সন্ত্রাস দমন নিয়ে (ইইউ) দেশগুলোর যৌথ বিবৃতি

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

তিন আত্মঘাতী ইসলামিক স্টেট—আইএস সদস্য ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর সমন্বিত হামলা চালিয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। তাদের হামলায় প্রাণ হারান ১৩০ জন মানুষ। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয় প্যারিসের বাতাক্লঁ কনসার্ট সেন্টারে। সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় বাতাক্লঁতেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯০ জন। হামলায় আহত হয় ছয়শোরও বেশি মানুষ। প্যারিস হামলার পাঁচ বছরের দিনটিতে গত ১৩ নভেম্বর সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনায় বসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ বিষয়ে প্রকাশ করলেন একটি যৌথ বিবৃতি।

যদিও কথা ছিল ইইউর সার্বিক অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়নীতি নিয়েই আলোচনা করবেন মন্ত্রীরা, কিন্তু কথায় কথায় আলোচনার মোড় ঘুরে যায়। উঠে আসে ইউরোপে সশস্ত্র ইসলামিক গোষ্ঠীদের নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ। সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে ইইউর মন্ত্রীরা বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করে এই নৃশংস সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়ব।’ বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয় ইন্টারনেটে কথিত ইসলামিস্টদের প্রোপাগাণ্ডা নজরদারি, সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানো এবং তথ্য ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট জেহোফার এ বিবৃতিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একজোট হলে ইউরোপ ‘সুপার পাওয়ার’ হতে পারবে।

অনলাইন কথোপকথনে নজরদারি

ইইউ মন্ত্রীরা যে কয়টি পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তার কয়েকটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তিগত অনলাইন কথোপকথনে কর্তৃপক্ষের নজরদারির বিষয়টি।

জার্মান মন্ত্রী জেহোফার নিরাপত্তার খাতির এ ধরনের নজরদারিতে সায় দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জানা গেছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলো এরই মধ্যে হোয়াটস্যাপের মতো চ্যাটিং অ্যাপগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে।

কিন্তু জার্মান রাজনৈতিক মহলে এই চিন্তার বিরোধিতাও এর মধ্যে দেখা গেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য জার্মান পাইরেট পার্টির প্যাট্রিক ব্রেয়ার বলেন, ‘কয়েকজন যারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে, তাদের কারণে যারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছেন না, তাঁদেরও এই প্রযুক্তি থেকে আমরা বঞ্চিত করব কিনা, তা ঠিক করতে হবে। নাকি আমরা বলব যে নিরাপদ কথোপকথনই আমাদের সমাজের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

অন্যদিকে জেহোফারের যুক্তি, ‘কোনো সন্ত্রাসী হামলার পরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসন ও রাজনীতিকদের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে হামলা ঠেকাতে যথাযথ ক্ষমতা দেওয়া হয় না।’

অভিবাসন নীতি নিয়েও প্রশ্ন

ইইউর বৈঠকে জেহোফার ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন যদিও জোর দিয়ে বলেছেন যে অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করা উচিত, বিবৃতিতে ধরা পড়ছে একটু ভিন্ন মত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের আধুনিক, বহুত্ববাদী ও উন্মুক্ত সমাজকে সংহত রাখতে সাম্যের প্রয়োজন। পাশাপাশি, সবাইকে এই ধারণার সঙ্গে একাত্মবোধ করতে হবে। স্বচ্ছ অর্থায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয়, নাগরিক ও ধর্মীয় সংস্থার বিরূপ প্রভাব সীমিত করতে হবে।

কিন্তু ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরেক সদস্য, গ্রিন পার্টির এরিক মারকার্ডট এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি মনে করেন যে এ বছর ভিয়েনায় এবং ২০১৫ সালের প্যারিসের হামলায় অভিযুক্তরা ছিল ইইউ নাগরিক। ফলে, সন্ত্রাসবাদকে শুধু অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করায় অমত তাঁর। তাঁর মতে, ‘ইসলামিস্ট ব়্যাডিকালাইজেশন একটি ইউরোপীয় সমস্যা। এ সমস্যাকে এখান থেকে কোথাও ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments