শনিবার , ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

চাকরী প্রার্থীদের সমস্যা ও সমাধান।

চাকরী প্রার্থীদের সমস্যা ও সমাধান। চাকরী প্রার্থীদের সমস্যা ও সমাধান।
একেএম ফয়সল আহমেদ : বর্তমানে আমাদের দেশে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হচ্ছে বেকার সমস্যা।  সেই বেকার সমস্যা রোধে সরকার বদ্ধপরিকর!  তবে... চাকরী প্রার্থীদের সমস্যা ও সমাধান।

একেএম ফয়সল আহমেদ :

বর্তমানে আমাদের দেশে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হচ্ছে বেকার সমস্যা।  সেই বেকার সমস্যা রোধে সরকার বদ্ধপরিকর!  তবে জনসংখ্যা মূল কারন ছাড়াও কতোগুলো সুনির্দিষ্ট কৃত্তিম কারন রয়েছে যার কারনে সরকারী বা বেসরকারি নিয়োগে অগ্রগতি সঠিক ভাবে হচ্ছে না!

এসব কারন গুলোর কারনে যুব বেকার সমাজ আজ হতাশ তথাপি তাদের শ্রম দেশের কাজে না আসাতে দেশের উন্নয়ন ব্যহত হইতেছে।  তাই, নিচের সমস্যা গুলো গুরত্ব দিয়ে দেশের কল্যানে নিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুলো এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করে ভুক্তভোগী সকলে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। এসব বেকারত্ব কমে আসবে যদি সঠিক পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়।

বর্তমান চাকরী প্রার্থীদের কিছু অঘোষিত বা ঘোষিত দাবি যা বাস্তবায়ন হলে যুবসমাজ আজ উদ্বেগ প্রকাশ করতো না!

যদি নিচের দাবিগুলো বাস্তবিক হতো:

১। বাংলাদেশ চাকরী বাজারে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত অনেক দীর্ঘমেয়াদি! যেমন : PSC এর নিয়োগ, ব্যাংক রিক্রুটমেন্ট কমিটির নিয়োগ, মন্ত্রনালয়ের নিয়োগসহ সরকারি বা কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি নিয়োগ চরম লেবেলের দীর্ঘ সময়ের। বিশেষ করে : বিসিএস, সরকারি ব্যাংক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ( ২০১১ আবার পুন: নিয়োগ), পল্লী উন্নয়ন কর্মকতা, অডিট অফিসার, বাপেক্স, বেসরকারি উত্তরা ব্যাংক সহ অগণিত সার্কোলার এর নিয়োগ!!!

তথাপি, নিয়োগ এর দীর্ঘসুত্রিতার কারণে যারা ভাল ছাত্র তারা সব যায়গায় ই এক্সজাম দেয়। ফলে টিকতে থাকলে তারা একসাথেই টিকতে থাকে, ফলে অন্য পদগুলু খালি থাকে। কারণ এক ব্যক্তি ফাইনালি জয়েন করে এক জায়গায়। এতে অন্যজনের সুযোগ নষ্ট হয়। এর ফলে বেকারত্ব বাড়ে।

সমাধান : উপরোক্ত নিয়োগ দাতারা যদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এর সাথে সাথে নিচের ধাপগুলোর#তারিখ প্রকাশ করে তাহলে নিয়োগে গতি থাকবে এবং উদ্বেগ থাকবে না! উদাহরণ : প্রিলি - ওমুক তারিখ, লিখিত - ওমুক তারিখ, ফলাফল - ওমুক তারিখের মধ্য, জয়েনিং - ওমুক তারিখের মধ্য ইত্যাদি।।

২। জব পাওয়ার পর ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি!সঠিক ভেরিফিকেশন না করে টাকা ডিমান্ড করা!! প্রার্থী আতংকিত হয়ে দিতে বাধ্য হয় যা লজ্জাকর।চাক্ষুষ প্রমান - এমন ভাবে ডিমান্ড করে যেনো প্রার্থীর নিকট পূর্বঘোষিত পাওনা!

৩। কোনো পরিক্ষার্থী যদি চ্যালেঞ্জ করে তাহলে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্য তার খাতা রি চ্যাক করার সুবিধা দিতে হবে। তথ্য আইনে অধিকার আছে।

বি : দ্র : বিগত ৩৪ তম বিসিএসে নম্বরপত্রে ব্যাপকহারে গরমিলের নজির পাওয়া গেছে!

যা আসলেই প্রশ্নবিদ্ধ!

৪। কোটার হার সর্বমোট ১৫%, এফ এফ ->নাতী - নাতনী বাদ, তবে এফ এফ সন্তান, নারী, উপজাতি কোটা আরো কমাতে হবে।। জেলা কোটাতে দুর্নীতি বেশি হয় তা স্বচ্ছ করা যেতে পারে। অন্যতম কোটা অক্ষম যারা তাদের বলবৎ যথারীতি রাখা উচিত।।

বি : দ্র : কোটা হতে পূর্ণ না হলে মেধা হতে শূর্ণ পদ পূরন করতে হবে।।

৫। নিয়োগে দুর্নীতি রোধকল্পে রাজনৈতিক ভাবে হস্তক্ষেপ বন্ধ বা দুদুকের নজর বাড়াতে হবে ( জানি কম পসিবল)

৬। চাকুরী প্রার্থীদের বয়স কমে ৩২ করা উচিত, অপরদিকে অবসর মেয়াদ যদি বৃদ্ধি পায়।।

৭। সরকারি কলেজ জাতীয়করণ ভালো উদ্যোগ তবে এসব কলেজের প্রাক্তন শিক্ষকগণের অনেকেই শিক্ষা ক্যাডারের যোগ্যতা রাখে না কারন তাদের ৯০% নিয়োগ বৈধ নয়! শিক্ষা ক্যাডারের অবমূল্যায়ন হবে যদি তারা সকলেই জাতীয়করণের মাধ্যমে ক্যাডার হয়!

৮। বিসিএস হতে নন ক্যাডার পদে প্রাইমেরী শিক্ষক ২য় শ্রেনী হিসাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় হতে সুবিধা না দেওয়া! এমনেই এই পদটি প্রশ্নবিদ্ধ যদিও অন্য বিবেচনায় এই পদটি প্রশংসিত!

৯। একই দিনে দুজায়গায় ভাইবা বা ভাইবা ও রিটেন একইদিনে বা দুটো রিটেন একই দিনে যা সত্যি পেইনফুল।

১০। ননক্যাডার পরীক্ষাগুলো এক বছরের জন্য একসাথে নেয়া যা টাকা খরচ কমাবে ও অনেকেই একসাথে জব পাবে।

১১। যে কোন নিয়োগে রিজাল্ট বের হলে প্রার্থীর তার রিটেন ও ভাইবা রিজাল্ট দেখার সুযোগ দিতে হবে।

১২। বিসিএসসহ অন্যান্য পরীক্ষায় ভাইবার মার্ক কমিয়ে আনা উচিত।

১৩। যে কোন প্রতিষ্ঠান যদি সার্কুলার দেয় পরীক্ষা নিতে বাধ্য থাকবে। যদি তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না নিতে পারে তবে তার জন্য পত্রিকায় কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া উচিত।

১৪। ১৫ জন পোস্টের জন্য ৫০০ জন ভাইবায় রাখার কোন যুক্তিকতা নেই। পোস্টের বিপরীতে কমসংখ্যক প্রার্থী টিকানো উচিত। আর যারা চাকুরি পাবে না তাদের জন্য প্যানেল রাখা উচিত ও তাও পাব্লিশ করা উচিত।

১৫। এক্সাম কেন্দ্র শুধুমাত্র ঢাকা না দিয়ে বিসিএস এর মতো অন্যান্য একজাম গুলো বিভাগীয় শহরে নিলে সুবিধা হবে।

১৬। চাকরীর বিজ্ঞপ্তিতে SSC,HSC তে GPA ৫ চাওয়া, কোন কোন ব্যাংকে অনার্স লেবেলেও ৩.৫ চাওয়া হয় যা অনৈতিক! বাছাই প্রক্রিয়া একাডেমিক ফলাফল দিয়ে বিবেচনা করা মোটেও ঠিক না! এসব, ডিমান্ড বেশিরভাগ সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাওয়া হয় যা অনৈতিক ও হতাশাজনক!

১৭। টাকা দিয়ে এপলাই করার পর, নিয়োগ বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রতিষ্ঠান এপলাই খরচ ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবে! ১৮। বিসিএস বা অন্যান্য জবে এপলাই খরচ কমাতে হবে। যদি প্রিলি হয় শুধু প্রিলির খরচ! বেকারদের হতে যদি সরকার ব্যবসা করে তাহলে কিভাবে হয়!! বাংলাদেশ ব্যাংক এর উদ্যোগ প্রশংসনীয়!

পরিশেষে, বলা যায়, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। উপরিউক্ত সমস্যাগুলো কথায় না হাতে কলমে সমাধান করতে হবে, এতে করে সত্যিই সত্যিই স্বপ্নের দেশ গড়তে বেশি দিন লাগবে না!

লেখক: একেএম ফয়সল আহমেদ , বাংলাদেশ

 ইমেইল: af.iub.nsu@gmail.com

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend