
বিধিনিষেধে দীর্ঘ বন্ধের পর সরকার ঘোষিত
সময় অনুযায়ী আজ থেকে খুলছে দেশের সব পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী
যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পর্যটন, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র
আসন সংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ ব্যবহার করে চালু করতে পারবে। তবে সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান
নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ
করতে হবে।
এর আগে করোনা নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় লকডাউন
শেষে গত ১১ আগস্ট থেকে সবকিছু খুলে দেয়া হলেও পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা
ছিল। এরপর ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটন, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র খোলার
ঘোষণা আসে।
এ দিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী করোনা রোধে প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-মোটেল
ও রিসোর্টকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত স্ট্যান্ডার্ড
অপারেটিং প্রসিডিউর এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলো
পরিচালনার জন্য করণীয় নির্ধারণ সম্পর্কিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো সরকারের
নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন করছে কি না স্থানীয় প্রশাসন সেটি শক্তভাবে মনিটরিং করবে
বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো সরকারের বিধি উপেক্ষা করছে কি না
তা নিয়মিত মনিটরিং, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পর্যটন খাত
সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করা হয়।
এ দিকে এতদিন পর সব খুলে দেয়ায় নতুন করে
আশার আলো দেখছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। শেষ মুহূর্তে
ধোয়ামোছা, রঙ করা, রাইডের যন্ত্রাংশগুলো পরীক্ষা করে নেয়া, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি
মানার কাজগুলো সেরে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে শুরু হয়েছে
আকর্ষণীয় অফারের বিজ্ঞাপন। ট্যুর অপারেটরগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভ্রমণের অফার
দিচ্ছে।
করোনা মহামারীর শুরুতে গত বছরের মার্চে
বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সব বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র। সংক্রমণ কমলে গত বছরের ২২ আগস্ট থেকে
পর্যটনকেন্দ্র খুলতে শুরু করে। চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে গত এপ্রিল থেকে
আবার বন্ধ হয়ে যায় পর্যটনকেন্দ্র। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে পুনরায় বিধিনিষেধ
শুরু হয়। তবে ঈদ উপলক্ষে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ
শিথিল করা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারো বিধিনিষেধ কার্যকর করা
হয়। পরে তা আরেক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনিশ্চয়তার পড়েছে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা।

