শুক্রবার , ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীপের সাতকাহান !

বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীপের সাতকাহান ! বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীপের সাতকাহান !
মশিউর রহমান : আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ, একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের বুকে বিভিন্নভাবে  ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দ্বীপ। অনেক দ্বীপের নাম আমরা শুনেছি কিন্তু... বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীপের সাতকাহান !

মশিউর রহমান : আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ, একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের বুকে বিভিন্নভাবে  ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দ্বীপ। অনেক দ্বীপের নাম আমরা শুনেছি কিন্তু তাদের নাম কেন এমনটা হল এই সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। আসুন জেনে নিই কয়েকটি বিখ্যাত দ্বীপ ও তাদের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে।

সন্দ্বীপ

তিন হাজার বছরেরও পুরানো একটি দ্বীপ সন্দ্বীপ। এর নামকরণ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মতে, সাগরের মধ্যে বালির স্তূপের মতো দেখায় বলে ইউরোপিয়ানরা একে “Sand-heap” নামে ডাকতো। সেখান থেকে বর্তমান নামের উৎপত্তি। কেউ কেউ মনে করেন যে প্রাচীন স্বর্ণদ্বীপ হলো এর পূর্বনাম। এক সময় জাহাজ বানানোর জন্য দ্বীপটি বিখ্যাত ছিলো।

মহেশখালী দ্বীপdip pic

পর্তুগিজ পরিব্রাজক সিজার ফ্রেডারিকের বর্ণনা ও ড. সুনীতি ভূষণ কানুনগোর তথ্য অনুযায়ী ১৫৫৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মহেশখালী দ্বীপের সৃষ্টি হয়। ভৌগোলিকভাবে দ্বীপটির একটি আলাদা পরিচয় রয়েছে। মহেশাখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ।

সেইন্ট মার্টিনস দ্বীপ

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসাবে সেইন্ট মার্টিনস দ্বীপের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে এটি তিন অংশে বিভক্ত – উত্তর পাড়া, দক্ষিণ পাড়া ও মধ্য পাড়া। এর মধ্যে উত্তর পাড়ার আলাদা একটি নাম রয়েছে। মূলত নারিকেল জিঞ্জিরা নামে স্থানীয়রা দ্বীপটিকে ডাকেন।

তালপট্টি দ্বীপ

মাত্র ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে সীমানার দ্বন্দ্ব। ১৯৭০ সালের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের ঠিক আগে প্রথম এর অস্তিত্ব জানা যায়। ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের নজরে এলে তাঁরা নিজস্ব নাম দেয় দ্বীপটিকে। একটি নাম হলো পূর্বাশা, অন্যটি নিউ মুর।

কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া দ্বীপের সাথে জড়িয়ে আছে একটি বিখ্যাত বাতিঘরের নাম। বঙ্গোপসাগরে জাহাজ চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৮৪৬ সালে নির্মিত হয় এটি, যা পরবর্তীতে জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রাচীন বাতিঘর আসলে বহু আগেই সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যটকরা ভিড় জমান বাতিঘরপাড়ায়।

মনপুরা দ্বীপ

মনপুরা দ্বীপ বাংলাদেশের কোন ভোলা জেলায় অবস্থিত। এ জেলার পূর্বনাম শাহবাজপুর। মনপুরা দ্বীপের একটি কাহীনি নিয়ে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, নাম – “মনপুরা”।

 দুবলার চরnijum dip pic

দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে ছোট একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ দুবলার চর। দুবলার চর মূলত জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে চার মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজা, চট্রগ্রাম, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই চার মাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে আহরিত শুঁটকি চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জেরপাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের সদর দপ্তর বাগেরহাট থেকে মাছ সংগ্রহের পূর্বানুমতিসাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) কন্‌যাম্পশন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান, এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব। প্রতি বছর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেররাসমেলা এবং পূণ্যস্নানের জন্যও দ্বীপটি বিখ্যাত। যদিও বলা হয়ে থাকে, ২০০ বছর ধরে এ রাসমেলা হয়ে চলেছে এই দুবলার চর মূলত রাসমেলার জন্য বিখ্যাত।

 হাতিয়া দ্বীপ

কথিত আছে, বারো জন আউলিয়া মাছের পিঠে চড়ে বাগদাদ থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথে এ দ্বীপে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। দ্বীপটির অধিবাসীরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের দেশের ইতিহাসে সেখানেই প্রথমবারের মতো ইসলাম প্রচারিত হয়। দ্বীপের নাম হল হাতিয়া দ্বীপ।

নিঝুম দ্বীপ

নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত নিঝুম দ্বীপ মূলত কয়েকটি চর নিয়ে গঠিত। ইছা (চিংড়ি) মাছের সহজলভ্যতার জন্য এক সময় স্থানীয়ভাবে একে ইছামতির দ্বীপ বলা হতো। আবার বালির ঢিবির উপস্থিতির জন্য অনেকে বাইল্যার ডেইল নামেও ডাকতেন। তবে সরকারি জরিপ বিভাগ একজন মহিষ পালনকারীর (বাথানিয়া) নাম অনুযায়ী এর আনুষ্ঠানিক জরিপ করে বলে ধারণা করা হয়। জরিপের কাজে তাঁর সহায়তার জন্যই এমন নামকরণ। চর ওসমান নামে দ্বীপটি প্রথম পরিচিতি পায়।

 সোনাদিয়া দ্বীপ

সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অর্ন্তগত হোয়ানক ইউনিয়নে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি জীববৈচিত্রের দ্বীপ নামেও পরিচিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার জন্য সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

 

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend