সোমবার , ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
এমপি আউয়ালের সভামঞ্চে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা এমপি আউয়ালের সভামঞ্চে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা
দৈনিক সমকাল থেকে : বরিশাল ব্যুরো, পিরোজপুর ও নাজিরপুর প্রতিনিধি : প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০১:২৭:৪১ পিরোজপুরের নাজিরপুরে এমপি আউয়ালের সভামঞ্চে দেখা গেছে... এমপি আউয়ালের সভামঞ্চে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা

দৈনিক সমকাল থেকে :

বরিশাল ব্যুরো, পিরোজপুর ও নাজিরপুর প্রতিনিধি : প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০১:২৭:৪১
পিরোজপুরের নাজিরপুরে এমপি আউয়ালের সভামঞ্চে দেখা গেছে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের। গত শনিবার নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শহীদ মিনার চত্বরে ওই সভামঞ্চ তৈরি করা হয়। নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মালেক বেপারীর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান উপলক্ষে এমপি আউয়ালের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।   মঞ্চে এমপি আউয়ালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের খাতায় পলাতক ২০১১ সালের ৮ নভেম্বর পেনাখালী ট্র্যাজেডির খলনায়ক হত্যাসহ শতাধিক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের মামলার পলাতক আসামি টিপু সুলতান, উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা শামসুল হক ছোট্ট হত্যা মামলার পলাতক আসামি সালাউদ্দিন রিন্টু ও গত ২২ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাঁখারিকাঠি ইউনিয়নের ভাইজোড়া কেন্দ্রে ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ গোলাগুলির ঘটনায় হওয়া মামলার পলাতক আসামি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খালিদ হোসেন সজল।   এদিকে ওই সভায় এমপি আউয়াল বলেছেন, আমাকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে মারলেও আমার কিছুই হবে না। কিন্তু আমি সেই রাজনীতি করতে চাই না। যাদের রাস্তা থেকে শূন্য হাতে তুলে এনে কোটিপতি করে দিয়েছি, তারাই আজ আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বলছে আমার স্ত্রী ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কেউ আমার সঙ্গে নেই। আজকের এ সভা জনসমুদ্রে পরিণত হওয়াই প্রমাণ করে মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসে।   গত ১৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এমএ মালেক বেপারী মারা যান। এমপি আউয়ালকে বাদ দিয়ে নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে তার স্মরণে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শহীদ মিনার চত্বরে ২০ নভেম্বর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে একই মঞ্চে এমপি আউয়ালের উদ্যোগে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।   এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হোসেন জানান, তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। তবে তারা জামিনে আছে কি-না জানি না। তারা যে সভামঞ্চে ছিল তাও আমি জানতাম না। তবে নাজিরপুর থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মলি্লক জানান, আসামিরা জামিনে থাকার কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   আউয়াল সমর্থকদের ওপর হামলা, আহত ১০ :এদিকে শনিবার রাতে পিরোজপুর শহরের পাড়েরহাট সড়কে এমপি আউয়ালের বাসভবনের সামনে তার সমর্থকদের মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে। আহত হয়েছে ১০ জন। এমপি আউয়ালের সঙ্গে তার তিন ভাইয়ের বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল হামলার জন্য তার ভাই পিরোজপুরের পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেককে দায়ী করেছেন। আহতদের মধ্যে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি জামাল গাজীকে গুরুতর অবস্থায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসারত জামাল গাজী জানান, এম এ মালেক বেপারীর শোকসভা শেষে নাজিরপুর থেকে শহরে এমপি আউয়ালের বাসায় আসার পথে পাড়েরহাট সড়কে এমপির বাসার অদূরে রাত ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এমপি আউয়াল তার বাসভবনের সামনে পেঁৗছামাত্রই ৫০-৬০ যুবক মাথায় হেলমেট পরে রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এমপি আউয়ালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনা প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল সমকালকে বলেন, তার সমর্থকরা মোটরসাইকেলে তার বাসায় আসার সময় মেয়র মালেকের বাসার সামনে অবস্থান নেওয়া যুবকরা হামলা চালায়। এ অভিযোগের ব্যাপারে পৌর মেয়র সমকালকে বলেন, তার বাসার সামনে নিয়মিত কিছু সমর্থক থাকে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, আউয়াল সমর্থকরা মোটরসাইকেল তার সমর্থকদের গায়ে উঠিয়ে দিলে দু'পক্ষের সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের সঙ্গে তার তিন ভাইয়ের বিরোধ সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করেছে। ওই বিরোধের জের ধরে পিরোজপুরে ঘটছে একের পর এক সহিংস ঘটনা।

Comments

comments

Send this to a friend