মঙ্গলবার , ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24
অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ: নতুন মামলা ও জীবন শংকায় রনি অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ: নতুন মামলা ও জীবন শংকায় রনি
তিন মাস আগে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রাশেদ মিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ... অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ: নতুন মামলা ও জীবন শংকায় রনি

তিন মাস আগে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রাশেদ মিয়াকে চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। থাপ্পর মারার ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয় রনিকে। তিন মাস পর এবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিও বার্তায় দেখা যাচ্ছে, রাশেদ নিজের মুখে স্বীকার করছেন যে, রনি তার ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। রনি তাকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন।

বুধবার (১১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নুরুল আজিম রনির ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোড করা হয় এই ভিডিও। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনকেও রাশেদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমঝোতামূলক কথা বলতে দেখা গেছে।

তবে এই ভিডিও আপলোডের পর রাশেদ মিয়া দাবি করেছেন- রনির অনুসারীরা এক ছাত্রসহ তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে এই বক্তব্য প্রদানে বাধ্য করেছেন। এমনকি রনির বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলাটি তুলে নেওয়ার হবে মর্মে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করেছেন।

কিন্তু ঘটনার মিমাংসার ভূমিকায় উপস্থিত চসিক কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন গনমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন,রাশেদ স্বেচ্ছায় মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে তার কাছে গিয়েছেন। তার উপর কেউ চাপ প্রয়োগ করেনি। রনির সঙ্গে মামলাসহ সামগ্রিক বিরোধ নিয়ে মধ্যস্থতার জন্য রাশেদ মিয়া নিজেই একজন বিশ্বস্ত কাউকে খুঁজছিলেন এবং রাসেদ মিয়ার এক ছাত্রের মাধ্যমে কাউন্সিলরের সাথে দেখা করতে আসেন।তিনি জানান,এসময় উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। রনির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং তার সাড়ে নয় লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে রাশেদ সম্মত হন। আমি উভয়পক্ষকে মিলিয়ে দিলে তারা খুশি হয়ে চলে যায়। তবে রনি আমার বাসায় আসেনি।কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন গনমাধ্যমে আরো বলেন, ‘রাশেদ আমার বাসায় আসার পর আমি তাকে একান্তে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তাকে কেউ চাপ দিয়েছে কি-না ? তাকে অভয় দিয়েছিলাম। সে বলেছে-স্বেচ্ছায় এসেছে। আর আমার বাসায় বসে তার কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার মানুষ আমি কফিল উদ্দিন না।’

এদিকে রাশেদের ছাত্র নিজেও এই ‘জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন। রাশেদের সঙ্গে যাওয়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহান সারাবাংলাকে বলেন, ‘উনি (রাশেদ মিয়া) আমার শিক্ষক। আমার কাছে সম্মানিত। উনার বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে এতটুকু বলতে পারি-আমি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলাম। কেউ তুলে নিয়ে যায়নি।’

কিন্তু রাশেদ মিয়া ঐ বৈঠকের পর নতুন করে রনি সহ অন্য ৪ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় এজাহার দায়ের করেন।যাতে মারধরের অভিযোগ সহ তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।রাশেদ মিয়ার এজাহারে তিনি বলেছেন,আমাকে চাপ প্রয়োগ করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে মামলা প্রত্যাহারের কথা লিখে দিতে বাধ্য করেন। এ সময় আমি ভয়ে কিছু কথা বলি, যেগুলো তারা ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করছে।’

এ বিষয়ে বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান রাসেদের এজাহার পাওয়ার কথা বলেন।তিনি গনমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেই তা মামলা হিসাবে গ্রহন করা হবে।

পুরো বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজিম রনি মোবাইল ফোনে রাশেদের সঙ্গে কথা বলার সত্যতা স্বীকার করলেও কোনো ধরনের হুমকি দেননি বলে জানিয়েছেন।আর জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং হুমকির অভিযোগ প্রসংগে বলেন, মিমাংসার প্রস্তাব দিলে আমি তাকে থানায় বসতে বলি।কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রতারনার আরো ৭টি মামলার অযুহাতে সে মধ্যস্থতাকারীদের চসিক কাউন্সিলর কপিল ভাইয়ের বাসায় বসার প্রস্তাব দেন।যেহেতু একজন জনপ্রতিনিধি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি সেহেতু আমি তাতে সায় দেই।কিন্তু মিমাংসার কথা বলে, নিজের দোষ স্বীকার করার পরেও সে থানায় যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন আমার বিরুদ্ধে চলা দলের ও দলের বাইরের অপশক্তির ষড়যন্ত্রের অংশ।বায়েজিদ থানায় জমা দেয়া এজাহারের পর প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথেও পুলিশ কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।এজাহারের ঘটনায় বর্ননা দেয়া কোন অভিযোগের সত্যতা পুলিশ খুজে পাইনি।

এসময় রনি ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, রাশেদের মতো একজন প্রতারককে আমাদের দলের সিনিয়র একজন নেতা এই কাজে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছেন।শনিবার সকালেও আন্দরকিল্লায় বৈঠক করে রাশেদকে আমার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলায় সহযোগিতা করার কথা বলেছেন ঐ নেতা।আমাকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ক্ষতি করতে গিয়ে দলীয় ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হচ্ছে।আমি বারবার এমন ঘটনায় নিজের জীবন নিয়ে শংকাবোধ করছি।

এসময় রনি বলেন,মহিউদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যুর আগে ও পরে যে মানসিক নির্যাতন আমার উপর চালানো হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন।পদ পদবী অর্থের লোভ করিনা বলেই পদত্যাগ করেছি।মহিউদ্দিন ভাইয়ের অবর্তমানে যে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি চট্টগ্রামের চলছে তার খবর অবশ্যয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রেখেছেন বলেও জানান রনি।

Comments

comments

NEWSPOST24

No comments so far.

Be first to leave comment below.

Your email address will not be published. Required fields are marked *