
শিরোপা ধরে রাখার
মিশনে কাতার বিশ্বকাপে খেলতে নামবে ফ্রান্স। তবে তার আগেই বড় ধাক্কা খেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েছেন ফ্রান্সের মধ্য মাঠের প্রাণভোমরা পল পগবা। অনিশ্চিত তার বিশ্বকাপে
খেলাও।
কদিন আগেই ইতিহাসের
পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে য়্যুভেন্তাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন পগবা।
আশা ছিল তুড়িনের বুড়িদের হয়ে বিশ্বকাপের আগেই প্রস্তুতিটা সেরে ফেলবেন। অতঃপর ফুল ফোটাবেন
মরুর বুকে। অথচ হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে অনিশ্চিত হয়ে গেছে তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।
লা গেজেটা ডেলো
স্পোর্টের বরাতে জানা গিয়েছিল, অন্তত দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে পগবাকে। যদিও বৃহস্পতিবারের
(২৮ জুলাই) সবশেষ আপডেট অনুযায়ী, অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হতে যাচ্ছে। হয়ত চলতি বছরে আর
খেলতে দেখা যাবে না ফরাসি এ মিডফিল্ডারকে। আর সেটি হলে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ মিস করতে
যাচ্ছেন পগবা।
সেরা তারকাকে
সারিয়ে তুলতে য়্যুভেন্তাস চাচ্ছে সার্জারির পথে হাঁটতে, আর শেষ পর্যন্ত সেটি হলে অন্তত
চার মাস মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে পগবাকে। এদিকে, কাতার বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে চলতি বছরের
নভেম্বরে।
সিরি আ’র ক্লাবটি
গত সোমবার (২৫ জুলাই) সর্বপ্রথম এক বিবৃতিতে ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের চোটের কথা জানায়।
ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও।
২০১২ সালে ম্যানচেস্টার
ইউনাইটেড ছেড়ে প্রথমবারের মতো তুরিনের ওল্ড লেডিদের দলে যোগ দিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাবটির
একাডেমির অন্যতম সেরা প্রতিভা পল পগবা। মূলত গেম টাইমের জন্যই ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে
অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর চার বছরে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটেছেন।
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারে। প্রতিভা হারানোর আফসোসে তাকে
ফের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
শেষ পর্যন্ত ২০১৬
সালে ৮ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরে আসেন এই ফরাসি। সেখানে
শুরুটা ভালোই হয়েছিল। প্রথম মৌসুমেই দলের ইউরোপা লিগ বিজয়ে বড় অবদান রাখেন। কিন্তু
সময়ের সঙ্গে ক্লাবটিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এই বিশ্বকাপজয়ী। য়্যুভেন্তাস ও ফ্রান্স
দলের নৈপুণ্যের ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারেননি ইংলিশ জায়ান্টদের হয়ে।
২০২১-২২ মৌসুমের
শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল এই মৌসুমে আর রেড ডেভিলদের শিবিরে থাকছেন না তিনি। চুক্তির
মেয়াদ শেষে তিনি আর নতুন করে চুক্তি করবেন না বলে জানিয়ে দেন ক্লাবটিকে। তখন থেকেই
জল্পনা চলছিল কোথায় হবে তার পরবর্তী গন্তব্য। একসময় রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে ভেড়ানোর
চেষ্টা করেছে অনেক। আগ্রহ ছিল বার্সেলোনারও। কিন্তু য়্যুভেন্তাসের সঙ্গে পগবার সম্পর্কটা
বিশেষ তাই পরবর্তী গন্তব্য যে ইতালির দলটিই, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে আগেই। বাকি ছিল শুধু
আনুষ্ঠানিকতা। মেডিকেল ও আনুষ্ঠানিকতা সারার পর চলতি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইতালিয়ান
ক্লাবটির পক্ষ থেকে পগবার চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

