প্রবৃদ্ধির তথ্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে: সিপিডি

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন একটি রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি নিয়ে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের মোহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রবৃদ্ধির তথ্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবেই প্রবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রবিবার (১৬ আগস্ট) ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাব: সিপিডির প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক অনলাইন বিফ্রিংয়ে এ কথা বলা হয়। ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সিপিডির পক্ষ থেকে জিডিপির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, রিচার্স ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আলোচনায় অংশ নেন।

বিবিএস থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এর আগে সিপিডির পক্ষ থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ সিপিডির দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে সরকার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার কথা দাবি করছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে।  এগুলো হচ্ছে-হিসাব পদ্ধতির মধ্যে অন্তর্নিহিত দুর্বলতা।  কারণ আমরা দেখছি, এখানে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের ভিত্তিতে এই হিসাবটি করা হয়েছে। যার ফলে পরবর্তী তিন মাসে অর্থনীতির কী হলো তার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।’

‘দ্বিতীয় বিষয় হলো-অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হালনাগাদ নয়। তার মানে নিয়মিতভাবে সেই তথ্যগুলো আহরণ করা হয় নাই। অনেক তথ্য অনেক পুরানো, তার ভিত্তিতে একটা প্রাক্কলন করা হয়েছে।’

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের ভিত্তিতে জিডিপির হিসাব করা হয়েছে। এই অর্থবছরে বাংলাদেশের এবং পৃথিবীর অর্থনীতিতে করোনার যে প্রভাব পড়েছে, সেই প্রভাবটা একটা ঐতিহাসিক এবং সর্বব্যাপী। এই প্রভাবটা কিন্তু আমরা জিডিপির হিসাবের মধ্যে তুলে ধরতে পারলাম না।’

তিনি বলেন, আমাদের দেশে মার্চ মাস থেকে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরপর থেকে লকডাউন দেয়া হয়েছে। সুতরাং অর্থনীতিতে এর প্রভাবটা শেষ প্রান্তিকে এসে বেশি বোঝা যায়।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে একটি মোহ সৃষ্টি হয়েছে। এটার কারণে প্রবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবেও ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শুধু একটা সংখ্যা নয়, এর পেছনে অনেক তাৎপর্য রয়েছে। যেমন মানুষের ওপর প্রভাব, নীতিমালার ক্ষেত্রে প্রভাব। কিন্তু এখন আমরা দেখছি, এটা একটা রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত হয়েছে।’

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই-মার্চে (২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত) একমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া আমদানি, উৎপাদন, বেসরকারি খাতের ঋণ, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ সবগুলো মিলেয়ে জুলাই-মার্চেই অর্থনীতিতে একটা শ্লথ গতি দেখছিলাম। তার পরে যোগ হয়েছে চতুর্থ প্রান্তিক। যেখানে প্রবৃদ্ধির তো প্রশ্নই আসে না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা বলছি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাস্তবতার সঙ্গে মিল খাচ্ছে না।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানগুলোর সঙ্গে সরকার যেসব কার্যক্রমগুলো নিচ্ছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে আমরা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments