
পদ দেওয়ার কথা
বলে একজন প্রার্থীর স্বামীর কাছে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ
সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিলিনা খানম মিলির বিরুদ্ধে। এমন একটি অডিও ফাঁস হয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইলের
কালিয়া উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী মাছুরা বেগম। মঙ্গলবার (১৫
নভেম্বর) পদ দেওয়ার কথা বলে তার স্বামী ইকবাল হাসানের কাছে অর্থ দাবি করেন মিলিনা।
মাসুরার স্বামী
ইকবাল হাসান: ও মিলিনার ফোনালাপ-
ইকবাল হাসান
: কেমন আছেন?
মিলিনা : আলহামদুল্লিাহ,
ভালো আছি।
ইকবাল হাসান
: কী অবস্থা? শরীর-স্বাস্থ্য ভালো আছে?
মিলিনা : কম্পিউটারে
কাজ করছি।
ইকবাল হাসান
: বিজি?
মিলিনা : বলেন,
সিস্টেম করছি তো। আমি শুনছি, বলেন।
ইকবাল হাসান
: আগামীকাল আসবো। ভাবির সঙ্গে কথা হয়েছে?
মিলিনা : আপনাকে
বলেছি না ভাবি যেন দেখা করেন? কথা হয়েছে। উনি যেটা বলে সেটা হয় না। উনি কথার মধ্যে
আসেনি। উনি থাকবে না কমিটির মধ্যে। উনি মেয়রের দোহাই দিচ্ছেন। উনি বলেছেন, মেয়রের সঙ্গে
কথা হয়েছে, মেয়র দেখবেন। এগুলোতো হবে না। তিনি প্রার্থী। একজন সাংগঠনিক প্রার্থী। একটি
ভাইটাল পোস্ট। উনাকে ৩০-৫০ হাজার বলিনি, সর্বোচ্চ টুয়েন্টি। সেটা যদি না পারে তাহলে
তো প্রশ্নই ওঠে না। আমি বাবার হোটেল খুলে বসেছি নাকি যে মানুষগুলোকে পদও দিয়ে যাবো
ফ্রি ফ্রি। ফ্রি ফ্রি মানুষগুলোকে খাওয়াইয়ে হাইলাইট করবো? আমার এত দায় নেই, ভাই সরি।
তাকে বলেছি, আপনার গাড়ি আনার দরকার নেই। আমার ৪০টি গাড়ি থাকবে। আপনি ১০-১৫ জন যা পারেন,
আনবেন। এসে খাওয়া-দাওয়া করে, সম্মেলন করে পদটি নিয়ে চলে যাবেন, শেষ। উনি বলেছেন আমার
পক্ষে ১৫-২০ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব না। সম্মেলন যেহেতু সবাই মিলে করছি, যারা সভাপতি-সেক্রেটারি
হবেন তারা, আমি সম্মেলনে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হবে। কে টাকা দেবে? মেয়র দেবে
১০ হাজার টাকা। স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে কিছু নেওয়া হচ্ছে না। এরপর ফোনটি কেটে যায়।
প্রার্থী মাসুরার
স্বামী ইকবাল হাসান বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত
অংশগ্রহণ করে আসছে। আর এখন কমিটি গঠনের সময় এসে টাকা দাবি দুঃখজনক। অর্থের বিনিময়ে
কমিটিতে যাওয়ার ইচ্ছা নেই।
জেলা মহিলা যুবলীগের
সাধারণ সম্পাদক মিলিনা খানম অবশ্য কমিটিতে পদ দেওয়ার জন্য নয় সম্মেলনের খরচের জন্য
টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন,
প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সংগঠনে অর্থের বিনিময়ে
পদ-পদবি দেওয়ার সুযোগ নেই।
সংগঠনের পদ-পদবি
বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

