
জনি ডেপের সাহস ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করতে হয়। পাশাপাশি তার আইনজীবী ও পাবলিক রিলেশনের কর্মীরাও কুশলতা দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে ম্যাথু হিল্টজিক একজন ক্রাইসিস পিআর হিসেবে ভালো কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি অনেক দিন ধরেই নিজের কুশলতা প্রমাণ করেছেন। এছাড়া ডেপের আইনজীবী বেন শু এবং ক্যামিল ভ্যাস্কুয়েজও আদালতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নানা টক শো ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে বিষয়টিকে মানুষের সামনে নিয়ে এসেছেন।
‘পিআর কৌশল যদি ব্যক্তির সঙ্গে জনতার যোগসূত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে তা গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে জনি যে পিআর কৌশল ব্যবহার করেছেন তা আইনি প্রক্রিয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ’,—এ কথা বলেছেন আমেরিকার একটি শীর্ষ ল ফার্মের প্রধান অ্যাম্বার মেলভিন-ব্রাউন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা এবং এর মাধ্যমে পুনরায় তার সম্মান উদ্ধার করার মাধ্যমে ভক্তদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা পুনরায় এনে দেবে। বাস্তবেও সে বিষয়টিই ঘটেছে। কেসে জেতার পাশাপাশি তিনি এখন পাচ্ছেন দর্শকের সমর্থন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে তিনি আদৌ হলিউডে ফিরতে পারবেন কিনা। কিংবা ঘুরিয়ে প্রশ্নটা তোলা যায় যে জনি ডেপকে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা।
কেসে জেতার ফলে এখন হলিউডের বড় বড় প্রযোজক ও পরিচালক তাকে সিনেমায় নিতে কোনো আপত্তি করতে পারবেন না। এছাড়া এখন বহু ভক্ত অনলাইনে তাদের সমর্থন প্রকাশ করছেন। এ সময়ে ডেপকে নতুন সিনেমায় নেয়া বা পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজে ফিরিয়ে আনা আর্থিকভাবেও লাভজনক হবে। এখানেও পিআরদের একটি ভূমিকা রয়েছে। ২০১৬ সালে যখন অ্যাম্বার হার্ড জনির বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা করেন, তখন জনির ভক্তরা তার পক্ষে কোনো আওয়াজ তুলতে পারেননি। কিন্তু ডেপ যখন মানহানির মামলা করলেন এবং তার বিরুদ্ধে হার্ডের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হতে থাকলে পিআরদের মাধ্যমে এটি বেশি করে তুলে ধরা হয়। হেরাল্ড পিআরের প্রধান জুডা এঙ্গেলমেয়ার বলেন, ‘ডেপের সাধারণভাবেই প্রচুর ভক্ত রয়েছে এবং বিচারিক ক্রিয়ার সময় তারা আবার জেগে উঠেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক নতুন ভক্ত তৈরি হয়েছে বা ভক্ত বাদেও অনেকে মনে করছেন জনি ডেপকে সমর্থন দেয়া উচিত।’
একটা প্রচলিত কথা যে সম্মান একবার চলে গেলে আর ফেরত আনা যায় না। জনি ডেপ নিজের ক্ষেত্রে সে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করেছেন বলা চলে। কিন্তু হলিউড সে সম্মানের কদর কতটা করবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের নতুন সিনেমার স্ক্রিপ্টে কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে জনি ডেপের উপস্থিতি নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে ফ্যাশন হাউজগুলো ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেমন ডিওর কখনো জনি ডেপকে বাদ দেয়নি এবং এখন এসে তাদের বিক্রি বাড়ছে। এমনকি সুপারমডেল কেট মসও জনি ডেপের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন এ অবস্থায় সবাই আশা করছেন হলিউডও এ বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করবে এবং জনি ডেপকে ফিরিয়ে আনবে। কেননা হলিউডে রাজনীতির চেয়ে রোজগারের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়।

