শনিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

মৃত্যুতে হয়ত শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না !

মৃত্যুতে হয়ত শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না ! মৃত্যুতে হয়ত শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না !
জহিরুল হক বাপি : বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ায় প্রধান মন্ত্রীর জন্য দেশে বিদেশে দোয়া হলো। ফলাও করে তা প্রচার করা হলো। মিলাদ, দোয়া... মৃত্যুতে হয়ত শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না !

জহিরুল হক বাপি :

বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ায় প্রধান মন্ত্রীর জন্য দেশে বিদেশে দোয়া হলো। ফলাও করে তা প্রচার করা হলো। মিলাদ, দোয়া দিয়ে সব মুসকিল আসান হতো তবে মুসলিম দেশগুলোতে পুলিশ বা আর্মির বদলে দোয়া বাহিনী থাকতো।বিশ্বসীর কাছে দোয়া বাড়তি উপযোগ কিন্তু মূল নয়। আপনার মূলই নাই। ভাত নাই সালাদের সমারোহ। প্রধানমন্ত্রীর বিমান তিন তিন বার বিপদে পড়লো। ১) রানওয়েতে ধাতব ক্ষতিকর টুকরা ২) হঠাৎ বিমান ৪০,০০০ ফুট থেকে ৪,০০০ ফুটে নেমে আসা ৩) নাট বল্টু খোলা । ৩ নং এর আবার সহ নংও আছে ।

অদ্ভূদ কিছু ব্যাপার । প্রধান মন্ত্রীর পাইলট রেজাকারের নাতি। বিশেষ তদ্বিরে তার নিরাপত্তা ছাড় নেওয়া হয়েছে বলে দেখলাম! মিলাদ দোয়া দিয়া নাট বল্টু খোলা বা অপতদ্বির বন্ধ করা যাবে না। যেটা করার সেটা করেন। আল্লাহ এখন পর্যন্ত সহায় বলে প্রধানমন্ত্রী বেঁচে আছেন।

প্রধাণমন্ত্রী হয়তো মৃত্যুকে পরোয়া করেন না। মৃত্যুতে হয়ত তার কিছু আসে যায় না, দেশের জন্য মরতে রাজি। কিন্তু সমস্যা টা অণ্য জায়গায়। তিনি মরলে দেশ মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের সূর্যদ্বয়তো মাত্র শুরু। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় পাশ্চাত্য ক্ষমতাশালীরা বারবার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন দেশের জাতিসত্বার নেতাকে টিকতে না দিতে।

আর্থিক উন্নতি তারা অনেক সময় মেনে নিলেও তারা জাতীয়তা ধ্বংস করা, বিভ্রান্ত করা ইত্যাদিতে বিশেষ পারদর্শী। কোন জাতির ভিতর যদি গভীর জাতীয়তা থাকে তাকে অধিনস্ত করা খুব কঠিন । কোন ভঙ্গুর জাতি যদি তার জাতীয়তাবোধ নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বিশ্বমোড়লদেল আজ্ঞাবহ না হয়ে, তবে মোড়লেরা সেই জাতীয়তাবদের নেতাকে খুন করেছে। খেয়াল রাখা জরূরী যে জাতীয়তাবাদী নেতা মানে রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান বা দলীয় প্রধান নয়।

জাতীয়বাদী নেতা হত্যা বা হত্যা চেষ্টা অহরঅহর। চিলি আলেন্দ, বঙ্গবন্ধু এরা ছিলেন জাতীয়তাবাদের নেতা, জাতির নেতা, জাতের নেতা। এরা খুন হয়েছেন। কয়েক’শ বার হত্যা করা চেষ্টা করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত কাস্ত্রোকে। শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের শুধূ প্রধাণ মন্ত্রী নন । বলা যায় তিনি জাতীয়তাবাদের নেতা। মুক্তিযুদ্ধের পর এ প্রথম জাতি ঘুরে দাড়াচ্ছে।

৭৫ পরবর্তী সকল অপপ্রচার, অপরুচি, বিকৃত ইতিহাস, বিকৃত বিচারহীনতা দেখে বাঙালি বের হয়ে আসছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এর সাথে মোড়লদের বিশ্বব্যাপী লাঠিয়াল ভেক ধার্মিকদের বাংলাদেশে বিচার হচ্ছে ৭১ এর অপরাধের জন্য। তাদের রাজনিতী কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক জন চিহ্নিত রেজাকার অপরাধীর ফাঁসি হয়েছে। বিশ্ব মোড়লদের তিন খেলা ।

১) আর্থিক ভাবে সাহায্য দেওয়ার নামে অর্থব করে রাখা। ২) তাদের বিরুদ্ধাচারি যে কোন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক বাহিনীকি উসকে দেওয়া। ৩) ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ সৃষ্টি করা। শেষটি তাদের কৌশলগত প্রধান অস্ত্র বর্তমানে। তাদের প্রধাণ টার্গেট সঙ্গত কারণে শেখ হাসিনা। তার সাথে আছে জামাত-্ বিএনপি এবং বাংলাদেশের চির শত্রু পাকিস্তান।

ভূ-রাজণৈতিক, তেল-গ্যাস এবং অনেকটা ইগোর কারণেই মোড়লদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার উপর হত্যা চেষ্টা হয়েছে বারবার।  প্রতিবার নিত্য নতুন। গ্রেনেড, ব্রাশ ফায়ার, আরও কত কি? শেখ হাসিনার বিমানে বারবার কেন সমস্যা হয়েছে। আর মাত্র ১৫ মিনিট...... পত্রিকায় বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়লাম। বিমান অটো সিগন্যাল দেওয়ার সাথে সাথে একটা ইজ্ঞিন বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল। এক ইজ্ঞিন দিয়েও বিমান উড়তে পারে। কিন্তু ইজ্ঞিন বন্ধ করা হয় নি। কেন?!!!! নিকটবর্তী এয়ারপোর্টে বিমান ল্যান্ড করা হলো না কেন?! বারবার এই পাইলটের জন্য তদ্বীর কেন?!!

অনেক প্রশ্ন কিন্তু উত্তর জানা জরূরী। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালিয়ানা, শান্তি ফিরিয়ে আনার গতিকে ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প কি?!

আপনারা যারা দোয়া-মাহফিল, মিলাদের খবর চাউর করছেন, আপনারা নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকছেন। অক্ষম লোক ক্ষমতার জন্য দোয়া চায় বারবার আর কর্মী কাজ শেষে শোকর আলহামদুল্লিহ বলে। আপনার ক্ষমতায় আছেন, আপনার কার্যকর ব্যাকস্থা নেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও ভাবা জরূরী যে বাঙালিদেরকে আর শক্তপোক্ত করার জন্য তাকে দরকার। এ সুযোগে একটা বিষয় যাচাই হলো : আওয়ামী লীগের অনেক অঙ্গ সংগঠন, নেতা, মন্ত্রীদের একটা গ্রুপ ধুয়ে ফেলে। এরা মূলত কারো তোষামদ করে না। এরা শত ভাব স্বাধীনতার পক্ষে। এদেরও অসীম রাগ বিমানের ঘটনায়।

আজ এক পান -বিড়িওয়ালার রাগ শুনলাম এ বিষয়ে। বয়ষ্ক মামা রাজনিতী বুঝে না। কিন্তু নিজের ভালো থাকাটা বুঝে নিতে পারে। দল বাদ দিয়ে ব্যাক্তি হাসিনা এখন অনেকের ভালোবাসার জায়গা অনিচ্ছায়। যেমন আজকের মামার রাজাকারদের বিচারে আপত্তি অাছে তার মতিষ্ক ধোলাইয়ের কারণে । তার বেশ ভালোবাসা শেখ হাসিনার জন্য। জাতীয়তাবাদী নেতা আসলে ভালোবাসার স্বজন হয়ে উঠে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতো সেই আসনেই যাচ্ছেন বা চলে গেছেন অনেকটা।

ভাই দোয়া গ্রুপ, দোয়ার সাথে কার্যকর কিছু করেন, নইলে সব অর্থহীন। চোখের সামনে ক্যামেরা, সেলফি ফ্ল্যাশে জনগনের এখন আর ধান্ধা লাগেনা ।

জহিরুল হক বাপি : ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend