ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে হত্যার আরো একটি অভিযোগ

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ঝিমংখালীতে ক্রসফায়ারের নামে মিজানুর রহমান নামের একজনকে হত্যার অভিযোগ এনে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে নিহত মিজানুর রহমানের বোন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা নূর নাহার বাদী হয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) হেলাল উদ্দিনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে ১১ জন পুলিশ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন দফাদার রয়েছে।

আদালত বিকেলে শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা আগামী ধার্য তারিখে জানাতে টেকনাফ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলকারনাইন জিল্লু জানান, ভিকটিম মিজানুর রহমান মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনা করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৫  এপ্রিল সকালে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ মসজিদ মার্কেটের দোকান থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পরে ওসির নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে তাঁর  বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং মিজানের পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজানের পরিবার ধার-কর্জ করে দুই লাখ টাকা দেয়। বাকি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রাত পৌনে ১২টার দিকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে মিজানুরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন নিহত মিজানুর রহমানের বোন নূর নাহার। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত ৬ আগস্ট। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬ জনকে কথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। আজসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৩টি হত্যা মামলা দায়ের করা হলো। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে আরো একটি মামলা হয়েছে। এর বাইরে আরেকটি হত্যা মামলার জন্য আবেদন করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

এর আগে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামে প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments