নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের ঘটনা ষড়যন্ত্র হতে পারে: আইনমন্ত্রী

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনা ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

তিনি বলেন, এমন বীভৎসতা স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। বিশেষ করে বিবস্ত্র করার পর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে আপলোড করা ভয়ঙ্কর এবং কুরুচিপূর্ণ ঘটনা। অধিকতর তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গণমাধ্যমের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটিকে একটি নিছক সামাজিক অপরাধ বলা যায় না! মিডিয়ায় নির্যাতনের বর্ণনা দেখলাম। গা শিউরে উঠল! এর থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না। আমার কাছে ষড়যন্ত্র মনে হয়েছে। তবে তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে।

‘কী কারণে ষড়যন্ত্র মনে করছেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধীদের আটক করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হবে। জিজ্ঞাসাবাদেই সব বেরিয়ে আসবে। বিচারের ব্যাপারে আপনারা অবগত। আমাদের প্রসিকিউশন শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে। এমন মামলাগুলো সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমলে নিয়ে আমরা অ্যাকশনে যাচ্ছি। অপরাধীরা সাজাও পাচ্ছে। এটি তো প্রমাণিত হচ্ছে। এই ধারা চলবেই।

‘আপনি বলছেন, বিচার হচ্ছে। কিন্তু অপরাধের ভয়াবহতা বাড়ছেই’ এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কী কারণে সমাজের এই অস্থিরতা, তা আগে নির্ধারণ করতে হবে। অস্থিরতা, কুরুচি, নাকি ষড়যন্ত্র তা নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্যাতনের সময় ভিডিও করে তা আপলোড করার বিশেষ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। এসব অপরাধ কেন ঘটছে আমরা সিরিয়াসলি খুঁজে বের করব।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার (৪ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে তারা মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

এদিকে, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অনলাইন মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। বিটিআরসিকে বলা হয়েছে, একটি ভিডিওর কপি সংরক্ষণে রাখতে। ২৮ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments