Logo
শিরোনাম

নিজেকে ঋণ খেলাপি বলে ঘোষণা করল শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩৬৫জন দেখেছেন
নিউজ পোস্ট ডেস্ক

Image

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় আর্থিক মন্দা চরম আকার নিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিজার্ভ তলানিতে ঠেকায় ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের বোঝা তার এই মুহূর্তে শোধ করতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি সরকার ও সংস্থা বিভিন্ন সময় শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে, তারা চাইলে আজ থেকে সে ঋণকে ক্যাপিটালাইজ করতে পারে। অর্থাৎ প্রাপ্য সুদের পরিমাণকে মূলধনের সঙ্গে যোগ করে দিতে পারে অথবা ঋণের অর্থ শ্রীলঙ্কান রুপিতে পরিশোধের বিকল্প বেছে নিতে পারে।

ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শূন্য হয়ে যাওয়াকেই দায়ী করেছে শ্রীলঙ্কা। যার জেরে তারা বিদেশ থেকে কোনও জিনিস আমদানি করতে পারছে না। প্রতিনিয়তই শ্রীলঙ্কার আর্থিক দুর্দশা চরমে উঠেছে। তেলের অভাবে অধিকাংশ স্থানে সাধারণ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। তেলের অভাবে দেশের এক স্থান থেকে অন্যস্থানেও পণ্য সামগ্রী পাঠানো যাচ্ছে না। লোডশেডিং এখন শ্রীলঙ্কার রোজকার জীবনের সঙ্গী হয়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পর্যান্ত খাবার মজুত নেই বলে জানা গিয়েছে। 

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কা সরকার চেষ্টা করছে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করার। ঋণ খেলাপির বিষয়টিকে তারা চূড়ান্ত ব্যবস্থা বলে বিবেচনা করছে।

আর্থিক মন্দার জেরে শ্রীলঙ্কায় ২২ মিলিয়ন মানুষের দুর্দশা যেমন চরমে উঠেছে তেমনি সাধারণ মানুষ রাস্তা নেমে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একাধিক স্থানে প্রায় প্রতিদিন অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে। প্রেসিডেন্ট প্যালেসেও ঢোকার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভকারীরা। শ্রীলঙ্কার আর্থিক পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা গত বছরই সামনে এনেছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক রেটিং প্রদানকারী সংস্থা। এমনকী শ্রীলঙ্কাকে আর ঋণ দেওয়া উচিত নয় বলেও তারা বারবার সতর্ক করেছিল।


আরও খবর