শুক্রবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
নুজহাত চৌধুরীর প্রশ্ন: মুক্তিযোদ্ধার গায়ে আজ কীভাবে রডের বাড়ি পড়ে? নুজহাত চৌধুরীর প্রশ্ন: মুক্তিযোদ্ধার গায়ে আজ কীভাবে রডের বাড়ি পড়ে?
দর্পণ ডেস্ক : জাতির পিতার আদর্শের দল যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতায়, তখন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কীভাবে পেটানো হয়, তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কাছে জানতে চেয়েছেন শহীদ... নুজহাত চৌধুরীর প্রশ্ন: মুক্তিযোদ্ধার গায়ে আজ কীভাবে রডের বাড়ি পড়ে?

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুধবার আওয়ামী লীগের আলোচনা অনুষ্ঠানে শহীদ চিকিৎসক আলীম চৌধুরীর মেয়ে বলেন- “আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, আপনারা যদি সোনার বাংলা আর বঙ্গবন্ধুর আর্দশের লোক হন; তাহলে মুক্তিযোদ্ধার গায়ে কীভাবে রডের বাড়ি পড়ে?”

গত ১৮ অক্টোবর ঝিনাইদহের শৈলকূপায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহমেদ মৃধার ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির নীতিনির্ধারকদের সামনেই এ প্রশ্ন তুলে ধরে তিনি।

মুক্তার মৃধার পরিবারের অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আব্দুল হাই এবং শৈলকূপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা সিকদারের অনুসারীরাই সেই সন্ধ‌্যায় ওই হামলা চালিয়েছিল।

নুজহাত চৌধুরী বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। আমরা চেয়েছি, যত শোক, যত বিচারহীনতার সংস্কৃতি- সব চলে যাক।”

চক্ষু বিশেষজ্ঞ আলীম চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চোখের চিকিৎসক। ১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত‌্যার পর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে লাশ ফেলে রাখে রাজাকার-আল বদর বাহিনীর সদস‌্যরা। হত‌্যার আগে তার চোখ তুল ফেলা হয়।

সেই শহীদ বুদ্ধিজীবীর মেয়ে নিজেও একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। একজন মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার খবর কতটা ব‌্যথিত করেছে, তা তিনি তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে।

“শহীদ সন্তানদের বুকে এটা যে কত বড় আঘাত, সম্মানে যে কত বড় অপমান; আশা করি আপনারা এটা বুঝবেন।” বাবার কথা বলতে গিয়ে বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসে সামাজিক আন্দোলনকর্মী নুজহাতের কণ্ঠ।

“আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায় ১৫ ডিসেম্বর বিকেল বেলা। লাশটা পাই ১৮ তারিখে। বুকটা ছিলো গুলিতে ঝাঁঝরা। কপালে বেয়নেট চার্জ করা ছিল। “বঙ্গবন্ধু কিন্তু দেশে নেমেই (১০ জানুয়ারি ১৯৭২) বলেছিলেন, ওরা আমার চোখের ডাক্তারকে কী মেরে ফেলেছে?”

একটি সুন্দর সোনার বাংলা দেখার আশায় শহীদ পরিবারের সন্তানেরা এই ত্যাগ ‘হাসিমুখে’ মেনে নিয়েছেন বলেন জানান নুজহাত। “আমাদের বাবারা চলে গেছেন মাথা উঁচু করে। আমাদের মায়েরা কোন অভিযোগ ছাড়া অনুযোগ ছাড়া চোখের জল গোপন করে দীর্ঘ ৪৫ বছর সংগ্রাম করছেন।”

উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে নুজহাত বলেন, “আপনাদের কাছে যখন আসি, তখন অনেক আবেগতাড়িত হয়ে যাই। “আমরা অনেক আশা নিয়ে, অনেক ত্যাগ নিয়ে, অনেক শোক আপনাদের হাতে সমর্পণ করেছি। আমাদের পিতাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা চেয়েছি একটা সুন্দর দেশ। সেই সুন্দর দেশ নির্মাণের দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের।

“আপনারা ক্ষমতার বিভিন্ন পদে আসীন। আমি জানি, তৃণমূলের রাজনীতি অনেক কঠোর, অনেক বাস্তবতা আছে। রাজনৈতিক কারণে হয়ত আপনাদের অনেক কিছু ম্যানেজ করতে হয়। ছোট ছোট আপস আপনার চেয়ারে বসে হয়তো কিছু নয়। কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধে রক্তে দিয়েছে, তাদের সম্মানে কী বড় আঘাত আসে?”

বক্তৃতায় মুক্তমনা লেখক আর প্রকাশকদের হত্যার প্রসঙ্গেও কথা বলেন নুজহাত। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক বিজয় আমাদের অর্জন হয়েছে। আর্দশিক যুদ্ধ কিন্তু চলছে।”

সবাইকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে নুজহাত বলেন, “তিনি একা কিন্তু পারবেন না।”

Comments

comments

Send this to a friend