Logo
শিরোনাম

হাওরে নৌকায় নববধূকে গণধর্ষণে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০২৩ | ২৫০০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে হাওরে স্বামীর সামনে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লাখাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোলায়মান হোসেন রনি সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ ।

গ্রেফতার অপর দুজন হচ্ছেন-উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে মিঠু মিয়া (২১) ও রুকু মিয়ার ছেলে ও শুভ মিয়া (১৯)। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী মোড়াকড়ি গ্রামের রাকিব আহমেদ বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -২ এ গতকাল বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, মোড়াকরি গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়ার পুত্র মুছা মিয়া (২৬), পাতা মিয়ার পুত্র হৃদয মিয়া(২২) , বকুল মিয়ার পুত্র সুজাত মিয়া(২৩), মিজান মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া (২৫), ওয়াহাব মিয়ার পুত্র মুছা মিয়া (২০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাকিব আহমেদ তার স্ত্রী ও বন্ধু রকিবকে নিয়ে নৌকা ভ্রমনের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। বেলা ১২টার দিকে তাদের নৌকা কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশে টিক্কাপুর হাওড়ে পৌছলে ইঞ্জিনচালিত আরেকটি নৌকায় করে আসামীরা তাদেরকে ঘেরাও করে। এ সময় মুছা মিয়া, সুজাত মিয়া, জুয়েল মিয়া ভিকটিমের স্বামী, স্বামীর বন্ধু ও নৌকার মাঝিকে প্রচন্ড মারধর করেন। এরপর তারা রাকিব আহমদ বন্ধু রকিবকে হাত পা বেঁধে রাখেন। নৌকার মাঝি নিতেশ দাসকে খুনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক হাওরের স্লুইচগেট নৌকাটি নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে আসামীগণ নৌকাটিতে উঠে পালাক্রমে প্রায় দুঘণ্টা ওই নববধূকে গণধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর ধর্ষিতার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুর কাপড়-চোপড় খুলে ধর্ষিতার পাশে শুইয়ে দিয়ে তাদের উলঙ্গ অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। তারা ৯ লক্ষ টাকা না দিলে এসব ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দেবেন বলে হুমকি দেয়। মামলা-মোকদ্দমা কিংবা লোক জানাজানি করলে তাদেরকে হত্যা করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয় তারা। বিকাল তিনটার দিকে তাদেরকে এ অবস্থায় ফেলে রেখে ধর্ষকগণ চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা বাড়িতে পৌঁছেন।

রাকিব আহমেদ জানান, লোকলজ্জা ও ধর্ষকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ভয়ে ধর্ষিতার চিকিৎসা না করে পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ধর্ষিতার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওযায় তাকে ১ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে লাখাই থানা অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম জানান, পুলিশ অভিযুক্ত শুভকে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া র‌্যাব-৯ বুধ ও বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে রনি ও মিঠুকে গ্রেফতার করেছে।

হবিগঞ্জ হাসপাতালের আবসিক মেডিকেল অফিসার মঈন উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ধর্ষিতা সুস্থ রয়েছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। ইতোমধ্যে তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।


আরও খবর