Logo
শিরোনাম

বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৬ অক্টোবর ২০২৩ | ৭৪৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

আজ বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী। এ দিনে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে কয়েক বছর ধরে র‍্যালির মাধ্যমে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাবার্ষিকী উদযাপন করে আসছে। এবারও একই কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে বড় ধরনের শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। ইতিমধ্যে দলটির যৌথসভায় রাজধানীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির হাইকমান্ড চাচ্ছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোডাউনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দিতে। সহসা মাঠ গরম করার নীতি থেকে সরে আসা বিএনপির লক্ষ্য শক্তি ক্ষয় না করে ধীরে ধীরে সরকার পতন আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো।

এ কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাগম করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই দলটি প্রতিষ্ঠান সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ১ (সেপ্টেম্বর) সেই দিন।

১৯৭৬ সালে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হন। এরপর ১৯৭৭ সালে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন এবং তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগ দল) প্রতিষ্ঠা করেন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ছিলেন এই দলের সমন্বয়ক। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগ দল বিলুপ্ত করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হয়। জিয়াউর রহমান হন দলের চেয়ারম্যান। ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচন করে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এর পর এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসন চলাকালে ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে এই দলটি একতরফা বিতর্কিত নির্বাচন করে ১৫ দিনের জন্য সরকার সরকার গঠন করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি।

১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ওই দুই মেয়াদে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল ছিল বিএনপি। আওয়ামী লীগের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। কিন্তু ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলটিকে ব্যাপক ভরাডুবির সম্মুখীন হতে হয়েছে। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রাজনীতির বাইরে থাকার শর্তে জামিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। আর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডে হিসেবে বসবাসরত।

এদিকে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে গণতন্ত্র নাই, বাসা-বাড়িতেও এখন কোনো মানুষের জীবনে নিরাপত্তা নেই। অনির্বাচিত সরকার দখল করে আছে রাষ্ট্র ক্ষমতা। সেখানে বিএনপি গণতন্ত্রসহ মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই-সংগ্রাম করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, দেশ যখন গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে তখনেই বিএনপিকেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে।’

জানা গেছে, ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে র‌্যালি করার মধ্যে দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চায় দলটি। সারাদেশে কর্মসূচি পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা মামলা নির্যাতনের মাত্রা অব্যাহত থাকলেও যে কোনো মূল্যে রাজপথে থাকতে চায় বিএনপি। উদ্দেশ্য সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের রাজপথে চাঙা রাখা। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীসহ সারাদেশে বড় শো-ডাউনের পাশাপাশি ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পোস্টার এবং ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও আলোচনা সভা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া রাজনীতি ও দর্শন নিয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসার পর থেকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন, সংগ্রাম করছেন। এই লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার করেছেন।

তিনি বলেন, এই লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই তিনি দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা নিয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দুই বার বিরোধীদলীয় নেত্রী হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্যই লড়াই সংগ্রাম করছেন।


আরও খবর