শুক্রবার , ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
NEWSPOST24

প্রিয়া সাহা ও ‘শারি’র অবিশ্বাস্য দুর্নীতি প্রহসণের কড়চা

প্রিয়া সাহা ও ‘শারি’র অবিশ্বাস্য দুর্নীতি প্রহসণের কড়চা প্রিয়া সাহা ও ‘শারি’র অবিশ্বাস্য দুর্নীতি প্রহসণের কড়চা
প্রিয়া সাহার রাষ্ট্র বিরোধী মিথ্যাচারের নেপথ্য অনুসন্ধানে খোঁজ নেয়া হয় তার নিজের প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন সংস্থা ‘শারি’। সংস্থার কার্যক্রম ও আনুষাঙ্গিক বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে এর... প্রিয়া সাহা ও ‘শারি’র অবিশ্বাস্য দুর্নীতি প্রহসণের কড়চা

প্রিয়া সাহার রাষ্ট্র বিরোধী মিথ্যাচারের নেপথ্য অনুসন্ধানে খোঁজ নেয়া হয় তার নিজের প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন সংস্থা ‘শারি’। সংস্থার কার্যক্রম ও আনুষাঙ্গিক বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে এর ওয়েবসাইটে খোঁজ শুরু হয়। আর প্রথম থেকেই সামনে আসতে শুরু করে একের পর এক অপ্রত্যাশিত জালিয়াতি আর দুর্নীতির তথ্য। যার ভিত্তিতে প্রশ্ন ওঠে, একটি অবৈধ সংস্থার প্রধান কর্তাব্যক্তি কী করে হোয়াইট হাউজের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমন্ত্রণের যোগ্য বলে বিবেচিত হলেন?

একেবারেই শুরুতেই দেখা যায় প্রিয়া সাহার প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির নিবন্ধিত কোনো স্বীকৃতি তো দূরের কথা বৈধ অস্তিত্ব পর্যন্ত নেই তাহলে কে বা কারা এমন একজন ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিনিধিত্ব করবার জন্য নির্বাচন করলো, আর কেনইবা এটা করা হলো?

পর্যায়ক্রমে এই অনুসন্ধানটিতে যে সকল বিষয় প্রকাশ্যে আসে তার প্রেক্ষিতে বলা যায়- মানবাধিকার, নারী ও শিশু কল্যান এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার অর্জনের নামে যে মিথ্যাচার আর প্রহসনের পসরা সাজিয়েছে প্রিয়া সাহার সংস্থাটি তা সেবামূলক এনজিওগুলোর ইতিহাসে একটি অমোচনীয় কলঙ্কের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে চিরকাল।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক ‘শারি’ নামক সংস্থাটির সাংগঠনিক অবকাঠামো ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অপ্রত্যাশিত প্রহসনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক-

• ‘শারি’ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এর ইংরেজি নামের বানান লেখা রয়েছে ‘SHAREE’। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বাংলাদেশের নিবন্ধিত এনজিওগুলোর নামের তালিকা অনুসন্ধানে ‘শারি’ নামক দুটি সংস্থার সন্ধান পাওয়া যায়। যাদের ক্রমিক নম্বর ও নাম যথাক্রমে- ২০৫৯ Share (ঢাকাভিত্তিক) এবং ২০৬০ Share Bangladesh (খুলনাভিত্তিক)। অর্থাৎ SHAREE নামক সংস্থাটির কোনো নিবন্ধিত অস্তিত্ব সেক্ষেত্রে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

• সংস্থার ওয়েবসাইটে যে উইকিপিডিয়া লিংকটি সন্নিবেশিত রয়েছে তাতে প্রবেশ করলে সংস্থাটির নামসর্বশ একটি অপ্রস্তুত ফান্ডামেন্টাল উইকিপিডিয়া পেজ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নামমাত্র এই এনজিও সংস্থাটি সংগঠিত একটি প্রতারক চক্রের জালিয়াতির সাইনবোর্ড মাত্র। ধারনা করা হচ্ছে যে, সেবামূলক সংস্থার তকমা সেঁটে বিদেশি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি একটি বিশেষ মহলের রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত রয়েছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে বলাবাহুল্য, জাতিসংঘ ও তার সহযোগি সংস্থাগুলোসহ সেবামূলক সংস্থাসমূহের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি বা চক্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত এই শাড়ি সংস্থাটি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

• সংস্থাটির নাম, নীতিমালা, দর্শন, কার্যনীতি, উদ্দেশ্য বা পরিচিতি প্রসঙ্গে যে সকল তথ্য দেয়া রয়েছে সেগুলো পরস্পর সাংঘর্ষিক এবং অসংশ্লিষ্ট। যেমন:

► সংস্থটির নামকরণের বিশদ রূপটি একটি ত্রুটিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, Self-Help Associaion for Rural people through Education and Entepreneurship (SHAREE)।

► নামকরণে সংস্থার কার্যনীতি হিসেবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রামীন ব্যাংকের কথা। যাদের কার্যক্রমগুলো এই আওতাধীন ছিলো। অথচ নিজেদের পরিচয় পর্বের প্রথম বাক্যটিতেই তারা বলছে, এটি ‘নারী উন্নয়নমূলক’ একটি এনজিও সংস্থা!

► ‘শারি’ সংস্থাটির কর্মী ও রিসার্চ স্টাফ হিসেবে শুধুমাত্র নারীদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ থাকলেও ওয়েবসাইটে সন্নিবেশিত সংস্থার নিজেস্ব প্রজেক্ট রিসার্চ ও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় এর অধিকাংশই লিখেছেন পুরুষরা। আর এই লেখকদের কারো সম্পর্কে কোনো প্রকার তথ্যও সংযুক্ত হয়নি, যা বিধি বহির্ভূত।

► সংস্থার নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্যাদিও অনেকাংশে ভুয়া ও বানোয়াট তথ্য নির্ভর।

• ‘শারি’ সংস্থাটি তাদের নামকরণে নিজেদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে নিবেদিত সংস্থার নীতিধারক এবং পরিচিতি পর্বে নারী উন্নয়ন মূলক সংস্থার পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে যেমন অস্পষ্টতা সৃষ্টি করেছে তেমনি কার্যক্রমের বর্ণনায় আবার তুলে এনেছে বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রাপ্তির কথা। অর্থাৎ একেবারেই অগোছালো এবং অসংলগ্ন তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রহসন সৃষ্টির বিষয়টি পরিষ্কার।

• ওয়েব সাইটটিতে ২০১৩-২০১৫ সালের মাঝে একেবারে গড়পড়তা কয়েকটি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। যার অর্থ হচ্ছে বিগত কয়েক বছর যাবত আক্ষরিক অর্থে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে সংস্থাটি। আর যে কয়েকটি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায় তা যে প্রিয়া সাহাকে হোয়াইট হাউসের দরজায় দাড়ানোর মত যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নির্ধারন করে না তা যে কেউ বুঝে নিতে পারবে।

• সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং মুখ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রিয় বালা বিশ্বাস নামের একজন নারীর নাম উল্লেখ করা রয়েছে। আর হোয়াইট হাউসে প্রতিনিধি হিসেবে সেই একই নারী নামধারণ করেন প্রিয়া সাহা। আসলে তার নাম কোনটি আর কেনই বা এই নাম বদলের অপচেষ্টা এক্ষেত্রে এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

• সংস্থাটির অনুদান সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে পে-পাল একাউন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হলো, সেই একাউন্টি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুদান সংগ্রাহক একাউন্ট হিসেবে নয় বরং কোন এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত পে-পাল একাউন্ট anup04sust@gmail.com নামে সংযুক্ত!

Comments

comments

Scroll Up

Send this to a friend