবে পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন প্রনয়ন প্যানেল করা, তাদের কন্ট্রোলিং ও মনিটরিং করা। প্রশ্ন কমিটির নির্ধারণ করা প্রশ্ন ডিষ্ট্রিবিউশন করা। ২) 'পরীক্ষা কন্ট্রোল কমিটি' সারা দেশ থেকে পরীক্ষাভেদে ৩০ থেকে ৫০জন (এ সংখ্যা কম বা বেশী হতে পারে) বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে প্রশ্ন প্রনয়ন প্যানেল করা। যাদের পরীক্ষার ১৫ দিন থেকে ১ মাস আগে একটা সর্বোচ্চ গোপনীয় স্থানে নিয়ে আসা হবে যেখানে তারা থাকবেন উক্ত পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং বাইরে কোন ধরনের যোগাযোগ ছাড়া (জরুরি ও বিশেষ কারণ ব্যতিত)। উক্ত সময়টুকুতে তাদের এক এবং অদ্বিতীয় কাজ হবে নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য কয়েক সেট প্রশ্ন নির্বাচন করা। ঐ সময়টুকুতে উনাদের যত ধরনের লজিষ্টিক সাপোর্ট দেওয়া দরকার তার সবটুকু দেওয়া (আলাদা লোভনীয় সম্মানী) যাতে উনাদের কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয়। প্রশ্ন প্রনয়ন প্যানেলে নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কয়েক সেট প্রশ্ন তৈরী করে সীল গালা করে "পরীক্ষা কন্ট্রোল কমিটির" কাছে জমা দিবেন যা উনারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১ ঘন্টা আগে পর্যন্ত খুলে দেখতে পারবেন না! ফাইনালি সব সেটের লটারির মাধ্যমে যে সেটটি নির্বাচন করা হবে সেই সেটিই খোলা হবে এবং শুধু মাত্র সেই সেটেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও বিষয়টা অনেক কঠিন তবুও অসম্ভব নয় যদি সদইচ্ছা থাকে। এই প্রশ্ন প্রনয়ন কমিটিতে যারা থাকবেন তারা ভবিষ্যতে আর কোনদিন এ কাজে এখানে আসবেন না এবং তাদের দ্বারা কোন অপকর্ম হলে আইন দ্বারা কঠোর বিচারের সম্মুখীন করা হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই। ৩) 'পরীক্ষা কন্ট্রোল কমিটি' সারাদেশের যে সকল সেন্টারে পরীক্ষা নেওয়া হবে সেই সকল সেন্টারে একটা করে হাই কনফিগারেশনের কম্পিউটার ও প্রিন্টার ইন্টারনেট সংযোগ সহ দেওয়া হবে। সেন্টার ভেদে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রিন্টার বেশী হবে। প্রত্যেক সেন্টারে একজন করে কম্পিউটার টেকনেশিয়ান থাকবে যদি কোন কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দেয় তা দ্রুত সমাধান করার জন্য। ৪) 'পরীক্ষা কন্ট্রোল কমিটি' যে সকল সেন্টারে পরীক্ষা হবে সেই সকল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন Magistrate/TNO এর নামে মন্ত্রনালয় থেকে বিশেষ ইমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড বরাদ্ধকৃত থাকবে। সেই ইমেইলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে নির্বাচিত প্রশ্নসেট ইমেইল করে দিবেন এবং উনার ভেরিফাইড মোবাইল নাম্বারে ইমেইল পাঠানোর নোটিফিকেশন ক্ষুদ্রবার্তা (এসএমএস) পাঠাবেন। ৫) ইমেইলের নোটিফিকেশন পাওয়ার সাথে সাথেই দায়িত্বপ্রাপ্ত Magistrate/TNO আগের বরাদ্ধকৃত ইমেইলে লগইন করে প্রশ্ন কম্পিউটারে ডাউনলোড করে ভালো মানের সাদা কাগজে প্রিন্ট দেওয়া শুরু করবেন। সম্পূর্ন প্রিন্ট শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরন করবেন সেন্টারে কর্তব্যরত শিক্ষকগণ। এভাবেই পরীক্ষা শুরু হবে। ৬) কোন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উপযুক্ত প্রমান সাপেক্ষে উক্ত সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত Magistrate/TNO নিজ ক্ষমতা বলে ঐ সময়টুকু পরীক্ষার মুল সময়ের সাথে যোগ করে পরীক্ষার্থীদের দিতে পারবেন তবে কথা থাকে যে, পরীক্ষা শেষে উপযুক্ত প্রমানসহ শিক্ষামন্ত্রনালয়ে ইমেইল করে জানাতে হবে। দেশের যে কোন পাবলিক পরীক্ষায় উপরোক্ত মডেল ব্যবহার করা গেলে তার ভালো ফল পাওয়া যাবে এবং একই সাথে প্রশ্নফাঁসের কালো অধ্যায়ের কবর রচিত হবে। "আসুন আমরা কথায় নয়, কাজে ডিজিটাল হই"। সরকারের ডিজিটালাজেশনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে এর পূর্ণ সুফল ভোগ করি, দেশকে গড়ে তুলি আমার মতো করে। জাতিকে মুক্তি দেই এক ভয়ংকর কালো অধ্যায় থেকে। গড়ে তুলি সত্যিকারে সোনার বাংলা হিসাবে। সুমন দেবনাথ লন্ডন ১৫/১১/১৬ মতামত: Sumon_lus@yahoo.com

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend