শুক্রবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
১৬ই ডিসেম্বর ও একটি “বিজয় দিবস” প্রতিক্রিয়া: “যে বিজয় আমার নয়”! ১৬ই ডিসেম্বর ও একটি “বিজয় দিবস” প্রতিক্রিয়া: “যে বিজয় আমার নয়”!
সুমন দেব নাথ : সম্মানিত পাঠক, আজ থেকে মাত্র একদিন আগেই আমরা শত উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে পালন করলাম আমাদের মহান বিজয় দিবস! ভাবছেন... ১৬ই ডিসেম্বর ও একটি “বিজয় দিবস” প্রতিক্রিয়া: “যে বিজয় আমার নয়”!

সুমন দেব নাথ :

সম্মানিত পাঠক, আজ থেকে মাত্র একদিন আগেই আমরা শত উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে পালন করলাম আমাদের মহান বিজয় দিবস! ভাবছেন এই 'বিজয় দিবস' লিখার পরে এই (!) আশ্চর্যবোধক চিহ্ন   ব্যবহার করলাম কেন? কেন দিবো না? একবার ভেবেছেন? এ বিজয় কি আমরা সত্যিকার অর্থে অর্জন করতে পেরেছি? আজকি আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পথ চলছি? বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামীলীগের আদর্শ কি আজ অলীক স্বপ্ন হতে যাচ্ছে?

মাত্র একদিন আগেই আমাদের বিজয় দিবস গেল যার আমেজ এখনো বিদ্যমান থাকার কথা কিন্তু আজ আমার কাছে  আর বিজয় দিবসের কোন আমেজ নেই! তাই আপনাদের কাউকেই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে পারছি না বলে আমি আন্তরিকভাবে দু:খিত! এখন হয়তো মনে মনে ভাবছেন কি এমন হয়েছে যে আমি এমন করছি? হ্যাঁ আপনার চোখে হয়তো তেমন কিছুই হয়নি কিন্তু আমার চোখে অনেক কিছুই ঘটে গেছে, যা আমি দেখছি ইতিহাস বদলে ফেলার এক দূরভিসন্ধি যা আমার সব আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে! image1হ্যাঁ, আপনারাও দেখেছেন, পিরোজপুরের ইন্দুরকানি  উপজেলায় যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার সাঈদির ছেলে মাসুদ সাঈদিকে নিয়ে বিজয় দিবস পালন করলো আওয়ামীলীগ নোতারা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ! বিশাল পদযাত্রা শেষে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসন যুদ্ধাপরাধীর ছেলের হাতে তুলে দেয় "শুভেচ্ছা স্মারক"! এই শুভেচ্ছা স্মারক দিয়েই শেষ নয়, পদযাত্রা শেষে রাজাকারপুত্র মাসুদ সাঈদী আয়োজন করেছিলেন "মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জিয়ানগর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান! সেখানে বীর মুক্তিযুদ্ধারা বীরদর্পেই অংশগ্রহন ও পুরুষ্কার নিয়েছেন!!

মনে আছে মাত্র কয়েকমাস আগেই আওয়ামীলীগেরই একজন শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী এই রাজাকার পুত্রের সাথে একই টেবিলে বসে উদরপূর্তি করেছিলেন! এখন ঘটনার যোগসূত্র মিলান? বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকতেও প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে একজন রাজাকার পুত্র কিভাবে এমন বীরদর্পে চলাফেরা করে?

এ তো গেল ঘটনাচক্রের সমান্য বর্ননা! এবার নিচের ঘটনাগুলো দেখুন। আমরা জানি জামাতের ছত্রছায়াই পরিচালিত হয় 'ইসলামি ব্যাংক' যার জন্য এই ব্যাংকে সর্বাপরি বর্জন করার ডাক দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আমরা কি দেখেছি? আমরা দেখেছি, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেওয়া হয়েছে বিশাল বড় অংকের নগদ অনুদানসহ ৫০ হাজার কম্বল প্রধান যেখানে হাস্যউজ্জ্বল মুখে উপস্থিত ছিলেন কুখ্যাত আল-বদর আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের যিনি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান! উনারা অনুদান দিলেন আর আমরাও হাসিমুখে স্বানন্দে গ্রহন করলাম! সাবধান 'ইসলামী ব্যাংক' বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয় বিধায় স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার তাদেরও সমান সুযোগ রয়েছে তাই তাদের বিরুদ্ধে চাইলেই কিছু করা যাবে না! যদিও তাদের হাতে একাত্তরের গনহত্যার রক্তের দাগ আছে!

এখন দেখবেন এসব দান-অনুদানের সামাজিক প্রতিক্রিয়া কি? হ্যাঁ, এর প্রেক্ষিতেই ইসলামী ব্যাংক মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদের স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সুযোগ পায়!

আরো দেখেছেন? এই মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জামাত শিবিরের তৎপরতা? গত ক'বছর ধরেই দেখছি স্বাধীন বাংলাদেশের মোটামুটি সবকটি জেলা থেকেই তারা বেড় করেছে লাল সবুজের টি-শার্ট পরিহিত 'বিজয় মিছিল' হাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি খচিত ব্যানার নিচের দিকে ছোট্ট করে লেখা থাকে 'বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির' এর পক্ষ থেকে! সোশাল মিডিয়াতেও তারা ব্যবহার করছে শ্লোগান 'স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো' যা অত্যান্ত দূরভিসন্ধিমূলক সূক্ষ পরিকল্পনা মাহফিক মুক্তিযুদ্ধে তাদের নেগেটিভ ভূমিকাকে পজেটিভে রুপান্তর করার চেষ্টা মাত্র! এবং এটাও তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল যে বিজয় দিবসকে কাজে লাগিয়ে জামাত শিবিরের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করা মাঠে নামানো! এদের এমন মুভমেন্ট দেখলে মনে হয় যেন ঐ সব এলাকায় আওয়ামীলীগ বলতে কিছু নাই যারা তাদের মাঠে প্রতিহত করবে! সবাই যেন ভায়রা-ভাই হয়ে বসে আছে!!

আর কি বলবো? বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায় তাই সব কিছু না বলে শুধু বলবো, ঘুন পোকা যেমন বাঁশে ঢুঁকে বাঁশ খেয়ে বাঁশের অস্তিত্ব নষ্ট করে নাদুস-নুদুস হয়ে বেড় হতে পারে ঠিক তেমনই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামীলীগে নিয়ম-নীতি, আদর্শের তোয়াক্কা না করে আওয়ামী নেতাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যে হাড়ে জামাত শিবির ও হাইব্রীড নেতাকর্মীদের নৌকায় তোলার ব্যবস্থায় করা হচ্ছে তৃনমূলকে বাদ দিয়ে তা আশংকাজনক এবং এর পরিনাম অত্যান্ত সুস্পষ্ট ও ভয়াবহ!

image2আমরা জানি, প্রত্যাক ক্রিয়ারই একটি সমান এবং বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে। এই জামাত শিবির "বিজয় মিছিল" করছে, স্মৃতিসৌধে ফুল দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে অনুদান দিচ্ছে এর লং টার্ম ইফেক্ট কি বলতে পারেন? জামাত একটি অত্যান্ত সুচতুর কৌশলী রাজনৈতিক দল তারা যা করে অত্যান্ত পরিকল্পনা মাহফিক করে। উপরের কাজগুলি তারে কেন করছে জানেন? তা করার কারণ একটাই আর এটা হলো, ভবিষৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ গ্রহন করা ও আগামী প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা!

কিভাবে বিভ্রান্ত করবে জানেন? এই যে তাদের আজকের বিজয় দিবস উদযাপনের ছবিগুলো আজ থেকে ১৫/২০ বছর পরে তাদের নতুন প্রজন্মের হাতে তুলি দিয়ে বলবে, "মুক্তিযুদ্ধে তাদের কোন নেগেটিভ ভূমিকাই ছিলো না! তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এজন্যেই তখন তারা আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও তারা 'বিজয় মিছিল' স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে ও সরকারের তহবিলে অনুদান দিতে পেরেছিলো! তারা আরো যুক্তি দিয়ে বলবে যে, তাদের দলে কখনো কোন কালেই কেন 'যুদ্ধাপরাধী' কেউ ছিলো না! তখন যাদের যুদ্ধাপরাধের দ্বায়ে ফাঁসি হয়েছিলো তাদেরকে আওয়ামী সরকার ষড়যন্ত্রমূলক অবৈধ আদালত গঠন করে ফাঁসি দিয়েছিলো ক্ষমতায় আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ইসলামের নাম নিশানা এদেশ থেকে মুছে দেওয়া তাই ধzianogorর্মীয় নেতাদের ফাঁসি দিয়েছিলো!!

তখন মধ্যরাতে টকশো জীবিরাও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের গলাসহ মাইকের পর্দা ফাটাবেন। তখন সেই বিভ্রান্ত প্রজন্মকে লাইনে আনতে পারবেন তো? পারবেন তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্মুন্নত রেখে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যেতে? প্রশ্ন রেখে গেলাম বর্তমান আওয়ামী নীতি নির্ধারনী মহলের কাছে।

ভাবছেন আজ থেকে ১৫/২০ বছর পরের প্রজম্ম তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই পথ চলবে তারা তাদের কথা শুনবে কেন? জ্বী না জনাব আপনি যা ভাবছেন তা নয়! ধর্ম এমন একটা চুম্বক যা আপনাকে কাছে টানবেই সুতরাং আপনিও যাবেন ওদের কথা শুনতে কারন তাদের ধারনা তারা ধর্মের জন্য কাজ করছে!

যদি তাই না হতো ক'দিন আগে আমার ফেইসবুক পেইজে একজন তরুন কমেন্ট করে বলে, "ভাইয়া বাদ দিন, বর্তমান শিবির তো আর যুদ্ধাপরাধী নয়!" তাই তাদের পিছনে না লেগে দেশের উন্নায়নে কাজ করুন! তার এমন প্রশ্ন শুনেই আমার শিরা-উপশিরা ঠান্ডা হতে লাগলো তাই অনেক সহ্য করে উত্তর দিলাম, "তাদের কোন ভূমিকা নেই সত্য কিন্তু তারা যে গাছের নিছে ছায়া নিচ্ছে তা বিশাক্ত গাছ! যাদের দলীয় সংবিধান তাদের চিন্তা চেতনা মননে নেই মুক্তিযুদ্ধ তারা কি করে প্রগতিশীল হতে পারে? তাদের যদি রাজনীতি করার এতোই শখ থাকে তাহলে তাদেরকে জামাতের ছত্রছায়া থেকে বেড় হয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ মেনেই তবে নতুন মোড়কে বাংলাদেশের মুলধারার রাজনীতির সাথে মিশে যেতে হবে। তবেই তাদের নিয়ে কাজ করতে পারি আমরা এর আগে নয়"!!

সুতরাং উপরোক্ত তরুনের প্রশ্নের সুবাদে খুব সহজেই বুঝতেই পারছেন যে, কিভাবে জামাতের স্লো পয়জনিং আমাদের   মস্তিষ্কের মগজকে গোবর বানিয়ে দিচ্ছে!! জাতীয় জীবনে আমরা যতই এদের প্রবেশাধিকার দিবো আগামী প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য আমরাই দেশ ও জাতির কাছে দায়বদ্ধ থাকবো! মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগের কাছে একটাই চাওয়া "এখনই এদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করুন" ঝড় আসার আগেই ঝড় থামিয়ে দিন।

সুমন দেব নাথ : এমবিএ, লন্ডন, ইংল্যান্ড। ১৭/১২/২০১৬

ইমেইল: Sumon_lus@yahoo.com

Comments

comments

Send this to a friend