বিএনপিই প্রমাণ করেছে তারা খুনিদের দল: তথ্যমন্ত্রী

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তার পরিবারের শাহাদত বার্ষিকীতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি প্রার্থনার পক্ষান্তরে তার ভুয়া জন্মদিন পালন করে বিএনপিই প্রমাণ করেছে তারা খুনিদের দল।

রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে সার্কিট হাউজ রোডে তথ্য ভবনের মিলনায়তনে ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখতে পাই এতদিন ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিনের পর তারা সেটি আর পালন না করার ঘোষণা দিলো। আবার গতকাল দেখলাম, ১৫ আগস্ট, যেদিন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে, সমগ্র বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহিদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ হচ্ছে, হত্যাকারীদের নিন্দায় বিক্ষোভ-সমালোচনা হচ্ছে, সেখানে তারা (বিএনপি) খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল করলো।

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই মিলাদ আপনারা ১৪ তারিখ করলেন না কেন? ১২ তারিখ বা ১৬ তারিখ করলেন না কেন? ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ করে বিএনপি আসলে তার জন্মদিন পালন করেছে, জনগণের চাপে সেটি বলতে লজ্জা লাগছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শুধু জিয়াই যুক্ত ছিলো না, খালেদা জিয়ারও সায় ছিল এবং তাদের দলটিই হচ্ছে খুনিদের দল। খালেদা জিয়ার জন্মের বিভিন্ন তারিখের ঘটনা যদি ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রে হতো, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, এমপি হওয়া বা রাজনীতি করারই অযোগ্য হতেন। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হতো।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার পাসপোর্টে একটা জন্ম তারিখ, বিয়ে রেজিস্ট্রারে আরেকটা, ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সময় আরেকটা, শিক্ষাগত সনদে আরেকটা তারিখ। আর সবশেষে এতদিন বলা নাই, কওয়া নাই হঠাৎ ১৯৯৫ সালে পত্রিকার পাতায় দেখলাম মান্নান ভূঁইয়া ঘোষণা করলেন- বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেছেন। তখন থেকে সেই তারিখে তারা কেক কাটেন। একটা মানুষের কয়টা জন্ম তারিখ থাকতে পারে। এরকম ঘটনা বাংলাদেশে আর কোনো মানুষের জীবনে আছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল প্রকৃত পক্ষে একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে হত্যা করার লক্ষ্যে। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুব দ্রুত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসে। সে কারণেই দেখতে পাই, জুলফিকার আলী ভুট্টো আগস্ট মাসের ১১ কিংবা ১২ তারিখ এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, এ অঞ্চলে একটি বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ হত্যাকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানিদের যোগাযোগ ছিল। সে সময় এই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের উল্লাসিত হওয়া, পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা বলা, এই ঘটনাগুলোই বলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে হত্যার লক্ষ্যে।

হাছান মাহমুদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত, শুধুমাত্র ক্যাপ্টেন মাজেদের জবানবন্দিতে নয়, কর্নেল ফারুকের বিদেশে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারসহ তার বহু প্রমাণ আছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন আজ থেকে শতবর্ষ পর ঠিক ইতিহাস জানতে পারে সেজন্য ইতিহাসের কাছে আমাদের দায় মুক্তির জন্য এগুলো জানা প্রয়োজন। সেজন্যই আজকে দাবি উঠেছে- একটি কমিশন গঠন করে যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলব ছিলো, তাদের মুখোশটি জাতির সামনে উন্মোচন করা। তাহলে পাঁচশ’ বছর প্রজন্ম জানবে যে, প্রকৃতপক্ষে একটি সদ্য স্বাধীন জাতিকে হত্যা করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments