রাজধানীতে অসুস্থ স্বামীর রক্ত জোগাড়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ স্বামীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় ধর্ষক মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব (৪৩) এবং ধর্ষণে সহায়তাকারী মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এই শিল্পী মিরপুরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মিনি পতিতালয় চালিয়ে আসছিল। র‌্যাব বলছে সেখানে প্রতিদিনই একাধিক নারী পুরুষ  অসামাজিক ও অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে যেত। গ্রেপ্তারকৃত শিল্পী অনেকের কাছেই মিরপুরের মিনি পতিতালয়ের মক্ষীরাণী হিসেবে পরিচিত। ইতোমধ্যে এই নারীর কাছ থেকে এমন অন্ত্যত ২০ জনের নাম-পরিচয় পেয়েছে র‌্যাব। তাদের মধ্যে কোনো কোনো নারী রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকার ভাষমান পতিতা রয়েছে, যারা ক্লাইন্ট নিয়ে ওই শিল্পীর বাসায় যেত।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শিল্পী মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলা নামের ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এসব অপকর্ম চালাতো। শিল্পীর সাথে সজীবের অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত দু’জনেই স্বীকার করেছে। ধর্ষণের ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঘটলেও ভূক্তভোগী দম্পত্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২।

র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী নারী গুরুতর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করান। দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বামীর জন্য রক্ত প্রয়োজন বলে জানান এবং জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করার পরার্মশ দেন।

ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ব্লাড ব্যাংকের সামনে গিয়ে ৩-৪ জন পুরুষকে বসা দেখতে পেয়ে রক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব রক্তের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান। প্রথমে ওই নারীকে সজিব রাজধানীর শান্তিনগরের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে যান। সেখানে রক্ত না পেয়ে হঠাৎ সজিব ফন্দি আঁটেন এই দুর্লতার সুযোগে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবেন। সেই মোতাবেক সজিব ওই নারীকে রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে কৌশেলে দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুরে শিল্পীর ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ওই বাসায় নিয়ে শিল্পীর সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে সজীব।

র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী নারী লোকলজ্জার ভয়ে ও স্বামীর অসুস্থতার কারণে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর সেই একইদিন সন্ধ্যায় ওই নারীর স্বামীর মোবাইলে কল করে সজীব বলে রক্তের ব্যবস্থা হয়েছে- আপনার স্ত্রীকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পাঠিয়ে দেন। তখন ওই নারী পুনরায় ধর্ষিত হওয়ার ভয়ে তার স্বামীকে বিষয়টি খুলে বলেন।

এরপর তারা দুজন র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বরাবর অভিযোগ করলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া য়ায়। এ প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল মনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ার শিল্পীর সহযোগিতায় ভিক্টিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। শিল্পীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানায় মনোয়ার। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments