0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

এই পোষ্টের পর আমার চরিত্র ধোলাই হয়তো হবে। চরিত্র নামক সংজ্ঞাকে উলঙও করে ফেলতে পারে , কে জানে? আবার নাও হতে পারে।

তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার আমি কিছু সেক্সুয়াল হিস্টরি শেয়ার করবো-

বাঙালী-১  আমার প্রাক্তন সঙ্গী- আমার যখন ভালো লাগতো তখনই সে আমার শরীর স্পর্শ করতো, তানা হলে ভুলেও আমার শরীর স্পর্শ করতো না, এই নিয়ে সে কখনো অনুযোগ/ অভিযোগও করেনি। তার এই ভদ্রতা তার অন্যান্য দোষত্রুটি গুলোকে কভার করে দিতো। 

বাঙালী-২ প্রেমিক – হ্যা, আমরা এডাল্ট চুমাচুমি হয়েছে, এটাই নরমাল। এক পর্যায়ে বিছানায় নিয়ে যেতে চাইলো , অসম্মতি জানালাম , প্রতিত্তরে আসলো  “ তুই কি ধরনের প্রেমিকা যে প্রেমিকের শারিরীক চাহিদা মেটাতে পারোস না।

(উপরের এই দুইজনকে নিয়ে আমি প্রিয়তীর আয়নায় লিখেছি, তাই একবারে পয়েন্টে কথা লিখলাম)

আইরিশ -১- বন্ধু সার্কেল : তখন আমি পাইলট ট্রেইনিং নিচ্ছি। এক পার্টির আয়োজন করা হয়েছিলো। আমি তখন নতুন নতুন জাস্ট এলকোহল অকেশনালি খাওয়া শুরু করেছি। দুই গ্লাস ওয়াইন খেলেই কাত । আমি জানি এটা আমার লিমিট । আমি হাতে গনা ২/৩ টা হার্ড ড্রিংকসের নাম জানি । এখনও তাই। পাইলটদের আয়োজনে পার্টিতে গেলাম , বাসা থেকে দুই ঘন্টা ড্রাইভ। বন্ধু একজন আমার বাসা থেক আমাকে পিক করে নিল। কথা ছিলো রাতে ১১/১২ টায় আবার আমাকে ড্রপ করে দিবে ।  

পার্টির আয়োজন ওপেন এয়ারে, তাবু ও বারবিকিউ স্টাইল। আমাদের পৌঁছাতে রাত ৮/৯ টা বেজেছে, ১৪/১৫ জন ছেলের মধ্যে আমি ছাড়া আর কোন মেয়ে নেই ওখানে। সবগুলা সন্ধ্যা থেকেই ড্রিংক করছে কিন্তু তাদের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ আছে, কি করছে ওরা বা কি বলছে। এক পাইলটের প্রেমিকা আসে সেখানে, তাদের একটু স্পেস দিয়ে আমরা অন্য কোণায় চলে যাই। মেয়েটা একটু পরেই আবার চলে যায়। সবাই গল্পে নিমজ্জন , খাবার চলছে সাথে তাদের ড্রিঙ্কস। আমি জানি আমার দৌড় দ্বিতীয় গ্লাস পর্যন্ত। আমার দ্বিতীয় গ্লাস খেয়ে টাল, টাল মানে টিপ্সি, আমার জ্ঞান রয়েছে। আমাকে আরেক গ্লাস নিতে অফার করার পর , আমি জানিয়েছি নো, আই এম ফাইন, এরপর আর একবারও কেউ ড্রিঙ্কস নিতে কেউ সাধেনি।

আড্ডায় আমরা এতোই নিমজ্জিত ছিলাম যে, ততক্ষনে যে রাত ১২/১ টা বেজে গিয়েছে আর খেয়াল করিনি। আমাকে যেই বন্ধু নিয়ে এসেছিলো সে ততক্ষনে ড্রাঙ্ক। যেই পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছি সেই এলাকায় এতো রাতে কোন ট্যাক্সি সেবা নেই।  আমার আড্ডা দিতে ভালো লাগছিলো, কোন রকম দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো না তবে একটাই প্রশ্ন বাসায় যাবোটা কিভাবে? এরকম কথা গুলো ভাবতে ভাবেতে সেই বন্ধু এসে বললো, ”মাক্সুদা আমি দুঃখিত এলকোহল নেয়াতে আমি আর ড্রাইভ করতে পারছি না, আজ রাতটা আমার বাসায় কাটাও, আমার বাসা কাছেই, আমি সকালে তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিবো।”

আমার ভিতরে কোন ভয় এক মুহূর্তের জন্য কেন কাজ করেনি আমি জানি না। কোন প্রশ্নও আসেনি। কেন আসেনি? সবাই কিন্তু তখন বেশ টাল।

সময়টা মনে নেই, গভীর রাতে কোন এক সময় সবাই যার যার বাসায় গেলো, আমি গেলাম আমার বন্ধুর সাথে। বন্ধু থাকে একা একরুমের বাসায়। বন্ধু বললো, ”আমার একটা মাত্র বিছানা, তুমি কি মাইন্ড করবে বিছানা আমার সাথে শেয়ার করতে?” আমি নিজেও হাল্কা ড্রাঙ্ক, জ্ঞান থাকলেও যোগবিয়োগ করার/ ক্রিটিক্যাল ভাবার মনে হয় না সেই ক্ষমতা ছিলো। আমার বন্ধু আমাকে আশস্ত্ব করতে বললো, ”আমি ড্রাঙ্ক অবস্থায় কোন নারীকে স্পর্শ করি না, এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়।” আমি তখন নতুন নতুন পশ্চিমা/ আইরিশ কালচারের সাথে মেশা শুরু করেছি, তার এতো কথা আমি বুঝি না, আমি খালি দেখছি , তার প্যান্টের নিচে থেকে কিছু একটা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে আছে, আর ইংরেজি ছবি তে দেখেছি, রুমে ঢুকলেই ওরা চুমাচুমি করে সেক্স করে। কিন্তু সেগুলো কিছুই হচ্ছে না। বিছানা দেখিয়ে বললো, ”শুয়ে পরো”, আমি শুলাম, সেও পাশে শুইলো। সারারাত তার একটা চুলের স্পর্শ আমার গায়ে লাগেনি অর্থাৎ সে আমাকে স্পর্শ করেনি এক বিছানায় শোয়ার পরও। আমার আর ঘুম হয়নি। সকাল হতেই সে আমাকে বাসায় পৌঁছে দিলো। সে এখনো আমার খুব ভালো বন্ধু। 

আমার একমাত্র আইরিশ প্রেমিক-২:  লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলতে যা বোঝায় আমাদের দুইজনের মধ্যে তাই হয়েছিলো। আচ্ছা তাকে নিয়ে আরেকদিন গল্প করবো। সংক্ষেপে কিছু কথা বলি, মেয়েদের এই ব্যাপারটি হয় যে, আদর পেতে ইচ্ছে করে কিন্তু পূর্ণ যৌন মিলনের ইচ্ছে সব সময় হয় না। এটি অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতার উপরও নির্ভর করে। নারীর দেহে স্পর্শ করার অনুমতি দেয়া মানে যে সেই নারী সেই মুহূর্তে পূর্ণ যৌন মিলনের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে, তা কিন্তু সব সময় নয় সুতরাং কোন নারী যৌন সম্পর্কের সময় কোন পর্যন্ত যেতে চায় , কোন পর্যন্ত স্বস্তিবোধ করে, সেটি পুরুষদের বোঝা ও মেনে নেয়া অত্যন্ত জরুরী। যা আইরিশ পুরুষেরা খুব ভালো করে জানে , মানে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।   

এমনটি অনেক বার আমার এই আইরিশ প্রেমিকের সাথে হয়েছে যে, যৌন উত্তেজনায় চরম পর্যায়ে যদি আমি তাকে থেমে যেতে বলেছি , সে কোন ধরনের টু-শব্দ না করে , কোন ধরনের বিরক্ত প্রকাশ না করে শরীরের উপর থেকে নীরবে সরে গিয়েছে। আমি কিছুটা অপরাধবোধ থেকে সরি বললে, উত্তরে ও বলতো,” না না, সরি বলার কিছু নেই, ইটস কমপ্লিটলি ওকে, না মানে না। তোমার ইচ্ছা না-ই জাগতে পারে।” হরমোন আর রক্তের তাড়নায় তার যে শরীরের অঙ্গটা সম্পূর্ণ জেগে উঠেছিলো সেটি নিয়েই সে পাশে চুপচাপ সরে যায়। আমি জানি না, তারা নারী/নারীদের শরীরকে এমন সম্মান দেয়া কোথা থেকে শিখেছে?  কোথায় শিখেছে নিজেদের যৌন তাড়না এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে? কোথায়, কিভাবে?  স্কুলে শিখেছে নাকি বাড়িতে? আমি জানি না… তবে দিন দিন শ্রদ্ধা বাড়ে তাদের প্রতি। 

আইরিশ সার্কেল ৩- ফটোগ্রাফার : এক ফটোশুট পর মডেলস আর ফটোগ্রাফার মিলে গেলাম ডিনারে। ড্রিংক্স ছাড়া কোন খাবার ওরা যেহেতু ভাবতে পারে না, স্বাভাবিকভাবেই খাবারের সাথে এরা ড্রিংকসের অর্ডারও দিলো। আমি দিলাম আইরিশ বেইলিস, এর স্বাদ বেশ মিল্ক শেইকের মতো , খুব সহজেই ৩/৪ প্যাক পান করা হয়ে যায়। আমি খেয়ে টিপসি হয়ে আছি, ঠিক তেমনটি ওরাও (কাহিনী সংক্ষেপ করছি)। আমার কেনো যেনো হঠাৎ করে ফটোগ্রাফারকে চুমাইতে মন চাইলো, এপ্রোচ করলাম, তিনি বাঁধা দিয়ে বললেন, “অ-অহ্ মাকসুদা , তুমি কিস করতে চাইলে কাল করো পুরোপুরি চেতন থাকা অবস্হায় করো, এখন তুমি / আমরা একটু ড্রাংন্ক, এই অবস্হায় এমন কিছু হলে সারাজীবন আফসোস করবে যে, কেনো করেছো?”

স্বাভাবিকভাবেই সরে এসছি। পরেরদিন মনে পরতে ঠিকই ভাবছিলাম, “ওহ্ শিট , আমি কি তারে চুমা দিতে গেছিলাম ? ছিঃ ছিঃ ” । এরপর থেকে তিনি আমাকে দেখলে কিছুই হয়নি এমন স্বাভাবিক থাকলেও আমি নিজেই বিব্রত হতাম মনে মনে। উনার স্বাভাবিক আচরনে আমাকে ধীরে ধীরে নিজেও ভুলে স্বাভাবিক হলাম , একসাথে আরও কাজ করলাম।

এরপর থেকে আমি পুরোদমে নিজ নিয়ন্ত্রন করা বুঝে গিয়েছি এবং জানি।

বাঙালী ৩- বন্ধুঃ আমার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু নিয়ে গেলো বেড়াতে। বেড়ানোর নাম করে সে ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করলো কিভাবে আমার শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পরা যায়, কিভাবে যৌন নির্যাতন করা যায়  এবং তাই করলো (কি কি করলো তার বিস্তারিত আর গেলাম না)। আমি কোন রকম স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে প্রানে বেঁচে আসলাম। আমি যেনো মুখ না খুলি, ভয় পেয়ে যাই, তাই আগে ভাগেই সে নিজে সরাসরি নয় , সুকৌশলে তার নারীবাদী বান্ধবী দিয়ে আমার ‘চরিত্র’ খারাপ, ভণ্ড, মিথ্যুক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত করতে সাইবার বুলিং শুরু করলো। ফেসবুকে মব তৈরি করার চেষ্টা করলো।  তাদের সাথে আরও কিছু  নারীবাদীরা ( আমি তাদের কাউকেই নারীবাদী বলিনা, অন্যরা বলেন। আমাকে কেন যেনো তারা দেখতে পারে না, কেন দেখতে পারে না, তাও জানি না, কারণ আমার সাথে কখনো কারোর ঝামেলা হয়নি) যোগ দিলেন। অন্যান্য বেশ কিছু নারীবাদীরা চুপ করে বসে বসে ফেসবুক মজা নিলেন। তা উনারা নিতেই পারেন, আমার কারোর প্রতি কোন অভিযোগ নেই। কারণ আমি কারোর কাছ থেকে কিছু আশা করিনি।

ফেসবুকে সিন্ডিকেট করে কারোর বিরুদ্ধে( ব্যাক্তি আক্রমণের জন্য) মব তৈরি করা বা ফেসবুক ট্রায়ালের ঘটনা বিশ্বের অন্য কোন জাতি বা দেশে হয় কিনা আমার জানা নেই, কারন ওদের এতো সময় নেই ।

আমি নীরবে তাদের তামাশা দেখলাম, তাদের শিক্ষাগত (একাডেমিক নয়) মান ও রুচি দেখলাম।  

আমরা যখন পুরুষতান্ত্রিক/ পিতৃতন্ত্র সমাজে নিজেদের ন্যায্য অধিকার পেতে লড়াই করি, সেই তখন নারীরাই যখন নারীদের পিছন থেকে কামড়ে ধরে তখন সত্যি হাঁপিয়ে উঠি।

আমি তাদের প্রতি কোন সময় ও জীবন শক্তি ক্ষয় করিনি (নিজের বন্ধু এতো বড় নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটিয়েছে, তার চেয়ে বড় আর কি ঘটনা হতে পারে?) কারণ আমার এদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমার জীবনে আছে। আমি আমার চালনাশক্তি আরও জোরদার, আরও শক্ত করলাম। আমি তাদের পাত্তা না দিয়ে আমার নিজের মন্ত্র নিজেই বার বার পড়া শুরু করলাম, ”ফেসবুক আমার সামাজিক মর্যাদা নয়, আমি ঐ সমাজে বসবাস করি না এবং ফেসবুকের মানুষেরা আমার বিল পরিশোধ করে না। আমাকে যারা ব্যাক্তিগত ভাবে চিনেন তারা জানেন আমি কি এবং কেমন।”

ফেসবুকে দেশ ও নারী অধিকার নিয়ে তাদেরকে বড় বড় বুলি উড়াতে দেখি, আমি দেখে হাসি, পাতা উল্টিয়ে চলে যাই। কারণ আমি জানি, ওরা ভালো করেই জানে ভিতর থেকে ওরা নিজেরা কত ফাঁকা।

আমার তাদের জন্য করুনা হয়। আমার তাদের সবার জন্য করুনা হয়।

লেখক: বৈমানিক, মডেল ও মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments