
আইন ধনীদের জন্য বেশি এগিয়ে চলে। এর কারণ হলো ধনীদের অর্থ আছে। তারা ভালো আইনজীবী রাখতে পারেন। আইনজীবীর পেছনে ভালো অর্থ খরচ করতে পারেন। যার কারণে আইন ধনীদের দিকে বেশি ধাবিত হয়। এটাই বাস্তব বলে মনে করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম। একই সঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ‘লিগ্যাল এইড ইন বাংলাদেশ, সার্ভ হিউম্যানিটি অ্যান্ড সেভ সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সরকারের অসহায়ত্ব তুলে ধরে বিচারপতি জাহাঙ্গীর
হোসেন সেলিম বলেন, গরীবের অর্থ নেই। ফলে আইন তাদের পক্ষে অনেক সময় থাকে না। কারণ তারা
ভালো আইনজীবী রাখতে পারেন না। ফলে তারা ভালো আইন উপস্থাপন করতে পারেন না। কিন্তু যারা
অর্থ ও সম্পদশালী তারা ভালো আইন, ভালো নজির ও শুনানি উপস্থাপন করতে পারেন। এ কারণে
দুস্থ ও গরীব বিচার প্রার্থীদের আইনি সেবা দেওয়ার জন্য ২০০০ সালে লিগ্যাল এইড প্রতিষ্ঠা
হয়েছে।
তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের দায়িত্ব রাষ্ট্র
নিজেই নিয়েছে। এখানে কোনো বিচার প্রার্থীর একটি পয়সাও খরচ করার সুযোগ নাই। তাই লিগ্যাল
এইডের ধারণা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
গণমাধ্যম প্রতিনিয়তই সেই ভূমিকা পালন করে চলেছে বলে জানান তিনি।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, সংবিধানের
২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে আইনের চোখে সবাই সমান। সকলেই আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। কিন্তু
আমার মনে পীড়া দেয়, আদৌ কি আমরা ইক্যুয়াল প্রটেকশন পাচ্ছি, ভেবে দেখবেন। অসহায়, দুস্থ
বিচার প্রার্থীদেরকে কি ঠিকমত লিগ্যাল সাপোর্ট দিতে পারছি? আমার মতে, পারছি না। এজন্য
সম্মিলিতভাবে সকলকে নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করতে হবে। যদি এটা করতে পারি তাহলে অসহায়
ও দুস্থ মানুষকে সহায়তা করতে পারব।
তিনি বলেন, গরু-মহিষ নিয়ে শ্বশুর ও জামাইয়ের
দ্বন্দ্ব সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সমাজের কিছু অবক্ষয়ের কারণেই এ রকম হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে শিক্ষিত জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। আগে নিজেকে চিনুন। যদি নিজেকে না
চেনেন তাহলে সফলভাবে দায়িত্ব পালন দুরূহ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তেজগাঁও
কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক আঞ্জুমান আরা। বক্তব্য রাখেন, হাইকোর্টের বিচারপতি
মো. বশির উল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার লায়ন মো. আব্দুল ওয়াহহাব, লায়ন জালাল আহমেদ, লায়ন মোহাম্মদ
হানিফ, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা জজ ফারাহ মামুন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান,
অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, অ্যাডভোকেট মুনমুন নাহার, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারজানা
শম্পা ও তামান্না ফেরদৌসসহ অনেকে।

