রবিবার , ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
NEWSPOST24
নাজিরপুরে যুবলীগ নেতা চঞ্চলের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নাজিরপুরে যুবলীগ নেতা চঞ্চলের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর (পিরোজপুর) থেকে :  পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করার বহু অভিযোগ... নাজিরপুরে যুবলীগ নেতা চঞ্চলের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর (পিরোজপুর) থেকে :  পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করার বহু অভিযোগ ওঠলেও এতোদিন প্রাণের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। কিন্তু সম্প্রতি তারই স্বজাতি উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নিয়োগ বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের কাছে যুবলীগ নেতা চঞ্চল কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করেও স্থায়ী কোন সমাধান না পেয়ে এবার নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করার আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে।

chancal১০ জানুয়ারী মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাদারবাড়ী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক ও এমএলএসএস পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মাদারবাড়ী গ্রামের কৃষ্ণ কান্ত হালদারের ছেলে অনুপ কুমার হালদার ও বলরাম মৈত্রের ছেলে মিন্টু মৈত্র সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে এবং মৃণাল কান্তি ঢালীর ছেলে মিল্টন ঢালী এমএলএসএস পদে বিধি মোতাবেক আবেদন করেন।

কর্তৃপক্ষ গত ২৬ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য্য করে প্রবেশপত্র ইস্যু করেন। ইতোমধ্যে ওই তিন জন জানতে পারেন ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে মাদারবাড়ী গ্রামরে যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে শংকর দেব মন্ডল এবং ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এমএলএসএস পদে একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে শরিফুল ইসলামকে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার পূর্বেই নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস।

এ ঘটনা জানতে পেরে অনুপ কুমার হালদার, মিন্টু মৈত্র ও মিল্টন ঢালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি সরকারি সিরাজুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ২৬ ডিসেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে অতি গোপনে পুনরায় আজ ১১ জানুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য্য করে প্রবেশপত্র ইস্যু করেন এবং উৎকোচের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির চূড়ান্ত করা আবেদনকারীদের ইতোমধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার অভিযোগ এনে দুর্নীতির মাধ্যমে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে সচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে তারা আবেদন করেন।

ঘটনার বিষয়ে যুবলীগ নেতা চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, এখনও নিয়োগ পরীক্ষাই হয়নি। তাহলে দুর্নীতি হলো কিভাবে? আর উৎকোচ নেয়ারতো প্রশ্নই আসেনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ না করে নিয়োগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।’

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend