আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে গণতন্ত্র থাকে না : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

‘আইনের প্রশ্নে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যখনই কোনও অপরাধীর বিচার করবেন না, তাদের প্রশ্রয় দেবেন, দায়মুক্তি দেবেন, তখন অপরাধীরা ভেবে নেয় অপরাধ করলে কিছুই হয় না, করে যাই। তবে বিচার বিভাগের কার্যকরভাবে স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে কাজ করার জায়গা আছে। একাডেমিক্যালি বিচার বিভাগ এখন কার্যত সম্পূর্ণ স্বাধীন।’

শনিবার দুপুরে (২২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সংস্কার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। 

মন্ত্রী এসময় বলেন, ‘বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী বার (আইনজীবী সমিতি)। বারের রাজনীতির প্রভাব কিছু কিছু সময় এত বেশি হয়ে যায়, তখন মনে হয় এটি কোনও রাজনৈতিক কার্যালয় হয়ে গেছে। আমাদের রাজনীতিকে রাজনীতির পরিসরে রাখা উচিত। বিচারিক অঙ্গনকে এমন কোনও পর্যায়ে নেওয়া যাবে না, যেন একজন আইনজীবী আরেকজনের পক্ষে কথা বলতে পারবে না। এই অবনতি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। এই অবনতির জন্য আমরাই দায়ী। তাই সেই অবনতি থেকে আমাদের উত্তরণ অবশ্যই প্রয়োজন। না হলে আমাদের বিচার বিভাগ থাকবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এ সম্পাদক বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও শক্তিশালী না হয়, তাহলে সে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন অর্থবহ হবে না। বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে স্বাধীন এবং শক্তিশালী করার ভেতর থেকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে গণতন্ত্র থাকে না। গণতন্ত্র না থাকলে মানবাধিকার থাকে না। মানবাধিকার না থাকলে সভ্যতা থাকে না। আর সভ্যতা না থাকলে আমাদের যা কিছু অর্জন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের সেই জায়গাটিকে ধারন করতে হবে। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে বিশ্বাস করে। আমার পক্ষে আসলে ঠিক আছে নইলে ঠিক নেই, বিচার বিভাগ নিয়ে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বিচার না করে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়-এ প্রসঙ্গ টেনে রেজাউল করিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর একটি ইনডেমনিটি অর্ডার জারি করেছিলেন খন্দকার মোশতাক। তাতে দুটি পার্ট ছিল। যার একটিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কৃত কর্ম নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। আরেকটিতে বলা হয়েছিল, ওই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের কৃতকর্ম বৈধ নাকি অবৈধ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কৌশলগতভাবে বলা হয়েছে, খুন এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা যাবে না। এটি কোনও আইন ছিলো না এবং এটি কার্যকর হয়নি। ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল সংসদে একটি বিল আসলো। এরপর ৬ এপ্রিল এই বিলের ওপর আলোচনা হলো। কিন্তু সেই আইন করার বিষয়ে বিরোধীতা সত্ত্বেও ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স পাস করা হলো এবং ৯ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সেটিতে সাক্ষর দিয়ে আইনে পরিণত করলেন। যার ফলাফল দাঁড়ালো বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যায় জড়িতদের আর বিচার করা যাবে না। এই আইন করার পর খুনিরা উচ্চস্বরে বললো, আমরা খুন করেছি পারলে কেউ গ্রেফতার করুক। এরপর দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলো।’

‘তাই পুলিশ বা র‌্যাবের দ্বারা যে দলেরই নেতাকর্মীরা ক্রসফায়ারের শিকার হোক না কেন, তাদের (আইনশৃঙ্খলাবাহিনী) জবাবদিহি করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর অনেকেই বলেছেন বিচার হবে না। সেই দাম্ভিকতা কিন্তু চূর্ণ হয়েছে। তিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বিডিআরকে নিয়ে অনেক শক্তি দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তার বিচার হয়েছে। সে কারণেই অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের আমরা প্রশ্রয় দেবো না।‘

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দরা।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments