প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশ আজ মৎস্যসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২০ ইং উপলক্ষে পিরোজপুরের নাজিরপুরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশ আজ মৎস্যসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় মৎস্য রপ্তানীকারক দেশ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। পৃথিবীর ৮০ ভাগ ইলিশ আজ এদেশের নদ-নদী সহ বঙ্গোপসাগরে উৎপাদন হচ্ছে।

বাংলাদেশে গত এক দশকে ‘প্রায় বিলুপ্তি’র মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক চাষ উভয়ভাবেই বাড়ছে মাছের উৎপাদন। যদিও গত কয়েক দশকে ১০০’র বেশি দেশি প্রজাতির মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে গত এক দশকে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই মুহূর্তে মিঠা পানির মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে। তবে এর বড় অংশটি ইলিশ।

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই ২৩টি প্রজাতির মাছকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন আরো ৭টি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৮০০ হ্যাচারিতে মাছের পোনা চাষ করা হয়, ২০০৮ সালে দেশে হ্যাচারির সংখ্যা ছিল ২৫ টির মতো। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে হাওড়-বাঁওড়, খাল, বিল, পুকুরসহ জলাশয়ের সংখ্যা বহুলাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছিল মিঠা পানির মাছের বহু প্রজাতি। ফলে গবেষণার মাধ্যমে সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়, যার ফল এখন বাজারে গেলে টের পাওয়া যায়। একেকটি মাছের প্রজাতি নিয়ে গবেষণায় সাফল্য পেতে অন্তত আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগেছে। পুনরায় ফিরিয়ে আনা মাছগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে।

দেশিয় প্রজাতির মাছের প্রত্যাবর্তন টিকিয়ে রাখা এবং আরো নতুন নতুন প্রজাতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আর এজন্য গবেষণা আরো বাড়াতে হবে।

পরে মন্ত্রী উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের ৮ জন মাঠকর্মীকে বাইসাইকেল প্রদান করেন। এ সময় ১১জন খামারীকে ঘর, গো-খাদ্য সহ বিভিন্ন উপকরন বিতরন করেন। একই দিন পরে মন্ত্রী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন  উদ্ভোধন করেন।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments