মঙ্গলবার , ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

শিক্ষার্থীদের হাতে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা তুলে দিল কারা?

শিক্ষার্থীদের হাতে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা তুলে দিল কারা? শিক্ষার্থীদের হাতে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা তুলে দিল কারা?
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের এই দাবির সঙ্গে দেশের ১৬ কোটি মানুষ শতভাগ একমত পোষণ করে। কিন্তু এভাবে গণহারে গাড়ী ভাংচুর, জ্বালাও... শিক্ষার্থীদের হাতে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা তুলে দিল কারা?

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের এই দাবির সঙ্গে দেশের ১৬ কোটি মানুষ শতভাগ একমত পোষণ করে। কিন্তু এভাবে গণহারে গাড়ী ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও এবং শিক্ষার্থীদের হাতে এমন সব ঘুণিত ও নোংরা ভাষার প্লাকার্ড কেন? কারা এই প্লাকার্ড তাদের হাতে তুলে দিয়েছে? তাদের উদ্দেশ্য কী?

এই শিক্ষার্থীরা গণহারে যে অশ্লিল এবং উসকানীমূলক ভাষা ব্যবহার করছে তা নজিরবিহীন৷ এমন অশ্লিল ভাষায় স্বৈরাচার কিংবা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধেও কি আন্দোলন হয়েছিলো? দেশের আগামী প্রজন্মের এমন আন্দোলনের উদাহারণ সচেতন দেশবাসীকে শংকিত করছে৷ আসলে আমরা কোন পথে হাঁটছি? শিক্ষার্থীদের হাতের নোংরা প্লাকার্ডে একটা বিষয় পরিষ্কার, হয় আমাদের একটা অসুস্থ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, নতুবা এই আন্দোলনে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। তারাই নেপথ্যে কোমলমতি ছাত্রদের হাতে এই ধরণের নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার প্লাকার্ড তুলে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে।

প্রায় প্রতিটি দূর্ঘটনার পর গাড়ী ভাঙা এদেশে নতুন কিছু না৷ কিন্তু সেটা যখন সর্বত্র চলতে থাকে বিষয়টা মেনে নেয়া যায় না৷ শিক্ষার্থীদের দাবীর সাঙ্গে সবাই একমত কিন্তু তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে সংহতি জানানো কোন সুস্থ মস্তিষ্কের রুচিসম্মত মানুষের পক্ষে সম্ভব না। দেশে এখন হরতাল ডাকলেও কেউ সাড়া দেয় না৷ সবাই যে যার বাহন নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে তাতে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে৷ এখন চলছে সেই আন্দোলনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিত সৃষ্টির পায়তারা। যাকে বলা যায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার৷

যে বাক্য, শব্দ ব্যবহার করে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে প্লেকার্ড তুলে দেয়া হলো- এসব কি উসকানিমূলক নয়? পুলিশকে রাগিয়ে রাজপথকে অস্থিতিশীল করে কেউ কি শিক্ষার্থীদের লাশ নিয়ে রাজনীতি করার ষড়যন্ত্র করছে?

আর ক’মাস বাদেই জাতীয় নির্বাচন। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এ সময় বারবার শিক্ষার্থীদের সরকার ও পুলিশের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে৷ কোটা আন্দোলন থেকে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন- এ সবই সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিলো। কিন্তু কোটা আন্দোলনে আমরা পরবর্তিতে কি দেখলাম৷ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা বিরোধীদের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধীরাই মুল কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে এখনো কোন অপরাধ মানুষ দেখতে পায়নি। সবাই শতভাগ সহমর্মিতা প্রকাশ করছে, একাত্নতা ঘোষণা করছে। ফরাসি বিপ্লবের শিশু নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মতো আমাদের বাচ্চারা আজ একটি সুন্দর অহিংস আন্দোলন রাজপথ থেকে রাজমহলে নিয়ে যাচ্ছে আর মহানগর থেকে নিয়ে যাচ্ছে পাড়া গাঁয়। তাহলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে ঘৃণিত নোংরা ভাষা তুলে দিল কারা? তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী?

প্রতি যুগে প্রতি কালে গণমানুষের বিপক্ষে কিছু রাজাকার থাকে। সাতচল্লিশের বহুমুক্তিযোদ্ধা একাত্তরে রাজাকার হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা যেন মাটির জিকির না বুঝে রাজাকার না হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় বেইমান হওয়ার হাত থেকে সময় আমাদের রক্ষা করুন। কালের রাজাকার হওয়ার হাত থেকে কাল আমাদের রক্ষা করুন।

এই আন্দোলনে পুলিশের ওপর এতো বিষদগার কেন? কারণ বর্তমান পুলিশ তথা আইনশৃংখলা বাহিনী দেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থায় নিয়েছে। এই পুলিশের ওপর জামাত-শিবিরের সরাসরি আক্রমণ আমরা দেখেছি৷ আজ যখন পুলিশ কঠোরভাবে দেশ বিরোধী আন্দোলনগুলোকে রুখে দিচ্ছে, তখন কোন মহল এই শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে পুলিশ শিকারে চেষ্টা চালাবে সেটাই স্বাভাবিক৷

সর্বশেষ মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের লাগাতার অভিযান যখন মাদকের বংশ ধ্বংসের পথে, তখন পুলিশকে ভিলেন বানানোর পেছনে হাজার কোটি টাকার মাদক মাফিয়াদের হাত থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না৷

অবিলম্বে সরকারী গোয়েন্দা বিভাগকে এসব তদন্তের নির্দেশ দেয়া উচিত৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও কিছু গ্রুপ লাগাতার এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা বাঁশেরকেল্লা নামক যুদ্ধাপরাধিদের পক্ষে আগেও আমরা দেখেছি৷ এই পরিস্থিত যারা ঘোলাটে করছে, তাদের এখনই প্রতিহত করতে হবে- না হয় আবারো কোন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কবলে পড়তে পারে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend