Logo
শিরোনাম

মাজার–ই–শরিফ দখলে নিল তালেবান

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০২৩ | ২০১০জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image
ঝোড়োগতিতে দেশের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে তালেবানের এভাবে পৌঁছে যাওয়াটা অনেকের কাছেই এখন বিস্ময়ের নয়। কেননা গত মে মাস থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর মাজারশরিফ দখলে নিয়েছে তালেবান। দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সফর করার কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি আফগান সরকারি বাহিনীর হাতছাড়া হলো। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের সবগুলো বড় শহরে তালেবান যোদ্ধারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।

মাজারশরিফ আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর। দেশটির বালখ প্রদেশের রাজধানী এটি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার শহরটি প্রায় বিনা বাধায় দখল করে নিয়েছে তালেবান। সরকারি বাহিনীর বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। বালখের প্রাদেশিক আইনপ্রণেতা আব্বাস ইব্রাহিমজাদা এই তথ্য জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাজারশরিফ। উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এ শহরটি গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তালেবানের দখলে ছিল। মাজারশরিফ দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৯টি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।

শনিবার মাজারশরিফ ছাড়াও তালেবান যোদ্ধারা দেশটির পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের রাজধানী শহরও দখলে নেয়। এখন রাজধানী কাবুল ও জালালাবাদে সাঁড়াশি আক্রমণ পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে তালেবান। শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় লোগার প্রদেশের আইনপ্রণেতা হোদা আহমাদি আল জাজিরাকে জানান, তালেবান যোদ্ধারা চর আসিয়াব জেলায় পৌঁছেছেন। তাঁরা কাবুল থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে অবস্থান করছেন।

ঝোড়োগতিতে দেশের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে তালেবানের এভাবে পৌঁছে যাওয়াটা অনেকের কাছেই এখন বিস্ময়ের নয়। কেননা গত মে মাস থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রসজ্জিত আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। ধাপে ধাপে দেশটির উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিয়েছে তারা। এখন তাঁদের নজর কাবুলের দিকে।

একদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার তোড়জোড় এবং অন্যদিকে সরকারি সেনাদের ওপর তালেবানের চড়াও হওয়াএমন পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে কাবুলের পতন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। এর ফলে আফগানিস্তান আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধে পতিত হতে পারে।

তালেবান ও আফগান সরকারি বাহিনী দুই পক্ষের লড়াইয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে ও তালেবানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পালাতে শুরু করেছে। অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে কাবুলের সড়কে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। তালেবান যোদ্ধারা রাজধানীর কাছাকাছি চলে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো তাদের দূতাবাসকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। নাগরিকদের আফগানিস্তান সফর করতে নিষেধ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো।


আরও খবর