
ইউক্রেনে আগ্রাসনের ঘটনায় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর আওতায় মস্কোর সঙ্গে সীমিত হয়ে গেছে ওই অঞ্চলের বাণিজ্য। ফলে ইউরোপের বৃহত্তম বন্দর রটারডামে পণ্যপ্রবাহ কমে গেছে। খবর রয়টার্স। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পণ্যের প্রবাহ ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। কারণ হিসেবে তারা রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ইউক্রেনের সংঘাত পুরো বছরের পণ্যপ্রবাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
২০২১ সালে নেদারল্যান্ডসের বন্দরটি দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানির ৩০ শতাংশই রাশিয়া থেকে এসেছিল। যেখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ২৫ শতাংশ এবং কয়লা আমদানির ২০ শতাংশের উৎস ছিল দেশটি। ডাচ বন্দরটি জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে কী পরিমাণ পণ্য আমদানি কমেছে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে দেশটির প্রতিটি খাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং সেখানে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করার প্রভাব এখন দৃশ্যমান।
বন্দরটি বলেছে, রাশিয়া থেকে কনটেইনারের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি মার্চে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ বেশির ভাগ শিপিং কোম্পানি দেশটিতে পণ্য পরিবহন স্থগিত করেছে এবং বেশির ভাগ দেশ রাশিয়ায় পণ্য রফতানিও বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লা এখনো ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই। তবে শেলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য আরো নিষেধাজ্ঞার আগেই রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থগিত ও ছোট করে এনেছে। বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন পণ্য রটারডাম বন্দরের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পণ্যপ্রবাহের এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ে ১১ লাখ ৫২ হাজার টন থেকে কম।
রটারডাম বন্দরের সিইও অ্যালার্ড ক্যাসটেলিন বলেন, আমরা আশা করি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বছরের বাকি সময়েও পণ্যপ্রবাহ কমে যেতে পারে।

