বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

837

মোহাম্মদ সোহেল রানা, মনিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে উপচে পড়া ভিড় বাংলাদেশের বৃহত্তম জমিদার বাড়ি, বালিয়াটী বাড়িতে। মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী জমিদার বাড়িতে ঈদের ২য় দিন সকাল থেকেই ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে দুপর থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও পর্যটকদের কমতি নেই।

বালিয়াটী জমিাদর বাড়ির কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান জানায়,  বুধবার ২৭টি মুড়ি অর্থাৎ ৫৪ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে।  বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ছোট-বড় সব শ্রেণী-পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের এ জমিদার বাড়ি। ঈদের দিন বন্ধ থাকে এ বাড়িটি, পরদিন থেকে প্রচন্ড ভিড় হতে থাকে।

মানিকগঞ্জের যে কয়েকটি পর্যটক স্পট আছে তার মধ্যে অন্যতম ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের জমিদারবাড়ি হচ্ছে বালিয়াটী জমিদারবাড়ি। বালিয়াটী জমিদার বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, গেটে প্রচন্ড ভিড়। টিকিট কেটে লাইন ধরে জমিদার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছে। ভিতরে গিয়ে মূল ৪টি ভবনের সামনেই প্রচুর লোকজনের সমাগম।

ফুলের বাগানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ছবি তোলার ব্যস্ততা। পুরাতন ভবনের সামনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত দেখা গেল কয়েক পরিবারকে। আর পিছনের সাত ঘাটলা বিশিষ্ট পুকর পাড়ে বসে আছে কয়েক শতাধিক মানুষ।

ঘাটলা পাড়ে  কথা হয় টাঙ্গাইল থেকে আসা রুবেল,মারুফ এর সাথে। তারা জানান, একটু সুবজ ঘাস ও পুরাতন কীর্তি দেখতে চলে আসা বালিয়াটী জমিদার বাড়িতে। কতবার যে এসেছি তার শেষ নেই।

জমিদার বাড়ির কেয়ারটেকার মাসুদ, ইব্রাহিম জানান, মঙ্গলবার দুপর থেকে আকাশ মেঘলা থাকাতে প্রত্যাশিত পর্যটকের আগমন ঘটেনি। তবে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ৫-৬ হাজার পর্যটক আগমন করবে বলে আশা করছেন।

পরিবার পরিজন কিংবা প্রিয় জনকে সাথে নিয়ে বিনোদনের খোরাক জোগাদে ঈদুল আযহার ৩য় দিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে।

আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সব থেকে বড় জমিদার বাড়ি বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বৃহস্প্রতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছে লোকজন। শুধু দুরের লোকজন ই নয় স্থানীয় লোকজন ও পরিবার সহ দল বেধে ভীড় করছে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে।

জমিদার বাড়ির সামনে পার্কে বসেছে মেলা। মেলায় নাগড় দোলাসহ বিভিন্ন দোকানের পসরা বসেছে।আর ঈদের দিন মঙ্গলবর বিনা নোটিশে বালিয়াটী জমিদার বাড়ী বন্ধ থাকায় হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ফেরত গিয়েছে। যার ফলে সরকার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।প্রত্নতত্ত বিভাগ সিদ্ধান্তের কারনেই ঈদের দিন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় জমিদার বাড়ী বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছে এখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

অন্যান্য জমিদার বাড়ির চেয়ে একটু হলেও বাড়তি সৌন্দর্য খুজে পাওয়া যায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে। এ জমিদার বাড়ির প্রতিটি দেয়ালের পরতে পরতে সৌন্দর্যের ছোয়া। ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে পাশাপাশি বড় বড় চমৎকার কারুকার্যখচিত কয়েকটি ভবন।

ঢাকা থেকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। বালিয়াটির তৎকালীন জমিদার রাজচন্দ্র রায় চৌধুরি, ভৈরব রায় চৌধুরি, ঈশ্বর চন্দ্র রায় চৌধুরি ও ভগবান রায় চৌধুরি এরা চার ভাই মিলে ৫.৯৮ একর জমির উপর এ জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করে। শৈল্পিক কারুকার্যখচিত এ বাড়ির ভেতরে রয়েছে অপরূপ রং মহল।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সামনে রয়েছে বিশ্লা আকৃতির একতলা ভবন। ওই ভবনে থাকতো জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনী। একতলা ভবনের মূল ফটকের ওপরে রয়েছে সিংহদ্বার সহ চারটি তোরন। জমিদার পরিবারের সদস্যদের গোসল ও পুজা জল সংগ্রহের জন্য জমিদার বাড়ির ভিতরে সাত ঘাটলা পুকুর তৈরি করা হয়। এই পুকুরের এক পাশ দিয়ে করা হয় সুরঙ্গপথ । পথটি এই ভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে সহজেই শক্রর আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে এই সুরঙ্গপথে জমিদাররা আলেক নদী দিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। ওই সুরঙ্গপথটি এখন ও দেখতে পাওয়া যায়।

ধামরাইয়ের আফসার উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র মেহেদী হাসান ১৬ জন বন্ধু নিয়ে ঘুরতে এসেছে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে। সে জানায়, এবার ই প্রথম বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে এসেছে। অনেকের কাছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির গল্প শুনেছে। ঈদে কলেজ বন্ধ থাকায় বন্ধুদের নিয়ে জমিদার বাড়ি দেখতে এসেছে সে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দায়িত্বে থাকা গেস্ট কিলন টেকনিশিয়ান সঞ্জয় বড়–য়া জানায়, সারা বছর যে পরিমান দর্শনার্থী বালিয়াটি জমিদার বাড়ি আসে। তার থেকে অনেক বেশি পরিমান দর্শনার্থী আসে ঈদের সময়।

Comments

comments