শুক্রবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

বুঝতে হবে এ বিজয় কাদের জন্য?

বিভাগঃ মুক্ত মত ১৭/১২/২০১৬ নিউজ পোস্ট ডেস্ক

বুঝতে হবে এ বিজয় কাদের জন্য? বুঝতে হবে এ বিজয় কাদের জন্য?
সামছুল আলম চৌধুরী সুরমা ভাই : ৪৫ তম বিজয় দিবস পালিত হলো। এই দিবস পালনে আমরা ছিলাম ফুলের তুড়া কিংবা জাতীয় পতাকা হাতে হাটে... বুঝতে হবে এ বিজয় কাদের জন্য?

সামছুল আলম চৌধুরী সুরমা ভাই :

৪৫ তম বিজয় দিবস পালিত হলো। এই দিবস পালনে আমরা ছিলাম ফুলের তুড়া কিংবা জাতীয় পতাকা হাতে হাটে মাঠে শহীদ মিনারে । সারাদিন বিজয়ের উল্লাসে ঘুরাঘুরি করে ক্লান্ত দেহে রাতে ঘরে ফিরেছি। সবার চিন্তাচেতনায় ছিলো আমরা পাকবাহীনির সাথে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। এটা একটা বিরাট বাহাদুরী। কিন্তু এই বিজয় এই যুদ্ধ জয়ের পিচনে কি লোকিয়ে ছিলো তা আমরা কয়জনে জানি বা স্বরণ করেছি।

আগে অনেকে বলতেন আমরা পাকিস্তানের গোলাম ছিলাম এইদিন আমরা পাকিস্তানের গোলামি থেকে মুক্ত হয়েছি। আসলে আমরা কি পাকিস্তানের গোলাম ছিলাম? না ! আমরা পাকিস্তানের গোলাম ছিলাম না। আমরা পাকিস্তানের গোলাম হলে ভারতের পশ্চীম বঙ্গ কি? ততকালিন পাকিস্তান ছিলো দ্বীজাতিত্বের ভিত্তিতে ভারত থেকে আলাদা আমাদের বাপ দাদার গড়া স্বাধীন রাষ্ট্র।

প্রশ্ন করতে পারেন পাকিস্তান যদি আমাদের স্বাধীন দেশ হয়ে থাকে তবে আমরা যুদ্ধ করে পৃথক হলাম কেনো? তার কারণ পশ্চিম পাকিস্তানিরা ধর্মের দোহাইদিয়ে ছলে বালে কৌশলে সামরিক বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে শাষন করতো। পশ্চিম পাকিস্তানী পুজিপতি বড় বড় মিল কারখানার মালিক যেমন আদমজি, ইসপাহানি, ভাওয়ানী এসব পুজিপতিরা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী না দিয়ে শ্রমিকদের শোষন করতো।

আমাদের নেতারা বুঝাতেন এক নায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসনের হাত থেকে বাচার জন্য আমাদেরকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পুজিবাদি ২২ পরিবারের শোষন থেকে মুক্তির জন্য দেশে গণতন্ত্র, শোষন মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। নেতাদের কথা বিশ্বাষ করে আমরা আন্দোলনে রাস্তায় নামি ১৯৬৮/৬৯ এ আমাদের স্লোগান ছিলো বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, শোষন মুক্ত সমাজ চাই। একনায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসন চাই না গণতন্ত্র ছাড়া মানি না মানবো না। পরিনামে যা হবার তাই হলো। দেশ ভাগ হলো। আমরা স্বাধীন হলাম কিন্তু যে কারনে যে গণতন্ত্রের জন্য এতো রক্ত এতো ত্যায়াগ সিকার করলাম সেই গণতন্ত্র কি আমরা স্বাধীনতার ৪৫ বছরে একটা গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি? আমরা কি শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমরা কি শ্রমিকের ন্যায়্য মজুরী ধার্য্য করতে পেরেছি? পারি নাই।

প্রশ্ন করতে পারেন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী কি এবং শ্রমিক কারা? শ্রমিক বলতে যারা পারিশ্রমিকের বিনীময়ে অন্যের কাজ করে তারাই শ্রমিক সে শিক্ষিত অশিক্ষিত হতে পারে। আর শ্রমের ন্যায়্য মজুরী হচ্ছে একটা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাচার জন্য যে পরিমান কেলরিযুক্ত খাদ্য, পরনের কাপড়, থাকার জন্য সাস্থ্যসম্মত বাসস্তান, সন্তানের শিক্ষা, রোগ হলে ওষধ এ্ই পাচটি মৌলিক চাহিদা মিটাতে পারে সেই পরিমান মজুরী নির্ধারন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও কি আমরা সেই অধিকার বাস্তাবায়ন করতে পেরেছি? পারিনাই! কেনো? তার কারণ যাখন যে সরকার ক্ষমতায় বসেন শোষক, এবং সন্ত্রাসী গডফাদাররা সেই সরকারে যোগদেন। শোষক বলতে মিলফেক্টরির মালিক যারা অল্প পারিশ্রমিক দিয়ে শ্রমিক খাটা্য়, শ্রমিককে তার ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলতে বা শ্রমিক সংঘটন করতে দেয়না যেমন গার্মেন্টস ফেক্টরি গুলো। সরকার ও শ্রমিকের পক্ষে কথা বলেন না বরং যখন যে দল ক্ষমতায় বসেন এসব শোষক শ্রেনী সরকারি দলকে চাদাদিয়ে সরকাররের মুখ বন্ধ করে দেয়। সরকার যুক্তি দেখান শ্রমিকের বেতন বাড়লে জিনিসের দাম বাড়বে। তাই বলেকি শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরী পাবে না? শ্রমিক কি একাই শোষিত হবে?

সরকার এসবের ফয়ছলা না করে  তাদের কর্মচারিদের কাছ থেকে কাজ আদায়ের জন্য শুধু সরকারি কর্মচারিদের বেতন বাড়িয়ে নিজের সার্থ আদায় করে। অতএব বুঝতে হবে এ বিজয় কাদের জন্য?

আমরা পরিবর্তন চাই We Want Change.

সামছুল আলম চৌধুরী সুরমা ভাই : প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল - বিডিপি

প্রণেতা বিডিপি ফর্মুলা

  1. shamsulchowdhury57@yahoo.com
  2. Shamsul Chowdhury

      M.01779-747-595

Comments

comments

Send this to a friend