আইন আদালতএক্সক্লুসিভজাতীয়

গ্রিন লাইনের ম্যানেজারকে হাইকোর্টে তলব

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে নির্ধারিত সময়ে ৫০ লাখ টাকা না দেয়ায় কোম্পানির ম্যানেজারকে আজ বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা। গ্রিন লাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ। গত ৩১ মার্চ রাসেল সরকারকে টাকা দেয়ার আদেশ বহাল রেখে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। ওইদিনই হাইকোর্ট ৩ এপ্রিল বুধবারের মধ্যে টাকা দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা আদালতে বলেন, গ্রিন লাইন পরিবহন আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। তখন গ্রিন লাইনের আইনজীবী অজি উল্লাহ আদালতে জানান যে, গ্রিন লাইনের প্রোপ্রাইটার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। এ সময় আদালত বলেন, কোথায় গেছেন? কবে ফিরবেন, কবে গেছেন? তাহলে তার ম্যানেজারকে ডাকুন। অন্যথায় তাকে অ্যারেস্ট করার ব্যবস্থা করবো? নাকি তার সমস্ত গাড়ি সিজ (জব্দ) করার ব্যবস্থা করবো? জবাবে গ্রিন লাইনের পক্ষের আইনজীবী বলেন, আমি ম্যানেজারকে জানাবো। এ সময় আদালত বলেন, তাকে আসতে বলেন দুইটার মধ্যে। অজি উল্লাহ বলেন, আমি দুইটার মধ্যেই কোম্পানির ম্যানেজারকে আদালতে আসতে বলছি। এরপর আদালত বিষয়টি দুপুর দুইটা পর্যন্ত মুলতবি রাখেন। গত ১২ মার্চ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার ওই আদেশ দিয়েছিলেন। ৫০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশের পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং কাটাপড়া বাম পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছিলো। এ আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে তা নাকচ করে দেয় আদালত। ২০১৮ সালের ১৪ মে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রাসেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত বাস কর্তৃপক্ষ তার কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। রিট আবেদনটি দায়ের করেন সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় শঙ্কায় পড়ে তার জীবন। পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

Comments

comments

আরো দেখুন

এমন আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Scroll Up
Close

Send this to a friend