
পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে
গ্রুপের শেষ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি
নষ্ট করেছেন লিয়োনেল মেসি। তবে একই সঙ্গে নতুন একটি কীর্তি গড়ে ফেলেছেন তিনি। দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির গড়লেন তিনি।
পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন মেসি। দেশের হয়ে ২২টি ম্যাচ খেলে ফেললেন এই প্রতিযোগিতায়।
দু’বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন ম্যারাডোনা। রাশিয়াতেও
আর্জেন্টিনার ম্যাচে হাজির হয়ে দলকে তাতিয়েছেন। এ বারের বিশ্বকাপে দেখতে পাওয়া গেল
না তাঁকে। ম্যারাডোনাকে পেরনোর বিষয়টি মেসি জানলেও ম্যাচের আগে তাঁর মনে ছিল না। তাঁকে
সাংবাদিক বৈঠকে মনে করিয়ে দিতেই বললেন, কিছু দিন আগেই এটা শুনেছি। তার আগে জানতাম না।
এই ধরনের নজির গড়তে পারলে খুবই ভাল লাগে। আমার মনে হয় দিয়েগো যেখানেই থাকুন, আমার
জন্যে উনি খুবই খুশি হবেন। বরাবর আমাকে ভালবাসতেন উনি। আমি ভাল খেললে সবচেয়ে বেশি খুশি
উনিই হতেন।
মেসি জানিয়েছেন,
পেনাল্টি নষ্ট করে নিজের উপর রেগে থাকলেও দলের জন্য খুশি। বলেছেন, “পেনাল্টি ফস্কে
আমি নিজের উপর রেগে আছি। কিন্তু আমি পেনাল্টি ফস্কানোর পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছিল।
আমরা জানতাম একটা গোল করতে পারলেই ওরা চাপে পড়ে যাবে, ওদের রক্ষণ ভেঙে যাবে। গত ম্যাচে
জয় আমাদের মানসিক শান্তি দিয়েছিল। জিততে হবে, এই মানসিকতা নিয়েই বুধবার মাঠে নেমেছিলাম।
মেসি আরও বলেছেন,
প্রথম গোলের পর সব কিছুই আমাদের পক্ষে যেতে থাকে। বিশ্বকাপের শুরু থেকে আমরা যেটা করব
মনস্থির করেছিলাম সেটাই করতে থাকি। আগের ম্যাচগুলোও সেগুলো করতে পারিনি নানা কারণে।
এই ম্যাচে সেটা করতে পেরেছি।
এ বার আর্জেন্টিনার
সামনে অস্ট্রেলিয়া। মেসি বলেন, অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধে নক আউট পর্বে খেলা বেশ কঠিন হবে।
যে কেউ জিততে পারে। সবাই সমান। আমাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা
সেটা করে থাকি। এ বার এক অন্য বিশ্বকাপ শুরু হবে। আজ যেরকম খেলেছি, সেটাই ধরে রাখতে
পারব বলে আশা করছি। যত ম্যাচ এগোচ্ছে, তত শান্ত হচ্ছি আমরা।

