
বরগুনা থেকে
বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন পরিচালনা কমিটি। ঢাকা-বরগুনা
রুটের বাস বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কে যাওয়া-আসার পথে বরিশাল রুপাতলি, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী
বাস মালিক সমিতির মালিক-শ্রমিকরা দীর্ঘ একমাস যাবৎ চলাচলে বাধা দেওয়াসহ বাস শ্রমিকদের
মারধর করার অভিযোগ এনে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, ‘বরিশাল রুপাতলি বাস ও মিনিবাস মালিক
সমিতি দূরপাল্লার পরিবহন থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে। বারবার চাঁদা পরিমাণ
বৃদ্ধির কারণে আমরা দিতে অস্বীকার করি। ফলে শ্রমিকদের ওপর নানা অত্যাচার-জুলুম শুরু
করে। তারা বাকেরগঞ্জ-বরগুনার সড়কে দুমাস ধরে গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। তাদের জুলুম-নির্যাতনের
হাত থেকে রক্ষা পেতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছি।’
বিষয়টির সমাধান
না হওয়া পর্যন্ত সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-বরগুনা রুটের সব বাস চলাচল
বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন
বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা
যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে ঢাকা-বরগুনা রুটের
যাত্রীবাহী কয়েকশ বাস। এক সময় ঢাকা থেকে বরগুনার দূরত্ব ১৫ ঘণ্টার বেশি হলেও পদ্মা
সেতু উদ্বোধনের পর সেই দূরত্ব কমে আসে মাত্র ৫ ঘণ্টায়। তবে রুট পারমিট না থাকার অজুহাত
দিয়ে সম্প্রতি ৫৭ কিলোমিটার বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কে ঢাকাগামী সব বাস চলাচল বন্ধ করে
দেয় বরিশালের রুপাতলি, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীবাস মালিক সমিতির মালিক-শ্রমিকরা। এতে
সব বাসকে ঘুর পথে যেতে হচ্ছে পটুয়াখালীর সুবিদখালী ও আমতলি ফেরি পার হয়ে। ফলে সময় লাগছে
১০ ঘণ্টারও বেশি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় ও বাসচালকরা
জানান, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার পরিবহন চলছে। তবে গত আগস্ট থেকে
এ সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছে বরিশাল রূপাতলি বাস ও মিনিবাস মালিক
সমিতি। এতে গত দুমাস ধরে সড়ক দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বরগুনার
যাত্রী পরিবহনের জন্য দূরপাল্লার বাসগুলোকে লেবুখালী, পটুয়াখালী ও আমতলি ঘুরে পায়রা
ফেরি পার হয়ে বরগুনায় আসতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
রূপাতলি বাস
মালিক সমিতির অত্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবিতে বরগুনা চলাচল করা সব দূরপাল্লার
বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বরগুনা
থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোরে যাতায়াত করা যাত্রীরা।
জানতে চাইলে
শ্যামলী পরিবহনের বরগুনা কাউন্টার ইনচার্জ শ্রী পিলু ঘোষ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ
হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গাড়ি চালিয়ে আসছি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার
পরেই বরিশাল রুপাতলি বাস মালিক সমিতি আমাদের এ রুটে বাস চালাতে দিচ্ছে না। তাই বাধ্য
হয়ে আমতলি ঘুরে ফেরি পারাপারের মাধ্যমে যেতে হয়। এতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি
লাগে ও অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়।’
এ বিষয়ে বরগুনা
জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ ঘোষণার বিষয়টা আমি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’

