
নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অবশেষে কারামুক্ত হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে এক মাস পর তারা কারামুক্ত হন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী
অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের
জেলার মাহবুবুল ইসলামও ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বিকেল
সাড়ে ৪টায় তাদের জামিননামা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।
গত ৩ জানুয়ারি
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও মির্জা আব্বাসকে ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন স্থায়ী
জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
পরদিন তাদের জামিন
ঠেকাতে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের শুনানির জন্য রোববার (৮ জানুয়ারি)
দিন ধার্য করেছিলেন চেম্বার আদালত। এদিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে তাদের
জামিন বহাল রাখা হয়।
এর আগে মোট চারবার
ফখরুল ও আব্বাসের জামিন আবেদন নাকচ করেন নিম্ন আদালতের বিচারকরা। পরে হাইকোর্টে আবেদন
করেন তারা।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের
সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন এবং পুলিশসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের পর রাতের
বেলা বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর
থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে বিএনপির দুই হাজার ৯৭৫ নেতা-কর্মীকে আসামি
করা হয়। তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৭২৫ জনের। সেখানে মির্জা ফখরুল ও মির্জা
আব্বাসের নাম ছিল না।
৮ ডিসেম্বর গভীর
রাতে নিজ নিজ বাসা থেকে ফখরুল ও আব্বাসকে তুলে আনে ডিবি পুলিশ। দুজনকে প্রথমে রাজধানীর
মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাদের পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার
দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

