
বিভিন্ন প্রকার
চাট হোক কিংবা ফুচকা— মুখরোচক খাবারের
স্বাদ বাড়াতে তেঁতুলের কোনও জবাব নেই। গৃহস্থ বাড়িতে তেঁতুলের ব্যবহার মানেই হয় তা
কোনও ঘরোয়া কাজে, নয়তো খাদ্যে স্বাদ বাড়ানোর উপাদান হিসাবে। কিন্তু তেঁতুলের যে স্বাস্থ্যকর
আরও কিছু দিক রয়েছে, তা জানেন কি?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীর সুস্থ রাখতে:
তেঁতুলে থাকা
নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে
সাহায্য করে। এই সময় হবু মায়েদের অনেকের ক্ষেত্রেই রক্তচাপ বেড়ে যায়। তেঁতুলের পটাশিয়াম
এবং আয়রন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের জন্য উপকারী:
তেঁতুলের মধ্যে
থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড খাবার থেকে আয়রন সংগ্রহ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে তা পরিবহণ
করে। ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারীতা বেড়ে যায়।
বদহজম দূর করে:
গরমের দিনে কমবেশি
অনেকেই বদহজমের সমস্যায় ভোগেন। এক কাপ জলে তেঁতুল ভিজিয়ে সামান্য নুন, চিনি বা গুড়
মিশিয়ে খেলে বদহজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তেঁতুলে থাকা ডায়াটারি ফাইবার
হজম করতে সাহায্য করে। গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে তেঁতুল।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে:
তেঁতুলে থাকা
অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান পরোক্ষ উপায়ে রক্তের শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তেঁতুলে
উপস্থিত উৎসেচক শরীরে শর্করার শোষণ মাত্রা কমিয়ে দিয়ে শর্করা নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। ফলে
ডায়াবিটিসকে অনেকটাই প্রতিরোধ করে তেঁতুল।
রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে:
ঋতু পরিবর্তনের
সময়ে ঠান্ডা লাগা এবং সর্দিকাশি থেকে রেহাই পেতে গরম জলে তেঁতুল আর গোলমরিচ মিশিয়ে
খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর অ্যান্টি
ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যেগুলি শারীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। স্কার্ভি
রোগ প্রতিরোধেও তেঁতুল অত্যন্ত কার্যকর।
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে:
তেঁতুল রক্তে
খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল
রাখতে এই ফল দারুণ উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে:
তেঁতুলে হাইড্রক্সিসাইট্রিক
অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে চর্বি জমতে দেয় না। এই অ্যাসিড সেরোটোনিন নিউরোট্রান্সমিটারের
মাত্রা বাড়িয়ে খিদে কমায়। খাবারে রাশ টানলেই ওজন বাড়বে না। এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায়
তেঁতুলের শরবত রাখতে পারেন। গরমের দিনে তেষ্টাও মিটবে আর সুস্বাস্থ্যও পাওয়া যাবে।
কী ভাবে বানাবেন তেঁতুলের শরবত?
বেশ খানিকটা তেঁতুল
জলে ভিজিয়ে রাখুন। তেঁতুল নরম হয়ে গেলে ক্কাথ বের করে নিন। এ বার একটি গ্লাসে দু’চামচ তেঁতুলের কাত, ভাজা জিরে শুকনো লঙ্কার
গুঁড়ো, বিটনুন, গেলমরিচের গুঁড়ো আর এক চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে ঠান্ডা জল দিয়ে নিন।
বরফ আর পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন তেঁতুলের শরবত।

