বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার সব আসামি খালাস

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায়ে সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের একটি বিশেষ আদালত। রায়ে আসামি বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি, উমা ভারতীসহ ৩২ জনকে আজ বুধবার খালাস দেন লক্ষ্ণৌর একটি বিশেষ আদালত। রায়ে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস কোনো পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা নয়।   

প্রায় ২৮ বছর পর আজ বুধবার আলোচিত বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। উত্তর প্রদেশ রাজ্যের লক্ষ্ণৌয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো-সিবিআইর বিশেষ আদালত এ রায় দেন। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে এল কে আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি ও উমা ভারতী আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতে যোগ দেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল করসেবকরা। তাদের দাবি ছিল, ওই স্থানে রাম মন্দির ছিল। ঘটনার পর লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি, উমা ভারতীর মতো বিজেপি নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করা হয়। সেই মামলার তদন্ত করে সিবিআই। বিশেষ সিবিআই আদালতকে রায়দানের জন্য (আজ) ৩০ সেপ্টেম্বর ডেডলাইন দিয়েছিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ১০ মাস পর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় সিবিআই। চার্জশিটে ভারতীয় রাজনীতির প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে নাম ছিল লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি ও উমা ভারতীর। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার, সাক্ষী মহারাজ, ভিএইচপি নেত্রী সাধ্বী ঋতম্ভরা এবং রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সভাপতি নৃত্য গোপাল দাস ও সম্পাদক চম্পত রাইয়ের নামও চার্জশিটে দেয় সিবিআই। সব মিলিয়ে ৪৮ জন ছিলেন অভিযুক্তের তালিকায়। দীর্ঘ ২৮ বছর মামলা চলাকালে অভিযুক্তদের মধ্যে ১৬ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া ও শিবসেনা সুপ্রিমো বাল ঠাকরে।

আটাশ বছরে নানা নাটকীয় টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলা। ঘটনার পর সাবেক ফৈজাবাদ জেলায় পুলিশ দুটি এফআইআর দায়ের করে। ১৯৭ নম্বর এফআইআরে অজ্ঞাতপরিচয় লাখো করসেবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। লক্ষ্ণৌর আদালতে শুরু হয় মামলা। আর ১৯৮ নম্বর এফআইআরে আদভানি, যোশি, উমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়। রায়বেরেলির আদালতে শুরু হয় মামলা। তদন্ত শুরুর পর ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে দুই মামলায় যৌথ চার্জশিট দেয় সিবিআই। মোট ৪৮ নেতার বিরুদ্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও মসজিদ ধ্বংসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। এরপর ২০০১ সালে আদভানিসহ ১৪ নেতাকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন নিম্ন আদালত।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments