
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্রমাগত হামলায় দেশটির মারিউপোল শহরে আটকা পড়েছেন দেড় লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় শহরটির মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর এই কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয় একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় এই মেয়র বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, মারিউপোলে এখনও অনেক লোক রয়েছে। সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। আমাদের অনুমান অনুসারে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক এই শহরে রয়েছে।’
এ সময় মারিউপোল শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও জল সরবরাহ না থাকায় শহরটিকে বসবাসের ‘অযোগ্য’ উল্লেখ করেন তিনি। সেই সঙ্গে রুশ বাহিনীর এমন বর্বরতাকে ‘মারিউপোলের গণহত্যা’ হিসাবেও বর্ণনা করেন ইউক্রেনীয় এই মেয়র।
ভাদিম বয়চেঙ্কো বলেন, রাশিয়ানরা মারিউপোলে একটি ‘মানবিক করিডোর’ খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তারাই এখন এটিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চললেও ইতি ঘটেনি দেশদুটির মধ্যে চলমান বিরোধের, মেলেনি যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণও। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। পাল্টা হামলায় এর জবাবও দিচ্ছে ইউক্রেন। গত রোববারও (২৭ মার্চ) পশ্চিম ইউক্রেনের শহর লভিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। রুশ হামলায় পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিমি দূরে লভিভের একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের খবর নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পর সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থা মারিউপোলের। বেশ কয়েকটি শহরের দখল নিলেও রাজধানীসহ কয়েকটি শহরের দখল নেয়নি রাশিয়া। তারা কিয়েভ ও মারিউপোল ঘিরে রেখেছে। পাশাপাশি কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে এখনও হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ সেনারা।
দেশদুটির চলমান এই লড়াইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যেমন রাশিয়ার চতুর্থ জেনারেল নিহতের দাবি করেছেন, তেমনি রাশিয়ার এই সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বব্যাপীই সমালোচনার শিকার হচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরই মধ্যে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গে বলেছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা চালিয়ে পুতিন অনেক ‘বড় ভুল’ করছেন। একই সঙ্গে পুতিন ইউক্রেনের মানুষ ও সেনাদের শক্তি ও সাহসিকতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকি মার্কিন সিনেটের পক্ষ থকে পুতিনকে যুদ্ধাপরাধীও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

