অপরাধ ও দুর্নীতি

বাগেরহাট কারাগারের অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্ত শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট জেলা কারাগারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। বাগেরহাট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তপন কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন এই অনিয়মের তদন্তকাজ শুরু করেছেন। সরকার যেখানে কারাগারের অনিয়ম দুর করে আধুনিকতার ছোঁয়ায় শোধনাগারের চেষ্টা করছে সেই মুহুর্তে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের অসৎ উদ্দেশ্য নানা দূর্নীতির আশ্রায় নেয়। বাগেরহাট কারাগারের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশ হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট মহলে।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মহাদ্বয়ের নির্দেশে কারাগারের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে শাসন বিভাগীয় তদন্ত চলছে। আশাকরি তদন্ত কাজ শেষে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে’।

একাধিক সুত্রে জানাগেছে, কারাগারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন না মেনে চলা, সরকারি বিধি মোতাবেক বাসা ভাড়া না দেয়া, বন্দীদের সাক্ষাতে অর্থ নেয়া, মসজিদের অনুদানের অর্থ আত্মসাত করাসহ বন্দীদের শারীরীক নির্যাতন এবং নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ খাবারের নানা অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে।

কারাগারের কয়েকজন বন্দির সাথে কথা বলে জানাগেছে, কারাগার মানেই একটি বন্দি জীবন। নানা সুবিধা-অসুবিধার মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয় এখানে। ‘জোর যার মুল্লুক তার, অনেক সময় কারা অভ্যন্তরে এ ধরনের ঘটনাও কম নয়’। তবে কেউ জানে না একজন বন্দীর জন্য সরকার দৈনিক তাদের কি পরিমান খাবারের বরাদ্দ দিয়েছেন। বাজার দরে কারা অভ্যন্তরে ক্যান্টিন চালু করা হলেও চড়া দামে কিনতে হয় পন্য সামগ্রী। প্রত্যেকটি দ্রব্যের মূল্যের ২-৩ গুন বেশি দামে বিক্রি করে। আর এই অর্থ কয়েকজন ভাগবাটোয়ারা করে নেয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারারক্ষী জানান।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রধান কারারক্ষী দেলোয়ার হোসেন প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার টাকা অবৈধ পন্থায় আয় করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছেন। বদলীর আদেশ আসলেও বিভিন্ন উপায় ম্যানেজ করে বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। ৮শ বর্গফুটের কোয়ার্টারে থাকলেও দুই বছরের বেশি সময় ধরে ভাড়া কর্তন করছেন না। ডেপুটি জেলারের কক্ষে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থায় জনপ্রতি ২-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় মসজিদেও উন্নয়নের নামে সাক্ষাতকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থও লোপাট করছে। ১৬টি কোয়াটারের প্রতিটিতে একটি করে পরিবারের বসবাসের নিয়ম থাকলেও সেখানে সাবলেট দিয়ে ২টি পরিবার বসবাস করছে। প্রতিটি বাসায় রান্নার জন্য অবৈধ হিটার ব্যবহার করা হয়।

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার নগরকান্দি গ্রামের বাদশা শেখ বলেন, আমার ঘনিষ্ট একজনের সাথে দেখা করতে আসলে প্রথমে ৫’শ টাকা চায়। পরে অনেক অনুরোধের পর দু’শ টাকা দিয়ে সাক্ষাত করি। শরনখোলার আলামিন বলেন, জেল খানায় স্বজনদের সাথে স্বাক্ষাত করতে গেলেই এক থেকে দেড় হাজার টাকা নিয়ে যেতে হয়। ওখানে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না।

বাগেরহাট কারাগারের সুপার গোলাম দোস্তগীর দূর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কারাগারে বর্তমানে কোন অনিময় নেই।

Comments

comments

আরো দেখুন

এমন আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Scroll Up
Close

Send this to a friend