রংপুরসারা বাংলা

খানসামায় উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

দিনাজপুর থেকে সিদ্দিক হোসেন : খানসামায় ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভূক্তভোগী অভিভাবকগণ মানববন্ধন করে।

খানসামার মারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক এই টাকা উত্তোলন ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকগন গত ৮ আগষ্ট প্রমাণপত্রসহ দ্বিতীয় দফা একটি অভিযোগপত্রও দাখিল করেছেন। এর আগেও একটি অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তুলসী রাণী, রমজান আলী, জবেদ আলী, বাবু প্রমূখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন গত ১৬ জুলাই ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ৬ মাসের করে উপবৃত্তি বিতরণ করেন। কিন্তু এই বিতরণে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। রেজিষ্ট্রারে লিখা রয়েছে এক অংক, আর বিতরণ হয়ে আরেক পরিমানের টাকা।

এতে কাউকে কাউকে ৪০০ টাকার মধ্যে ১০০ টাকা এবং ১২০০ টাকার মধ্যে ৬০০ টাকা প্রদান করা হয়। যা নিতান্তই অন্যায়। মানুষ গড়ার কারিগর একজন শিক্ষকের নিকট থেকে এমন অনৈতিক কর্মকান্ড প্রত্যাশা করা যায় না। বক্তারা বলেন, ঝরেপড়া শিশুসহ বিভিন্ন ভূয়া নামে টাকা উত্তোলন করেছেন প্রধান শিক্ষক। এভাবে তিনি মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করেন। চতুর প্রধান শিক্ষক মূল তালিকার উপর ফ্লুট লাগিয়ে তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অফিসে জমা দেয়। যা পরে অন্যভাবে প্রকাশিত হয়।

বক্তারা আরো বলেন, ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে স্কুলের নৈশপ্রহরী নূর আলমকে সাথে নিয়ে আশপাশের শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যান। তিনি অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে তাদের দেয়া অভিযোগপত্রের প্রত্যাহারপত্র তৈরি করে তাতে স্বাক্ষর নিয়ে শিক্ষা অফিসে জমা দেন। এমন শিক্ষক এলাকা ও সমাজের জন্য কলংক। তাকে এই স্কুল থেকে অন্যত্র বদলীসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নচেৎ ভূক্তভোগী অভিভাবকগন ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরূদ্ধে আরো বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে ফোন সংযোগ কেটে দেন। পরে তাকে আর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজেবুর রহমান জানান, পুনঃ অভিযোগ পাওয়ায় বিয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।

Comments

comments

আরো দেখুন

এমন আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Scroll Up
Close

Send this to a friend