
অপেক্ষাটা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই। কিন্তু দক্ষিণ
আফ্রিকায় দুই টেস্টের এক ইনিংসে পঞ্চাশের বেশি রান করতে পেরেছেন মুশফিক। দারুণ সেই
ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটে অসময়ে রিভার্স সুইপের মতো শটস খেলতে গিয়ে। বাকি তিন ইনিংসে উল্লেখ
করার মতো কিছু করতে পারেননি। অবশেষে সাগরিকায় তীব্র গরমে স্বর্ণালি একটি দিন পার করলেন
মুশফিক। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজারি ক্লাবের গর্বিত সদস্য তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছানোর
মিশনে গত কয়েক বছর ধরেই তামিম-মুশফিকের লড়াই চলছে। একবার তামিম এগিয়ে যান তো আরেকবার
মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ৫ হাজার
রানের ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তামিম ১৫২ রান দূরে থেকে ইনিংস শুরু করেন। রিটায়ার্ড
হার্ট হয়ে সাজঘরে না ফিরলে তামিমই হয়তো সবার আগে ৫ হাজার রান পূর্ণ করতে পারতেন। কিন্তু
তামিমই সুযোগটা করে দিলেন মুশফিককে। ৬৮ রান দূরে থেকে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরু করেছিলেন
উইকেট কিপার এই ব্যাটার। বুধবার ৫৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। ১৫ রান দূরে থাকা মুশফিক
ধীরস্থির ভাবেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অভিজাত ৫ হাজারি ক্লাবের সদস্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর পর থেকেই সবাই মুশফিকের
এমন কীর্তি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। ভয়ও ছিল, পারবেন তো? কেননা ক্যারিয়ারে বহুবার সুইপ,
স্লগ সুইপ, রিভার্স সুইপ, প্যাডেল সুইপ, স্কুপ- এসব খেলতে গিয়ে আত্মাহুতি দেওয়ার রেকর্ড তার আছে। এমন শঙ্কা
আর ভয় নিয়েই বুধবার সকালে গ্যালারিতে এসেছিলেন কিছু সংখ্যক দর্শক। আর যারা টিভি সেটের
সামনে বসেছিলেন, তাদের দীর্ঘ একঘণ্টা অপেক্ষায় রাখলেন। আগের দিনের ৫৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে
নেমে মাইলফলকে পৌঁছালেন প্রথম সেশনের একঘণ্টারও কিছু সময় বেশি নিয়ে।
বুধবার সাগরিকায় আসিথা ফার্নান্ডোর বলটি মুশফিকের
গ্লাভসে লেগে ফাইন লেগে চলে যায়। আর তাতে দুই রান তুলে নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার
হিসেবে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। অবশ্য দারুণ মাইফলক ছুঁয়েও মুশফিক ছিলেন নির্লিপ্ত,
দেখাননি কোন উদযাপন। সঙ্গী লিটন এগিয়ে গিয়ে শুধু অভিন্দন জানিয়েছেন। জহুর আহমেদ চৌধুরীর
ড্রেসিং রুম থেকেও ভেসে আসে শুভেচ্ছা। শুধু হেলমেট খুলে, ব্যাট উঁচিয়ে সেটার জবাব দেন
মুশফিক।
২০০৫ সালের ২৬ মে, ঐতিহাসিক লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের
বিপক্ষে তার মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন তখনকার অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। মাত্র
১৭ বছর ৩৫১ দিন বয়সে এই উইকেটকিপার ব্যাটারের অভিষেক হয়েছিল। সেই যে শুরু, এরপর আর
পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মুশফিক ৮১তম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার
রানের মাইফলকে পৌঁছান। তামিম আজকে এই মাইফলক ছুঁতে পারলেও এক জায়গায় এগিয়ে থাকবেন।
মুশফিকের চেয়ে ১৫ টেস্ট কম খেলেছেন বামহাতি ওপেনার।
মুশফিক ৫ হাজারে রানে আগে পৌঁছালেও চার হাজার রানে
সবার আগে পৌঁছেছিলেন তামিম। তার ৫৫ টেস্ট লেগেছিল, মুশফিকের ৬৬ টেস্ট। এক হাজার রানের
মাইলফলক ছুঁতে মুশফিককে খেলতে হয়েছে ২০ টেস্ট। দুই হাজার রানে পৌঁছাতে মুশফিক খেলেছেন
৩৫ টেস্ট। আর ৩ হাজারে পৌঁছাতে টেস্ট খেলেন ১৫টি।
সব মিলিয়ে ৮১ টেস্টে মুশফিক ৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্বও তার। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২০০ রান করেছিলেন। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরেও ২১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্টে এখনও এটা বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। দুই বছর পর ২০২০ সালে মিরপুরেই ২০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সবচেয়ে বেশি তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও তিনি।

