পত্নীতলায় ক্ষতিকারক ইউকালিপটাস গাছের রোপণ বাড়ছে

1084

মো. আতাউর রহমান, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: গাছ পরিবেশের প্রকৃত বন্ধু। একথা সত্যি হলেও বাংলাদেশে এমন কিছু গাছ আছে যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য উপকারি নয়। এমনই একটি ক্ষতিকারক গাছ হলো ইউকালিপটাস। পরিবেশের জন্য এই ইউকালিপটাস গাছ চরম ক্ষতিকারক হলেও নওগাঁর পত্নীতলাসহ আশেপাশের উপজেলায় এই গাছের উৎপাদন, বিক্রয় ও রোপণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় ও সরকারীভাবে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা না থাকায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ এই গাছ রোপণের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। যার প্রধান কারণ হলো অতি অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে ইউকালিপটাস গাছ প্রয়োজনীয় অক্সিজের না ছাড়ায় এ গাছে কোন পাখি বসে না ও বাসা বাঁধে না। কথিত আছে যে, একটি ছোট শহরে বছরে যে পরিমাণ পানির দরকার হয় একটি ইউকালিপটাস গাছ সে পরিমাণ পানি শোষণ করে। এ গাছের কোন ডালপালা না থাকায় এখান থেকে কোন ছায়াও পাওয়া যায় না এবং অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি করে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে বাড়ির পাশে, পুকুর পাড়ে, রাস্তায়, পতিত জমিতে এবং ফসলের মাঠের আইলে মানুষ ইউকালিপটাস গাছ লাগিয়েছে। শুধু তাই নয় নজিপুর পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় এবং খোদ উপজেলা চত্বরে বিশাল বিশাল ইউকালিপটাস গাছ শোভা পাচ্ছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫/৭৬ সালে বনবিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ডঃ মোঃ সামসুর রহমান সরকারী সফরে অষ্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখান থেকে এ গাছের চারা নিয়ে আসেন এবং এ দেশে পরীক্ষামূলক ভাবে রোপন শুরু করেন। এ গাছ রোপনে চাষীরা লাভবান হওয়ার কারণে দ্রুত দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই গাছ সরকারি ভাবে রোপণ নিষিদ্ধ করা না হলেও নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকায় ব্যক্তি মালিকানায় শুধু ২০০৯ সালেই প্রায় ১৫ হাজার ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই গাছ লাগানো চলছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় অতিরিক্ত পানি বা মাটির রস শোষণ করে ও অন্যান্য গাছের তুলনায় অনেক বেশী খাবার খেয়ে থাকে । ঠাঁ, ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলে এ গাছ রোপন আরো বেশী ক্ষতিকর। এ গাছ পরিবেশ বান্ধব নয় ও এতে কোন পাখি বাসা বাধে না এবং এ গাছের গোড়ায় সহজে অন্যান্য গাছ-পালা জন্মায় না। ইউকালিপটাস গাছের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য তারা জনগণের অসচেতনতাকে দায়ী করেন এবং সরকারি ভাবে এই ক্ষতিকর গাছের রোপণ নিষিদ্ধের দাবী জানান। এছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফলদ ও বনজ গাছের রোপণ বৃদ্ধির জন্য তাঁরা জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

Comments

comments