Logo
শিরোনাম

‘হিজাব বিতর্ক’, এবার কারাগারে প্রধান শিক্ষক

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০২৩ | ১৬১৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

হিজাববিতর্ক নিয়ে আলোচিত নওগাঁর মহাদেবপুরের দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনী পালের করা মামলায় জামিন নিতে এসে কারাগারে গেলেন একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মণ। আজ রোববার দুপুরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে আমোদিনী পাল গত শুক্রবার মহাদেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কিউ এম সাঈদ ও কাজী সামসুজ্জামান মিলন নামের স্থানীয় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে মহাদেবপুর থানা-পুলিশ। ওই মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি ধরনী কান্ত বর্মণ আজ দুপুরে নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালত-৩-এ হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। ওই আদালতের বিচারক তাউ উল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল তাঁর বিরুদ্ধে হিজাব নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে হামলার অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর আগে দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার তিন দিন পর ১০ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ধরনী কান্ত বর্মণ। জিডিতে ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয় অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে।

৮ এপ্রিল হিজাব না পরায় আমোদিনী পাল শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন অভিযোগ তুলে পরের দিন ওই বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়।

বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ১১ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে হিজাব পরায় ছাত্রীদের পেটানোর অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।

স্কুলড্রেস পরে না আসার কারণে ওই দিন শিক্ষিকা আমোদিনী পাল ও আরেক শিক্ষক বদিউল আলম শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আমোদিনী পালের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মণের দ্বন্দ্ব ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই গুজব ছড়ানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


আরও খবর