শুক্রবার , ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
কিম হত্যার জের: পিয়ংইয়ং থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল মালয়েশিয়া কিম হত্যার জের: পিয়ংইয়ং থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল মালয়েশিয়া
সারাবিশ্ব ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎ ভাই কিম জং ন্যাম হত্যার ঘটনায় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির জেরে পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দেশে... কিম হত্যার জের: পিয়ংইয়ং থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল মালয়েশিয়া

সারাবিশ্ব ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎ ভাই কিম জং ন্যাম হত্যার ঘটনায় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির জেরে পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরতে বলেছে মালয়েশিয়া।

এছাড়া কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে মালয়েশিয়া। খবর বিবিসির। গত সোমবার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে নিহত হন কিম জং ন্যাম। মালয়েশীয় পুলিশের ধারণা ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষাকালে তাকে বিষয় প্রয়োগে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জড়িত সন্দেহে রি জং চল নামে এক উত্তর কোরীয়সহ চারজনক গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া রি জি হিয়ন (৩৩), হং সং হ্যাক (৩৪), ও জং গিল (৫৫) এবং রি জায়ে ন্যাম (৫৭) নামে আরও চারজন খুঁজছে উত্তর কোরীয় পুলিশ। এদিকে কিং জম ন্যামকে হত্যার ঘটনায় কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোলকে তার মন্তব্যের জন্য তলব করে মালয়েশিয়া সরকার। এর আগে ব্যাপকভাবে এ ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল যে ন্যাম হত্যার নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা রয়েছে। তবে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়া জড়িত বলে দাবি করে আসছে। সোমবার দেশটি বলে, এই হত্যাকাণ্ড উত্তর কোরিয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বড় প্রমাণ। কিং জং ন্যাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরায় পাওয়া ভিডিও ফুটে জাপানের একটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওটি এরইমধ্যে অনলাইনে ভাইরাল হয়ে গেছে। এদিকে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মালয়েশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কিম ন্যাম হত্যাকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উত্তর কোরিয়া বিনা ময়নাতদন্তে কিম ন্যামের মরদেহ হস্তান্তরের দাবি করলেও মালয়েশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে। এনিয়ে শুক্রবার উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত চোল অভিযোগ করেন, কুয়ালালামপুর ‘শত্রু শক্তিগুলোর’ সঙ্গে গোপনে আঁতাত করছে এবং মালয়েশিয়া ‘কিছু একটা গোপন করছে। চোলের এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলে, মালয়েশিয়ার ভূমিতে কিম ন্যামের মৃত্যু হওয়ায় এ বিষয়ে তদন্ত করা তাদের দায়িত্ব। বর্তমানে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কিম ন্যামের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে রাষ্ট্রদূত চোল বলেছেন, তাদের অনুপস্থিতিতে যদি ময়নাতদন্ত হয় তবে তারা এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করবেন। এদিকে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ কিম ন্যামের মরদেহ উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সবার আগে ডিএনএ পরীক্ষা হবে, তারপর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এখন পুলিশ ন্যামের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা খুঁজছে। ধারণা করা হচ্ছে তার পরিবারের সদস্যরা বেইজিং এবং ম্যাকাওয়ের বাসিন্দা। মালয়েশীয় পুলিশ বলেছে যদি কিমের নিকটাত্মীয়দের কেউ তার মরদেহ দাবি না করে তাহলেই তারা উত্তর কোরীয় দূতাবাসের কাছে লাশ হস্তান্তর করবেন। নিহত কিম জং ন্যাম ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সাবেক নেতা কিম জং ইলের বড় ছেলে। ২০১১ সালে কিম ইল মারা গেলে তার ছোট ছেলে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বে আসেন। এরপরই পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান কিম ন্যাম। এর আগে ২০০০ সালের প্রথম থেকেই নির্বাসনে চলে যান কিম ন্যাম। তিনি বেশির ভাগ সময় ম্যাকাও, চীন এবং সিঙ্গাপুরে বসবাস করতেন। ২০১২ সালে প্রকাশিত এক বইয়ে কিম ন্যাম উত্তর কোরিয়ার ওপর তার পরিবারের রাজতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। ওই বইয়ে তিনি জানান, তার সৎভাই নেতৃত্বের যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়াকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো আগ্রহ না থাকার কথাও জানান তিনি।

Comments

comments

Send this to a friend