ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়ক পানির নিচে: যান চলাচল বন্ধ

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের ১৩ স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে তিনটি স্থান ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গত পাঁচ দিন যাবত ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে জেলার ও দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ সকল ধরনের যান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নড়িয়া ও জাজিরার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে ও ভেঙে যাওয়ায় গত পাঁচ দিন যাবত বাস বন্ধ রয়েছে। বন্যার কারণে জেলার অন্যান্য সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ। সামনে ঈদ, ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ শরীয়তপুরে আসবে। এ সময়টা বাস মালিক ও শ্রমিকদের ইনকামের সময়। বন্যার কারণে বাস বন্ধ থাকায় এক হাজার ৫০০ বাস শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকদের সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের গাগ্রীজোড়া, ডোমসার মোড়, কাজিকান্দি, ঢালিকান্দি, মাঝিরহাট বাজার, পোড়াকান্দি, ডগ্রী বাজার, নশাসন, জামতলাসহ ১৩ স্থানে পানি উঠেছে। পানির তোড়ে পোড়াকান্দি, জামতলা ও নশাসন এলাকা গভীরভাবে ভেঙে গেছে। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু সড়কটি পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে বন্যায় জেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। ত্রাণের নৌকা দেখলেই ভিড় করছেন মানুষ। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান শুক্রবার নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়ন, নড়িয়া পৌরসভা এবং শনিবার জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাট, পাইনপাড়া এলাকায় বন্যা দুর্গত মোট ৩৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম আহসান হাবীব বলেন, রবিবার সকাল ৯টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে পানি বাড়ার কারণে সড়ক ও নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments